বঙ্গের ডিম–রঙ্গে রক্ষে নেই, দোসর মূল্যবৃদ্ধি!
সুমন ঘোষ, খড়্গপুর
খুশির ‘ডিম্ভাত’ নয়, এখন চলছে আতঙ্কের ‘ডিম–থেরাপি’!
পচা হোক বা টাটকা, এ বঙ্গে চর্চার একটা বড় অংশ জুড়েই এখন ডিম আর ডিম। আর বাজারে পচা ডিমের চাহিদাও নাকি তুঙ্গে! কারণ, দুর্নীতির অভিযোগে কোনও তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হলেই দেখা যাচ্ছে, থানা বা আদালতের চারদিকে ডিম হাতে ভিড় করছে জনতা। লক্ষ্য, ধৃত নেতাকে ডিম ছোঁড়া। ফলে ডিমের বিক্রিও বেড়েছে বেশ। যা নিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও রসিকতা করে বলছেন, ‘ডিমই তো ছুড়ছে, ইট তো ছুড়ছে না। ফলে, ঘায়েল হওয়ার ভয় নেই।’
ডিম নিয়ে আপাত এই রসিকতার মাঝেই হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে ডিমের দাম। যা বিগত তিন বছরের রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। প্রশ্ন উঠছে, এ ভাবে ডিমের দাম বাড়লে মিড–ডে মিলের পাতে ডিম পড়বে তো? হঠাৎ ডিমের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। অনেকের মতে, তৃণমূল নেতাদের দেখলেই ডিম ছোড়ার কারণেই ডিমের বিক্রি বেড়েছে। সেই সুযোগেই বিক্রেতাদের একাংশ ডিমের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের এমন সরস চর্চাকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে রাজি নয় ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশন।
ফেডারশনের তরফে জানানো হয়েছে, এটা ঠিক যে, এখন তৃণমূল নেতাদের দেখলে ডিম ছোড়ার কারণে কিছু বিক্রি বেড়েছে। কিন্তু এ ভাবে যে ডিম নষ্ট হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় নিতান্ত নগন্য। ফলে সেটাকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ বলা যাবে না। ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি মদন মাইতি বলছেন, ‘তীব্র গরমে ডিমের উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। গরমের কারণে কিছু ক্ষেত্রে মুরগির মৃত্যুর খবরও মিলছে। সে কারণেই দাম কিছুটা বেড়েছে। রাজ্যে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার কোটি ডিম লাগে। সেখানে ডিম ছুড়ে আর ক’টা নষ্ট হচ্ছে যে, তার জন্য দাম বাড়বে!’
ফেডারেশনের পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, ২০২৩–এর জুনে গড় ডিমের দাম ছিল ৫ টাকা ৬৫ পয়সা। সর্বোচ্চ একটি ডিমের দাম ছিল ৫ টাকা ৮০ পয়সা। ২০২৪–এর জুনে গড় ডিমের দাম কমে দাঁড়ায় ৫ টাকা ৩১ পয়সা। সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬ টাকা। আর ২০২৫–এর জুনে গড় দাম ছিল ৫ টাকা ৮০ পয়সা। সর্বোচ্চ ৬ টাকা ৪০ পয়সা। চলতি বছরের জুনে শুরু থেকে সেটাই ন্যূনতম ৬ টাকা ১০ পয়সা দিয়ে শুরু হয়েছে। যার গড় করলে দাঁড়ায় ৬ টাকা ৩৪ পয়সা। এ বার আরও একটু ডিমের দাম বাড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরে। শনিবার ৩০টি ডিমের ট্রে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে মেদিনীপুর শহরে। শুক্রবারও যার দাম ছিল ট্রে প্রতি ১৯৫ টাকা। বিক্রেতা শ্রীমন্ত দাস বলছেন, ‘একদিনের ব্যবধানে ২৫ টাকা দাম বাড়ায় অবাক লাগছে। এ তো ডিম প্রতি প্রায় এক টাকা বেড়ে গেল। চারদিকে তৃণমূল নেতাদের দেখলেই যে ডিম–থেরাপি চলছে, তার জেরেই দাম বেড়ে গেল।’
আর এক ডিম বিক্রেতা সবুজ পালের কথায়, ‘দেখুন, বাজারে ডিমের দাম বাড়লে আমরা কী করব? ডিম থেরাপির মরশুমে পচা ডিমও ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। সেখানে ভালো ডিমের দাম বাড়লেও কিছু বলার থাকে না।’ এ দিকে ডিমের মূল্যবৃদ্ধিতে সমস্যা পড়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। বেলদার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী কমলা পাল বলছেন, ‘সরকার ডিম প্রতি সাড়ে ৬ টাকা বরাদ্দ করে। এখন দেখছি ডিমের দাম ৭ টাকা। বুঝতে পারছি না, কী ভাবে বাকি আট আনার ব্যবস্থা করব!’ এ ব্যাপারে বিজেপি নেতা অরূপ দাস বলেন, ‘ক’দিন ধরেই মনে হচ্ছিল, যে ভাবে তৃণমূল নেতাদের ডিম–থেরাপি চলছে তাতে ডিমের দাম না বেড়ে যায়! এখন দেখছি আশঙ্কাটাই সত্যি হয়ে গেল।’