দিল্লিতে পা রাখতেই বিস্ফোরক মন্তব্য সায়নীর
একসময় লম্বা চুল, শাড়ি আর সাধারণ জীবনযাপনের জন্যই পরিচিত ছিলেন অভিনেত্রী তথা যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh) । রাজনৈতিক ময়দানে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা…
একসময় লম্বা চুল, শাড়ি আর সাধারণ জীবনযাপনের জন্যই পরিচিত ছিলেন অভিনেত্রী তথা যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh) । রাজনৈতিক ময়দানে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলে অনেকেই তাঁর সঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনা টানতেন। সাধারণ পোশাক, পায়ে হাওয়াই চপ্পল এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ সব মিলিয়ে সায়নী নিজস্ব একটি রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।
পালা বদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে একাধিক বিষয়ে সরব হতে দেখা গিয়েছিল সায়নী ঘোষকে(Saayoni Ghosh) । কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দলীয় অবস্থানকে সমর্থন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তিনি। এমনকী, গত ২ জুন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্ণা আন্দোলনের একটি ভিডিও নিজের সামাজিক মাধ্যমেও শেয়ার করেছিলেন। সেই সময় পর্যন্ত সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তারপর থেকেই আচমকাই যেন নীরব হয়ে যান যাদবপুরের সাংসদ।
রাজনৈতিক মহলে যখন নানা জল্পনা তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই দিল্লিতে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের কার্যকলাপ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক, পৃথকভাবে এনডিএ-তে যোগদানের আলোচনা এবং সেই সংক্রান্ত স্বাক্ষরের খবরে উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন। সেই তালিকায় সায়নী ঘোষের নামও উঠে আসতেই শুরু হয় জোর চর্চা। প্রশ্ন উঠতে থাকে, তবে কি তিনিও রাজনৈতিক অবস্থান বদল করতে চলেছেন? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ?
এই জল্পনার মধ্যেই কয়েকদিন ধরে কার্যত আড়ালেই ছিলেন সায়নী। প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। সংবাদমাধ্যমের সামনেও আসেননি। ফলে তাঁর অবস্থান নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। অবশেষে রবিবার দিল্লিগামী বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সঙ্গে বিমানবন্দরে দেখা যায় তাঁকে। আর সেখানেই দীর্ঘ নীরবতার পর মুখ খোলেন তিনি।
তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সায়নী বলেন, “এখন বলব না। যখন বলার সময় আসবে বলব। ধীরে-ধীরে সব জানতে পারবেন সময় যখন আসবে।” রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বা সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। বরং সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে স্পষ্ট জানান, “আমি সাংবাদিকদের জবাব দেব না। জবাব দিতে হলে সংসদীয় এলাকার মানুষকে দেব।”