দায়িত্ব নিতে না নিতেই রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদীকে হুমকি বাংলাদেশে! বাড়ল নিরাপত্তা
ঢাকা: দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই হুমকি রাষ্ট্রদূতকে (Dinesh Trivedi)। ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে খোলাখুলি হুমকি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা মাওলানা মামুনুল হক। তিনি…
ঢাকা: দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই হুমকি রাষ্ট্রদূতকে (Dinesh Trivedi)। ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে খোলাখুলি হুমকি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, একদিন ভারতের মুসলমানরা উঠে দাঁড়াবে এবং দেশটিকে টুকরো টুকরো করে দেবে। এই বক্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
মামুনুল হক হেফাজতে ইসলামের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। সম্প্রতি দীনেশ ত্রিবেদী বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পা রাখার পরই তিনি এই হুমকি দেন। ত্রিবেদী, যিনি একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বাংলা ভাষায় সড়গড়। তাঁর নিয়োগকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু মামুনুল হকের এই উস্কানিমূলক বক্তব্য সেই আশাকে কালো মেঘে ঢেকে দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/kolkata/big-action-by-arjun-to-dismantle-the-corrupt-contractor-nexus/
মামুনুল হকের অতীত ইতিহাস বিতর্কিত। তিনি হিন্দু মন্দিরে হামলা, সাম্প্রদায়িক উস্কানি এবং হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে একাধিকবার আলোচিত হয়েছেন। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অনেকে তাঁকে চরমপন্থী ইসলামি বক্তা হিসেবে চেনেন।
তাঁর বক্তৃতায় প্রায়ই ভারত-বিরোধী এবং হিন্দু-বিরোধী সুর থাকে বলে সমালোচকরা অভিযোগ করেন।এই হুমকির পর ভারতীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিদেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দীনেশ ত্রিবেদী নিজে এখনও এ বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশের সরকারের কাছে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে পারে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মামুনুল হকের এই ধরনের বক্তব্য শুধু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পানি বণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনসহ নানা বিষয়ে সহযোগিতা চলছে। এমন সময়ে এই ধরনের হুমকি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পিছিয়ে দিতে পারে।