লোটে মাছের গন্ধ পেয়েই অচেনা বাড়িতে হানা রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের, তারপর যা করলেন বিধায়ক... | Roopa Ganguly Relishes Lote Mach at a Commoner's Home in Sonarpur - 24 Ghanta Bangla News
Home

লোটে মাছের গন্ধ পেয়েই অচেনা বাড়িতে হানা রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের, তারপর যা করলেন বিধায়ক… | Roopa Ganguly Relishes Lote Mach at a Commoner’s Home in Sonarpur

Spread the love

গ্ল্যামার দুনিয়ার রুপোলি পর্দা হোক কিংবা রাজনীতির মাঠ—রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বরাবরই নিজের স্পষ্টবক্তা ও দাপুটে ইমেজের জন্য পরিচিত। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর, জোড়াফুল সরিয়ে মসনদে বসেছে পদ্ম শিবির। আর এই নতুন হাওয়ায় জয়ের ধারা বজায় রেখে বিধানসভায় পা রেখেছেন রূপা। তবে এবার সম্পূর্ণ এক ভিন্ন কারণে খবরের শিরোনামে এলেন সোনারপুর দক্ষিণের এই নয়া তারকা বিধায়ক। দলীয় কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় পরিদর্শনে বেরিয়ে এক অদ্ভুত অথচ মন ছুঁয়ে যাওয়া কাণ্ড করে বসলেন তিনি। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক সাধারণ নিম্নবিত্ত বাড়ির রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা লোটে মাছের গন্ধে আটকে গেল তাঁর পা। সমস্ত বিধায়কসুলভ প্রোটোকল আর আভিজাত্য দূরে সরিয়ে রেখে, সটান সেই বাড়িতে ঢুকে স্বাদ নিলেন সেই লটে মাছের।

ব্য়াপারটা ঠিক কী ঘটেছে?

ভোটের আগে বিরোধী শিবির রাজ্যজুড়ে লাগাতার প্রচার চালিয়েছিল যে, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি বাঙালিদের মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং বাঙালি সংস্কৃতির ওপর থাবা বসাবে অবাঙালি রীতিনীতি। তবে সরকার গঠনের পর ছবিটা দেখা গিয়েছে সম্পূর্ণ উল্টো। বিধানসভার প্রথম দিনের অধিবেশনেই বিধায়কদের পাতে পরিবেশন করা হয়েছিল খাঁটি বাঙালি মাছ-ভাত। এবার সেই বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি টান এবং মাছ-প্রেমের এক জীবন্ত উদাহরণ তৈরি করলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায় স্বয়ং।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একটি এলাকায় স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরছিলেন রূপা। আচমকাই একটি গলি দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর নাকে আসে লোটে মাছ রান্নার চেনা সুগন্ধ। থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে সঙ্গে থাকা কর্মীদের কাছে বিধায়ক জানতে চান গন্ধটি ঠিক কোন বাড়ি থেকে আসছে। কর্মীরা বাড়িটি দেখিয়ে দিতেই আর দ্বিধা করেননি তিনি। সোজা এগিয়ে গিয়ে জানলা দিয়ে উঁকি মেরে গৃহকর্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন লোটে মাছ রান্নার কথা। ওপার থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলতেই রূপা একগাল হেসে আবদার করে বসেন, ‘গন্ধটা দারুণ বেরোচ্ছিল, তাই লোভ সামলাতে পারলাম না। আমাকে একটু খাওয়াবেন?’

ভিডিয়ো সৌজন্যে রাকেশ রঞ্জন ত্রিপাঠীর ফেসবুক-

খোদ বিধায়কের মুখে এমন সহজ-সরল আবদার শুনে মুহূর্তের জন্য চমকে গেলেও, সানন্দেই তাঁকে ঘরের ভেতরে ডেকে নেন ওই গৃহবধূ। এক চিলতে ঘরে চেয়ার পেতে বসে পড়েন রূপা। কোনও রকম আড়ম্বর ছাড়াই হাত ধুয়ে স্টিলের প্লেট আর চামচ হাতে তুলে নেন তিনি। এরপর গরম ভাতের সঙ্গে তৃপ্তি করে খান লোটে মাছের ঝাল। খাওয়া শেষে ওই পরিবারকে ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান বিধায়ক। রাজনীতিকদের চেনা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও দূরত্ব বজায় রাখা অভ্যাসের বাইরে গিয়ে, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই মাটির কাছাকাছি সাধারণ রূপটি এখন নেটপাড়া থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *