ফেসবুক-ইনস্টায় হাজার বন্ধু, তাও একাকিত্ব! ‘প্যাসিভ স্ক্রলিং’-এর জেরে হারিয়ে যাচ্ছে না তো আসল বন্ধুত্ব?
ফেসবুকে হাজার হাজার ফ্রেন্ড। ইনস্টাগ্রামে ছবির নীচে লাইকের বন্যা। আর হোয়াটসঅ্যাপে সারাদিন চ্যাটিং। এগুলো দেখলেই মনে হয়, বন্ধুর বুঝি কোনও অভাব নেই। কিন্তু হাত বাড়িয়ে দেখুন তো, মন খারাপের রাতে ক’জনকে পাশে পান? আসলে, স্ক্রিনের ওই চকচকে দুনিয়া আমাদের শুধু যোগাযোগের সুযোগ দেয়, গভীর বন্ধুত্বের নয়। CNN-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন এই সত্যিটাই আমাদের সামনে এনেছে। সম্পর্কের গভীরতা আসলে লাইক বা কমেন্টে মাপা যায় না। প্যাসিভ স্ক্রোলিংয়ের জেরে হারিয়ে যাচ্ছে আসল বন্ধুত্ব।
‘প্যাসিভ স্ক্রলিং’ কী?

ভাবুন তো, শেষ কবে কোনও বন্ধুর সঙ্গে মোবাইল ছাড়া এক ঘণ্টা মন খুলে গল্প করেছেন? মনে পড়ছে কি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া হলো এক ধরনের ‘পুষ্টিহীন’ খাবারের মতো। পেট ভরে, কিন্তু শরীর পুষ্টি লাভ করে না। আমরা সারাদিন বন্ধুদের প্রোফাইল দেখি, তারা কোথায় খাচ্ছে, কোথায় ঘুরছে সব জানি। একে বলে ‘প্যাসিভ স্ক্রলিং’। এই অভ্যাসের কারণে আমরা ভাবি, বন্ধুদের সঙ্গে তো যোগাযোগ আছেই! ফলে আলাদা করে কথা বলা বা দেখা করার তাগিদ কমে যায়। এ ভাবেই সম্পর্কগুলো আস্তে আস্তে ভিতর থেকে ফাঁপা হয়ে পড়ে।
সম্পর্ক টিকবে কী ভাবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনও সফল সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো গভীর বন্ধুত্ব এবং মুখোমুখি সময় কাটানো। একে বলা হয় ‘শেয়ারড এক্সপেরিয়েন্স’ বা যৌথ অভিজ্ঞতা। শুধু ইমোজি পাঠিয়ে কখনও সহানুভূতি বা ভালোবাসা বোঝানো যায় না। তার চেয়ে বন্ধুকে সরাসরি একটা ফোন করুন। তার গলার আওয়াজ শুনুন। সপ্তাহে অন্তত একটা দিন ক্যাফেতে বা পার্কের বেঞ্চে মুখোমুখি বসুন। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই সম্পর্ককে আজীবন বাঁচিয়ে রাখে।
‘অ্যাক্টিভ রেসপন্স’ প্রয়োজন

যখন আপনি বন্ধুর সঙ্গে থাকবেন, তখন মোবাইলের স্ক্রিনটা উল্টো করে রাখুন। তার কথা মন দিয়ে শুনুন। এই সামান্য অভ্যাসটুকুই আপনাদের বন্ধুত্বকে বহুদূর নিয়ে যাবে। আর একটি বড় বিষয় হলো ‘অ্যাক্টিভ রেসপন্স’। বন্ধু একটা ভালো খবর দিলে শুধু একটা থাম্বস-আপ বা লাইক দিয়ে দেবেন না। তাকে ফোন করে অভিনন্দন জানান, আনন্দটা ভাগ করে নিন। আর বন্ধু বিপদে পড়লে মেসেজ নয়, বরং সরাসরি পাশে গিয়ে দাঁড়ান। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণা বলছে, মানুষের জীবনে শত শত অনলাইন বন্ধুর চেয়ে মাত্র দু’টি বা তিনটি এমন বন্ধু থাকা দরকার, যাঁদের উপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়।
নিজেদের নিয়ম নিজেরাই তৈরি করুন

আমরা কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া পুরোপুরি ছেড়ে দিতে পারব না, আর তার দরকারও নেই। তবে সম্পর্কের কিছু নিয়ম ও বাউন্ডারি আমরা নির্ধারণ করতে পারি। বিশেষজ্ঞরা একে বলেন ‘শেয়ারড মিনিং’ বা যৌথ অর্থ নির্মাণ। অর্থাৎ, আমরা প্রযুক্তির সুবিধা নেব কিন্তু তাকে সম্পর্কের উপর চড়াও হতে দেব না। দূরে থাকা বন্ধুর খোঁজ নেওয়ার জন্য ফেসবুক চমৎকার মাধ্যম। কিন্তু ঘরের কাছের বন্ধুটির সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখতে হলে মুখোমুখি বসে আড্ডা দেওয়ার কোনও বিকল্প নেই।