ফের উত্তেজনা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে! BSF র গুলিতে শেষ বাংলাদেশি গরু পাচারকারী
আগরতলা: ভারত–বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে ফের উত্তেজনা। (BSF)এবার চাঞ্চল্য ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলায়। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। …
আগরতলা: ভারত–বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে ফের উত্তেজনা। (BSF)এবার চাঞ্চল্য ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলায়। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিহত যুবকের নাম মুজিবুর রহমান (২৬)। এই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১২ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায়। ত্রিপুরার কৈলাশহর মহকুমার লাঠিয়াপূড়া সীমান্ত এলাকায় টহলরত ছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের একটি দল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে সন্দেহজনকভাবে কয়েকজন ব্যক্তি চলাচল করছিলেন। অভিযোগ, তাঁরা অবৈধভাবে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।
আরও দেখুনঃ ‘ইন্ডিয়ান স্পেস হ্যাকাথন ২০২৬’ লঞ্চ করল ইসরো, আবেদন করা যাবে ১ জুলাই পর্যন্ত
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, টহলদারি দল ওই ব্যক্তিদের থামতে নির্দেশ দেয়। তবে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই সময় আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মুজিবুর রহমান। বাকি ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা যায়।
নিহত যুবক মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পিতা আজুব আলী। স্থানীয় সূত্রে দাবি, তিনি সীমান্ত এলাকার চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বিএসএফ এবং স্থানীয় পুলিশ। ত্রিপুরার ইরানি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে ভগবাননগর হাসপাতাল সংলগ্ন মর্গে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মৃতদেহ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, ভারতীয় বিএসএফ এবং বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-এর মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। দুই বাহিনীর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সীমান্তে এই ধরনের ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল পরিস্থিতি তৈরি করে, তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, ওই সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাতে ওই অঞ্চলে নজরদারি আরও কড়া করা হয়। বিএসএফের দাবি, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তাদের এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে মানবাধিকার ও সীমান্ত নিরাপত্তা দুই দিক থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একাংশের মতে, অনুপ্রবেশ রুখতে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রাণহানি এড়াতে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।