নন্দকুমার বিধানসভার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার দের গুদাম থেকে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ - 24 Ghanta Bangla News
Home

নন্দকুমার বিধানসভার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার দের গুদাম থেকে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ

Spread the love

পূর্ব মেদিনীপুর: নন্দকুমারে একটি তালাবদ্ধ গুদামঘর থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি (Sukumar De)ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে । গুদামঘরটি প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সুকুমার …

পূর্ব মেদিনীপুর: নন্দকুমারে একটি তালাবদ্ধ গুদামঘর থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি (Sukumar De)ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে । গুদামঘরটি প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সুকুমার দে-র মালিকানাধীন বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনিক তৎপরতায় গুদামের তালা খোলার পর যে পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, তা দেখে এলাকাবাসী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল সকলেই বিস্মিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দকুমারের ব্যবত্তাহাট এলাকায় অবস্থিত ওই গুদামঘরটি দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেখানে অভিযান চালায়। এরপর তালা খুলতেই সামনে আসে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রীর মজুত। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সরকারি ত্রাণ হিসেবে বিতরণের জন্য নির্ধারিত ত্রিপল, বস্ত্র এবং বিভিন্ন জরুরি সাহায্যসামগ্রী। অধিকাংশ সামগ্রীই বস্তাবন্দী অবস্থায় গুদামের ভিতরে সংরক্ষিত ছিল।

আরও দেখুনঃ অনুপ্রবেশ রুখতে অসমে ১৮ বছরের উর্ধে নয়া আধার দেওয়া বন্ধ করলেন হিমন্ত

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে যে ত্রাণসামগ্রী সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা কীভাবে এবং কেন একজন প্রাক্তন বিধায়কের ব্যক্তিগত গুদামে জমা রাখা হয়েছিল? বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে এই ধরনের সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা। সেখানে বছরের পর বছর ধরে সেগুলি গুদামে আটকে থাকার অভিযোগ সামনে আসায় ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বহু সময় এলাকায় ত্রাণের অভাবের অভিযোগ উঠেছিল। অনেক পরিবার দুর্যোগের সময় পর্যাপ্ত সরকারি সাহায্য পাননি বলেও অভিযোগ করেছেন। সেই পরিস্থিতিতে এত বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী একসঙ্গে উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার নেতারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা তথাকথিত ‘সিন্ডিকেট রাজ’ এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের একটি উদাহরণ। বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সামগ্রী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গুদামজাত করে রাখা হয়েছিল এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে দলের একাংশের নেতারা দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানো হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা কী, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে বলে তাঁদের মত।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং সেগুলির উৎস, সংরক্ষণের কারণ ও সম্ভাব্য দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি গুদাম থেকে ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের বিষয় নয়; বরং সরকারি সম্পদের স্বচ্ছ ব্যবহার, ত্রাণ বণ্টনের জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করবে এই ঘটনার প্রকৃত সত্য কতটা প্রকাশ্যে আসে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *