মৃতপ্রায় সম্পর্কেও প্রাণ ফেরাতে পারে ‘সেক্সুয়াল নভেল্টি’, বিষয়টা কী? - 24 Ghanta Bangla News
Home

মৃতপ্রায় সম্পর্কেও প্রাণ ফেরাতে পারে ‘সেক্সুয়াল নভেল্টি’, বিষয়টা কী?

Spread the love

রোজ অফিস যাচ্ছেন। দশটা-ছ’টার ডিউটি করছেন। ভিড় বাসে করে বাড়ি ফিরে খাচ্ছেন-দাচ্ছেন। তার পর ক্লান্ত শরীরে ফোন নিয়ে স্ক্রল করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ছেন। যেন কোনও কিছুই ভালো লাগছে না। এমনকী নিজের পার্টনারের সঙ্গে দু-চার কথা বলতেও যেন ল্যাদ লাগছে। মনে হচ্ছে জীবনটা যেন একঘেয়ে হয়ে গিয়েছে।

ঠিক এরকম ভাবেই দীর্ঘদিন সম্পর্কে থাকলে অনেকেরই একঘেয়ে লাগে। প্রভাব ফেলে সাংসারিক জীবনে। বিশেষ করে কাপলদের ‘সেক্সুয়াল লাইফে’। প্রথম প্রথম পরস্পরের প্রতি যে টান বা উত্তেজনা থাকে, বছরের পর বছর একসঙ্গে থাকার পর তা যেন কোথায় একটা হারিয়ে যায়। আর এখানেই এন্ট্রি নেয় বিজ্ঞানের একটা চমৎকার টার্ম— ‘সেক্সুয়াল নভেল্টি’ (Sexual Novelty)। সহজ কথায়, বিছানায় নতুন কিছু ট্রাই করা বা নতুনত্বের ছোঁয়া আনা। অনেকেই ভাবেন, অনেকটা বছর তো কেটে গেল, এখন আর ওসব কী! কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু গবেষাণ বলছে, এই একঘেয়েমি কাটানো কিন্তু আদৌও কোনও রকেট সায়েন্স নয়! একটু বুদ্ধি খাটালেই পুরোনো সম্পর্কেও আবার সেই হারিয়ে যাওয়া ম্যাজিক ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

কী এই ‘সেক্সুয়াল নভেল্টি’?

relationship happiness
কী এই ‘সেক্সুয়াল নভেল্টি’?

সেক্সুয়াল নভেল্টি মানেই এই নয় যে আপনাকে প্রতিদিন আকাশ থেকে চাঁদ পেড়ে আনতে হবে। এর আসল মানে হলো— চেনা ছকের বাইরে বেরিয়ে দু’জনের শরীরকে নতুন করে আবিষ্কার করা। শুনতে অবাক লাগলেও, এটাই সত্যি, অনেক সময় জীবনের হারিয়ে যাওয়া স্পার্ক ফিরিয়ে আনতে পারে, শারীরিক টান। সেটা হতে পারে নতুন কোনও সেক্স পজ়িশন ট্রাই করা, চেনা বেডরুমের বাইরে অন্য কোথাও সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া, নতুন কোথাও সময় কাটানো, কিংবা নিজেদের ফ্যান্টাসি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা। আসলে আমাদের মস্তিষ্ক যখনই নতুন কিছুর সন্ধান পায়, তখনই ‘ডোপামিন’ নামের হ্যাপি হরমোন রিলিজ় করে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই নতুনত্ব, ক্লান্ত দিনের শেষে রিফ্রেশিং এক কাপ চায়ের মতো কাজ করে।

লজ্জা আর জড়তার দেওয়াল ভাঙুন

relationship happiness
লজ্জা আর জড়তার দেওয়াল ভাঙুন

অনেকেই ভাবেন, পার্টনারকে মনের কথা বলব কী ভাবে? যদি ভুল বোঝেন বা অন্য কিছু ভাবেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভয় আর দ্বিধাই হলো আসল খলনায়ক। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো, আপনারা একে অন্যকে খুব ভালো করে চেনেন। তাই মনে কোনও লুকোচুরি না রেখে, একদম সহজ ভাষায় নিজের ইচ্ছের কথা পার্টনারকে জানান। তবে হ্যাঁ, কথা বলার সময় কোনও জোর খাটানো বা ডিমান্ড করার সুর যেন না থাকে। বরং ‘আমরা কি এটা একটু অন্য ভাবে ট্রাই করে দেখতে পারি?’— এই ভাবে আলোচনা শুরু করুন।

ছোট ছোট পা, বড় বদল

two people drinking cup of tea
ছোট ছোট পা, বড় বদল

এক লাফে তো আর হিমালয় চড়া যায় না! তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ছোট পরিবর্তন দিয়েই শুরু করুন না। যেমন— রোজকার চেনা রুটিন ভেঙে উইকেন্ডে দু’জনে কোথাও ঘুরে এলেন। কিংবা সম্পর্কের শুরুর দিনগুলোর মতো মাঝেমধ্যে একটু ফ্লার্ট করলেন, হোয়াটসঅ্যাপে একটা মেসেজ পাঠালেন। মাঝেমধ্যে সারপ্রাইজ় ডেটের প্ল্যান করতে পারেন। এই ছোট ছোট বিষয়গুলিই কিন্তু পার্টনারের মনে আবার নতুন করে কৌতূহল আর আকর্ষণ তৈরি করার জন্য যথেষ্ট।

ইমোশনাল বন্ড যখন আসল চাবিকাঠি

two people sit down
ইমোশনাল বন্ড যখন আসল চাবিকাঠি

মনে রাখবেন, শুধুমাত্র সেক্সুয়াল লাইফের চেঞ্জই একটা সম্পর্ককে টেনে নিয়ে যেতে পারে না, যদি না মানসিক টান থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে দম্পতিরা একে অন্যের মানসিক চাহিদাকে সম্মান করেন, তাঁদের সেক্সুয়াল লাইফও অনেক বেশি হ্যাপি হয়। বিশেষজ্ঞরা একে বলেন ‘সেক্সুয়াল সেলফ-এফিকেসি’। অর্থাৎ, পার্টনারের সামনে নিজের চাহিদা বা ভালোলাগা নিয়ে কথা বলতে পারার আত্মবিশ্বাস। বিছানার বাইরেও যখন আপনারা খুব ভালো বন্ধু, তখন নতুন কিছু ট্রাই করার সময় কোনও অস্বস্তি বা ভয় কাজ করে না। সেটাই বছরের পর বছর সুস্থ সম্পর্কের চাবিকাঠি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *