নেগেটিভিটি কাটানোর ওষুধ যেন মেসি-এমবাপেরাই - 24 Ghanta Bangla News
Home

নেগেটিভিটি কাটানোর ওষুধ যেন মেসি-এমবাপেরাই

Spread the love

কুণাল বসু

মাস দুয়েক আগে থেকে ভোটের জন্য লাগানো বিভিন্ন পার্টির পতাকাগুলো কোথাও ছিঁড়ে গিয়েছে, কোথাও ম্লান। সেই পাড়াগুলোতেই এখন পতপত করে উড়ছে হলুদ-সবুজ বা আকাশি-সাদা পতাকাগুলো। সেই কোন যুগ থেকে এগুলোই আমাদের শহরে, রাজ্যে বিশ্বকাপের নিশান।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে বারোটার অপেক্ষায় গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী। মেক্সিকো সিটিতে কিক-অফ হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের। ঠিক ওই সময়েই যেন পিছনের সারিতে চলে যাবে আমেরিকান ভিসা পাওয়ার সমস্যা, টিকিটের আকাশচুম্বী দর নিয়ে কচকচির মতো যাবতীয় নেগেটিভিটি। তার বোধনটা যেন হয়ে গেল বুধবার ভোরেই, লিওনেল মেসির গোলে।

আর্জেন্তিনা এ দিন ৩-০ হারাল আইসল্যান্ডকে। বিশ্বকাপের আগে শেষ ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে আর্জেন্তিনার তিন গোলের একটি মেসির পেনাল্টি থেকে। দিন তিনেক আগে হন্দুরাসকেও ২-০ হারিয়ে ছিল আর্জেন্তিনা। দু’ম্যাচে কোনও গোল হজম না করে বিশ্বকাপে খেলতে নামার আত্মবিশ্বাস সঙ্গী হলো কোচ লিওনেল স্কালোনির টিমের।

অন্য দিকে, ব্রাজ়িলও সম্প্রতি দুটি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ খেলেছে। একটিতে পানামাকে গুনেগুনে হাফ ডজন গোল দিয়েছিল কার্লো আন্সেলোত্তির টিম। অন্যটিতে পানামার তুলনায় বেশ শক্তিশালী মিশরকে ২-১ হারিয়েছে ব্রাজ়িল। পুরোনো দিনের গ্যালারি মাতানো সাম্বার ছোঁয়া না থাকলেও কোচ কার্লো আন্সেলোত্তির হাত ধরে নতুন স্বপ্ন দেখার ইঙ্গিত। দুই ম্যাচে আট ভিন্ন ফুটবলারের গোল অবশ্যই তৃপ্তি দেবে আন্সেলোত্তিকে। চিরাচরিত ফেভারিট দুই দলের এই পারফরম্যান্সই যেন টেম্পো বাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের।

সোমালিয়ান রেফারিকে আমেরিকা থেকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া, ইরানের সমর্থকদের টিকিট বাতিল করা, আইভরি কোস্ট, সেনেগালের মতো আফ্রিকান দেশের সমর্থকদের ভিসা বাতিল হওয়ার যে ঘটনাগুলো এতদিন নিউজ়প্রিন্টের অধিকাংশ দখল করে রাখছিল, এ বার সেগুলো পিছনের সারিতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তার কারণ, ম্যাজিকগুলো ধীরে ধীরে ঘটতে শুরু করেছে বিশ্বকাপের দেশে।

আগের ম্যাচে না খেলালেও এ দিন ৭০ মিনিটে মেসিকে নামান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার এক মিনিটের মধ্যে ডিফেন্ডারদের পায়ের জঙ্গলকে উপেক্ষা করে মেসির সিগনেচার থ্রু বলটা যখন লাউতারো মার্তিনেসের কাছে পৌঁছল, তখনই পরিষ্কার, আকাশি-সাদার ভরসা হয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহ ঠিক থেকে যাবেন এলএম টেন। মেসির থ্রু ধরার সময়ে লাউতারোকে ফাউল করেন আইসল্যান্ডের কিপার। সেই পেনাল্টি থেকেই গোল মেসির। তাঁর কেরিয়ারের ৯১১তম। দেশের জার্সিতে ১১৭ নম্বর। এই ম্যাচ ছিল তাঁর জাতীয় টিমের হয়ে ১৯৯তম। অর্থাৎ, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজিরিয়ার বিরুদ্ধে দেশের জার্সিতে ডাবল সেঞ্চুরি ম্যাচ মেসির।

বিভিন্ন দেশের মিডিয়ায় অবশ্য এখনও সমালোচনা চলছে আমেরিকার। প্রশ্ন উঠছে, তারা আদৌ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের যোগ্য কি না। তার মধ্যেই কানসাস সিটির দখল নিয়ে ফেলেছে নেদারল্যান্ডসের কমলা জার্সির সমর্থকেরা। আমেরিকান মিডিয়ায় বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় দেড় লাখ আর্জেন্তিনীয় সমর্থক দেশে ঢুকবেন মায়ামি এয়ারপোর্ট হয়ে। স্কটল্যান্ডের সমর্থকেরা একটি স্কুল বাস ভাড়া করে ফেলেছেন এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়ার জন্য। জাপান-কোরিয়ার সমর্থকেরাও আসতে শুরু করেছেন। বিয়ে বাড়ির ব্যস্ততা এখন মেক্সিকো-ক্যানাডা-ইউএসএ জুড়ে। প্রস্তুত নিরাপত্তারক্ষীরাও।

চোট পাওয়া তারকাদের নিয়ে আশঙ্কার মেঘ আছে যদিও। নেইমার এখনও মাঠে নামেননি। লামিনে ইয়ামাল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আদৌ খেলবেন কি না, ঘোর সংশয় তা নিয়ে। কিলিয়ান এমবাপে নিয়মিত খেললেও চোট সারিয়ে ফিরেছেন বেশি দিন হয়নি। খোদ মেসিই তো পেশির ক্লান্তি দূর করে সবে মাঠে নামলেন মিনিট কুড়ির জন্য। তবু তাঁদের নিয়ে আশায় অগণিত ভক্ত। সঙ্গে মাইকেল ওলিজ়ে-হ্যারি কেনরা তো আছেনই।

এ সবের মধ্যে ইতিহাসে পা মেক্সিকো সিটির। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের পরে তৃতীয়বার বিশ্বকাপ হবে সেখানে। যা আগে কোনও শহর দেখেনি। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে ঘুম নেই শহরের রায়ট পুলিশের। শিক্ষকদের বিক্ষোভে উত্তাল। বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি। টহল দিচ্ছে পুলিশবাহিনী। বলা হচ্ছে, আজ রাতে উদ্বোধনী ম্যাচের দুই টিম- মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে অভাবনীয় নিরাপত্তায় আনা হবে আজ়তেকা স্টেডিয়ামে। স্পনসর জটিলতায় যে স্টেডিয়ামকে বিশ্বকাপের সময়ে বলা হবে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম। যে স্টেডিয়ামে একবার কাপ তুলেছেন পেলে, আর একবার দিয়েগো মারাদোনা। এবার অবশ্য ফাইনাল হাইজ্যাক করে নিয়েছে আমেরিকা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ঠিক হবে আগামী চার বছর বিশ্বকাপের দখলদার কে থাকবে।

তার আগে আগামী ৪০ দিন ঘুম আর অফিসের লেট মার্কের সঙ্গে ঠিক লড়াই করে নেবে বাঙালি। মেসি-রোনাল্দো-এমবাপে-ইয়ামালে গমগম করবে পাড়ার ক্লাবঘর থেকে কলেজের ক্যান্টিন। পাড়ায় পাড়ায় আরও রঙিন হয়ে উঠবে আর্জেন্তিনা, ব্রাজ়িল বা স্পেনের পতাকাগুলো।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *