কারও প্রাসাদে ঝাড়বাতি, কারও চলমান সিঁড়ি, পেনশন ভাঙিয়ে একটা ‘শান্তিনিকেতন’ গড়তে পারবে বাঙালি? - 24 Ghanta Bangla News
Home

কারও প্রাসাদে ঝাড়বাতি, কারও চলমান সিঁড়ি, পেনশন ভাঙিয়ে একটা ‘শান্তিনিকেতন’ গড়তে পারবে বাঙালি?

Spread the love

রোগী দেখতে গিয়েছেন ‘ডাক্তার’ উত্তমকুমার—বাঙালির ‘ম্যাটিনি আইডল’। ডাক্তার অগ্নীশ্বর মুখোপাধ্যায়ের পরনে কালো কোট-প্যান্ট। গলায় স্টেথো। চোখে চশমা। ফ্রেমটা নাকের উপরে নেমে এসেছে। তাঁর সামনে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে রয়েছেন সরকারি ইঞ্জিনিয়ার। নমস্কার পর্ব সেরে আঙুল উঁচিয়ে গর্বের সঙ্গে বলে উঠলেন, ‘ওই যে সামনের বাড়িটা দেখছেন, ওটা আমার।’ অগ্নীশ্বর একটু অবাকই হলেন। বড় দোতলা বাড়ি। বাঁ হাতের মধ্যমা দিয়ে চশমাটা তুলে নিয়ে বললেন, ‘বাহ, অনেক টাকা খরচ করে বাড়িটা করেছেন তো।’

ইঞ্জিনিয়ারের মুখ থেকে যেন তৃপ্তি চুঁইয়ে পড়ছে। বাঁ দিকের ভ্রুটা সামান্য তুলে বললেন, ‘আন্দাজ করুন তো, কত?’ যেন ডাক্তারবাবুর দৌড়টা বুঝে নিতে চাইছেন তিনি। অগ্নীশ্বর নীচু গলায় চোখের কোণ দিয়ে একবার মেপে নিলেন, ‘কত হবে? লাখ-দেড় লাখ?’ ইঞ্জিনিয়ার মশাই চোখটা সরু করে নিলেন, ‘ঠিকই ধরেছেন। এক লাখ চল্লিশ হাজার।’ টাকার অঙ্ক শুনে এ বার ব্রহ্মাস্ত্রটি ছাড়লেন অগ্নীশ্বর, ‘আপনি তো করিতকর্মা লোক মশাই! এগজ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হয়ে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকার বাড়ি হাঁকিয়েছেন? অনেক ঘুষ-টুষ খান তাহলে, হ্যাঁ?’ ইঞ্জিনিয়ারের তো চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার দশা। অগ্নীশ্বরের, থুড়ি উত্তমকুমারের, অবশ্য হেলদোল নেই। দুর্নীতির মুখের উপরে সপাটে চাবুক চালাতে পারতেন তিনি। ২০২৬-এ রাজ্যে পালাবদলের পরে রাজকীয় বাড়ি গড়ে তোলা তৃণমূল নেতাদের দেখলে কী বলতেন ডাক্তারবাবু?

চারটে চৌকো মধ্যবিত্ত বাঙালির স্বপ্নের মাপ দীর্ঘকাল ধরে ছিল ওই ‘দশ ফুট বাই দশ ফুট’। ছোট্ট, ছিমছাম একটা বাড়ি। উঠোনে তুলসীমঞ্চ, একফালি বারান্দা, সামনে কয়েকটা ফুলগাছ। ব্যস, ‘নীড় ছোট ক্ষতি নেই, আকাশ তো বড়’। আজন্মকাল এই স্বপ্নই তো বুকের মধ্যে লালন করে এসেছে সে। সকালে বাদুড়ঝোলা হয়ে ট্রেনে-বাসে-মেট্রোয় অফিস। বসের ধ্যাঁতানি, সহকর্মীর কাঠি। দাঁতে দাঁত চেপে সব সহ্য করতে হয় নিত্যদিন। সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীর টেনে নিয়ে ফেরে ভাড়া বাড়িতে। নোনা ধরা দেওয়ালে হাত বুলিয়ে ভাবে, একদিন ঠিক নিজের বাড়ি হবে। ‘যে নদী বয় অন্ধকারে, তারই বুকের কাছে…/ ওই যে বাড়ি, ওই তো আমার বাড়ি।’

তিল তিল করে পয়সা জমায় নিতান্ত মধ্যবিত্ত বাঙালি। ব্যাঙ্কে, ডাকঘরে। এলআইসি কেনে, পেনশনের হিসেব কষে। কত হলো, আর কত লাগবে। তার পরে কেউ বাড়ি বানায়। কারও পুরো টাকা চলে যায় রোগেভোগে, ছেলেমেয়ের কলেজের ফি-তে। দশকের পর দশক ধরে ‘নিজের বাড়ি’কে কেন্দ্র করে এ ভাবেই পাটিগণিত আর সাধের দ্বন্দ্বে আবতির্ত হয়েছে রোজগেরে বাঙালির জীবন। তবে গ্লোবালাইজ়েশন-পরবর্তী জমানায় ব্যাঙ্ক লোন, ইএমআই-এর সৌজন্যে অবশ্য সারাজীবনের সঞ্চয়কে আঁকড়ে ধরে বাজি ধরতে হয়নি বাঙালিকে। ফ্ল্যাট, হাউজ়িং কমপ্লেস, গেটেড কমিউনিটি, ডুপ্লে—নিতান্ত ছাপোষা থেকে ‘আর্বান’ হয়ে ওঠা বাঙালি ধীরে ধীরে ‘এক্সপিরিয়েন্স’ করেছে এ সবই। আলগোছে জীবন কাটানো রীতি ছিল যে বাঙালির, সে এখন ‘অ্যাফ্লুয়েন্স’ এবং ‘শো অফ’-এ আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু তা বলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পৈলান-আমগাছিয়ায় বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের মতো বাড়ি! টেলিভিশনের ব্রেকিং নিউজ় অথবা স্মার্টফোনের টাইমলাইনে ফিরে ফিরে আসা ক্লিপিংস দেখে চোখ ঠিকরে উঠেছে বাঙালির। সুইমিং পুল, কৃত্রিম গুহা, লনে বিদেশি গাড়ি, ম্যাকাও পাখি। উঠতে বসতে যেন সেলাম ঠোকে। শুধু দিলীপ মণ্ডলই নন, ৪ মে-র পরে আচমকা পুলিশি হানার সৌজন্যে এই ক’বছরে চোখের সামনে কত তৃণমূল নেতা কী ভাবে ‘অট্টালিকা’ বানিয়ে ফেলেছেন, তা এক এক করে দেখছে বাঙালি। রয়েসয়ে। তারিয়ে তারিয়ে উপভোগও করছে। আর বিস্মিত হচ্ছে। তালিকায় রয়েছেন একদা তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসও।

চার কি পাঁচ বছর বড়জোড়। একটা ছেলে বা মেয়ে জন্মের পরে হাঁটি হাঁটি পা পা করে সবে স্কুলে ভর্তি হয়। কিষাণ বিকাশ পত্রে টাকা ডবল হতে দশ বছর লাগে। অথচ তৃণমূলের বড়, মেজ, সেজ, ছোটর স্বপ্নের মাপ যেন শুরুই হয়েছে হাজার স্ক্যোয়ার ফুটের পর থেকে। একবার পঞ্চায়েত প্রধান হতে পারলেই কেল্লা ফতে। আঙুল ফুলে বট, অশ্বত্থ। কারও বাড়িতে ইটালিয়ান মার্বেল, কারও চলমান সিঁড়ি। কারও বাড়ির ঝাড়বাতির দামেই হয়তো একটা গোটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ফ্ল্যাটের ডাউন পেমেন্ট হয়ে যাবে।

সে সব বাড়ি তো নয়, যেন বড় বাড়াবাড়ি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাসাদ নিয়ে কত গল্প, কত মিথ। যেন হরিশ মুখার্জি রোডের বুকে এক রূপকথা, ‘শান্তিনিকেতন’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি চিঠিতে রানি চন্দকে লিখেছিলেন, ‘মাটির কুঁড়ে ঘরই আমার ভালো। আর দু’দিন পরে তো মাটিতেই মিশব। সম্বন্ধটা এখন থেকে ঘনিষ্ঠ করে রাখি।’ মাটির হাঁড়ি সাজিয়ে দেওয়াল আর চুনবালির পলেস্তরা দিয়ে তৈরি হলো ‘শ্যামলী’। ছাদটাও মাটির। ‘মা, মাটি, মানুষ’-এর দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক অবশ্য মাটির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখেননি বলে অভিযোগ খোদ তাঁর দলেরই আর এক নেতার। তৃণমূলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায় এই সময় অনলাইনকে সম্প্রতি বলেছেন, ‘লিডার যদি সব সময় মাথা উচুঁ করে চলেন, কর্মীদের কথা না শোনেন, সব সময় কর্মীরা জয়ধ্বনি দেবেন ভাবেন, তা হলে যে ধরনের রেজ়াল্ট হওয়ার কথা, সেটাই হয়েছে।’ শোনা যায়, চার তলা বিল্ডিংয়ের ভিতরে নাকি জমিদার বিশ্বম্ভর রায়ের বাড়ির মতো পেল্লায় ঝাড়বাতি রয়েছে। চলমান সিঁড়ি, জিম, বিলাস-ব্যসনের সব আয়োজনই নাকি মজুত। সবই অবশ্য অভিযোগ। ভিতরে ঢুকে আজ পর্যন্ত দেখার সৌভাগ্য কারও হয়নি।

অভিষেকের বাড়িতে পুরসভা নোটিস পাঠিয়েছে। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ। রাজনৈতিক আকচাআকচি। শুধু অভিষেক নন, কালীঘাটে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারেরই নাকি ৩৫টি প্লট আর ৩৯টি বাড়ি রয়েছে, সিপিএমের গৌতম দেব প্রথম অভিযোগ করেছিলেন। তার পরে ফুলে-ফলে বাতাস ভারী হয়েছে। অভিযোগ খণ্ডন করতে এগিয়ে আসেননি কেউই। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য টালির চালের বাড়িতেই থাকেন। তবে ভিতরটা নাকি ‘টালির চালোচিত’ নয় মোটেই, এও অভিযোগ। পুজো-পার্বনে ইতিউতি ছবি সামনে আসে। আর মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবন খাতার প্রতি পাতায় হিসেব করে চলে, কিছুই মেলে না।

বাড়ি নাকি বাড়াবাড়ি?

  • ১. দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল

পৈলানে কার্যত রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি

দেখতে প্রায় বিলাসবহুল রিসর্টের মতো

বাড়ির মধ্যে বিশাল লন, সুইমিং পুল, ফোয়ারা, পার্ক

  • ২. হাওড়ার শিবপুরের তৃণমূল নেতা শামিম আহমেদ

ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় গ্রেপ্তার

ফ্ল্যাটের মধ্যে লুকোনো দরজা বা ট্র্যাপডোরের হদিস

গোপন সিঁড়ি, দামী আসবাব-ইন্টেরিয়র, চোখ ধাঁধানো সোফা-বিছানা

  • ৩. শাহাবুদ্দিন খান ও গিয়াসউদ্দিন

সম্পর্কে দুই ভাই, ২ জনেই হুগলির গোঘাট ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল নেতা

শ্যামবাজার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তিনতলা প্রাসাদের মতো বাড়ি

আরামবাগ শহরেও বাড়ি

মাটির বাড়ি থেকে কয়েক বছরে রাজপ্রাসাদের মতো দালানে উত্থান

বাংলার রাজনীতির সঙ্গে ‘বাড়ির’ একটা ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে। বরাবর। সেটা নকশালবাড়ি হোক কিংবা সাঁইবাড়ি। ইট, কাঠ, পাথরের না-ই বা হলো, বাড়ি তো। কিন্তু ধীরে ধীরে কখন যেন সব বদলে গেল।

আজও এলগিন রোডে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাড়ি দেখতে যায় বাঙালি। গৌরমোহন মুখার্জি স্ট্রিটে বিবেকান্দের বাড়ি। ইতিহাস থমকে রয়েছে। নেতাজির সেই মহানিষ্ক্রমণের গাড়ি, বিবেকানন্দের বইয়ের র‌্যাক। বাঙালি সেলফি তোলে। ইদানীং এই তালিকায় যোগ হয়েছে শান্তিনিকেতনের ‘অপা’। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি। যেন বিশ্বভারতীর সঙ্গে এক টুকরো গভীর বন্ধুত্ব। সত্য সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ।

পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের প্রদীপ করের আবার তিন বিঘা জমির উপরে প্রাসাদ। দেখলে শাহরুখ খানের ‘মন্নত’-ও বুঝি লজ্জা পাবে। বিশাল প্রবেশদ্বার। বাড়ি, উঠোন পুরোটাই মার্বেল দিয়ে বাঁধানো। হাওড়ার তৃণমূল নেতা শামিম আহমেদ এক সময়ে মলের কর্মী ছিলেন। তাঁর গোটা বাড়িটাই আবার আন্ডারগ্রাউন্ডে। এক ঝলকে দেখলে মনে হবে ফাইভ স্টার হোটেল বুঝি। কোন জাদুকাঠির ছোঁয়ায় যে ‘পয়সা হি পয়সা’ হলো, তা সবাই জানে। জলপাইগুড়ির কৃষ্ণ দাসের বাড়ি দেখলে রিসর্ট বলে ভুল হতে বাধ্য। ১০ লক্ষ টাকা শুধু বিদ্যুতের বিল বকেয়া ছিল। সেই নিয়ে কত চর্চা। ভোটের অনেক আগে আড়িয়াদহ, কামারহাটি ও বরানগর এলাকার তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ‘বাহুবলী নেতা’ জয়ন্ত সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল পুকুর বুজিয়ে বহুতল নির্মাণের। আদালতের নির্দেশ ছিল বাড়ি ভাঙার, কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা হয়নি বলেই খবর। জয়ন্তের নামে দুধের ব্যবসা চলে, কিন্তু আড়ালে গুন্ডাগিরি ও তোলাবাজি এবং বেআইনি কাজকর্মের অভিযোগ।

বাড়ি নাকি বাড়াবাড়ি?

  • ৪. ডেবরার তৃণমূল ব্লক সভাপতি প্রদীপ কর

১৫ বছরে ৬৪টি জমির মালিক তৃণমূল ব্লক সভাপতি

মায়ের নামে আরও ১০টি সম্পত্তি

পাকুই গ্রামে বিপুল আকারের বাগানবাড়ি

৩ বিঘা জমিতে তিন তলা বাড়ি, সঙ্গে পুকুর ও বাগান।

  • ৫. বীরভূমের তৃণমূল নেতা রবি মুর্মু

জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য এবং জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ্য পদে ছিলেন অভিযোগ, আদতে ইলামবাজার ব্লকের বাসিন্দার শান্তিনিকেতনের সীমান্তপল্লিতে আধুনিক পরিকাঠামো থাকা রিসর্টের মতো বাড়ি

বোলপুর ও ইলামবাজারে একাধিক বাড়ি ও জমি

এ ছাড়াও, বেনামে সম্পত্তি থাকার অভিযোগ

  • ৬. শ্রীরামপুরের কাউন্সিলর উত্তম রায়

এঁর নামে অন্তত ৫টি বড় আকারের বাড়ি থাকার অভিযোগ

মোট চার বারের কাউন্সিলার

অভিযোগ, দার্জিলিং ও দিঘায় একাধিক হোটেল

স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্তত ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে

TMC Asset imaginative

মধ্যবিত্তের বুকের খাঁচায় অবশ্য এত দম নেই। সে দেশভাগ সয়েছে। স্টেশনে, ফুটপাথে রাত কাটিয়েছে। বছরের পর বছর তার ডিএ জোটে না। চাকরি পেয়েও হারানোর কষ্ট যে কী মর্মান্তিক, সে জানে। বেকার ছেলেমেয়ের হাতে পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডের চেয়ে বেশি জমে ওঠে হতাশা। অর্থনীতির পাঠ্যপুস্তকে একে বলা হয়েছে ‘সম্পদের অসম বন্টন।’ আর আম বাঙালি তার বুকের জিরজিরে পাঁজরে সর্বশক্তিতে বাতাস ভরে কোনও রকমে চিৎকার করে, ‘তোমরা এত টাকা কোথায় পেলে গো?’

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ হেন প্রশ্নই উঠে আসছে একের পর এক। যেমন, ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা মোদাসসের হোসেন, যার বাড়ির নাম ‘লাভ হাউস’। বাড়ির গায়ে অসংখ্য লাভ সাইনের ডিজ়াইন। সেই থেকেই এমন নাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়-২ ব্লকের ভোগালি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং উপপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন মোদাসসের। টানা ১৫ বছর ধরে পঞ্চায়েতের ক্ষমতায়। আবার ধরা যাক হলদিয়ার মানস দাসের কথা। আদতে স্কুল শিক্ষক মানস হলদিয়া ব্লকের সভাপতি ছিলেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদেরও চেয়ারম্যান ছিলেন যে মানস, তাঁর সাতমহলা বহুতল। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। উত্তর ২৪ পরগনা খড়দার তৃণমূল নেতা প্রসেনজিৎ সাহার বাড়ির নাম ‘গ্যালাক্সি হাউস’। আদতে রিসর্ট-সদৃশ বহুতলের অন্দরসজ্জা হোটেলের মতো। আয়ের উৎসের খোঁজ নেই, কিন্তু এমন বাড়ি রয়েছে নিজের নামে।

TMC Asset imaginative Image
এই সময়

এ দিকে, সম্প্রতি স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে নিউ আলিপুরের সাহাপুর কলোনির ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়েছ পুলিশ। এই ফ্ল্যাটে স্বরূপ ও তাঁর দাদা অরূপ বিশ্বাস ২ জনেই যেতেন বলে অভিযোগ। সেই ফ্ল্যাটে গোপন চেম্বার রয়েছে বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। একটি ঘরের ভিতরে লুকোনো ছিল ওই ঘর। তার দরজায় আবার ডিজিটাল লক বসানো ছিল বলেও অভিযোগ সামনে এসেছে। বাড়ি নিয়ে এ হেন বাড়াবাড়ি দেখে আম-বাঙালি আজ হতভম্ব!

বাঙালি আজও বিশ্বাস করে, পরিশ্রমের একটা নৈতিক মূল্য রয়েছে। সময়ে ইএমআই দিতে পারাটাই সুখ। সন্তানের লেখাপড়ার খরচ, আবদার মেটাতে পারার মধ্যেই তৃপ্তি। সংগ্রামই জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু রাজনীতির অলিন্দে এমন ঐশ্বর্য দেখে তার বিশ্বাস কেঁপে ওঠে। কিন্তু ‘তবু আগুন, বেণীমাধব, আগুন জ্বলে কই?’

বাঙালি জানে, দুর্নীতির প্রাসাদ মানে ক্ষমতার আস্ফালন। ইডি, সিবিআইয়ের ভয়ে ভয়ে কেটে যাবে ‘অর্ধেক জীবন’। শান্তি সততার কুঁড়েঘরেই মেলে। তাই বোধহয় আজও কোটি টাকার ঝাড়বাতির পাশে অটল বিশ্বাসে দাঁড়িয়ে থাকেন পেনশন ভেঙে ছাদ ঢালাই করা বৃদ্ধ দম্পতি। ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’র বারান্দায় পা ছড়িয়ে মুখোমুখি বসেন তাঁরা। হাতে চায়ের কাপ। সূর্য অস্ত যাচ্ছে পশ্চিম আকাশে। উঠোনে নাতি খেলছে। ছেলে অফিস থেকে বাজার করে ফিরবে। শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়ে আসবে। এটা তার বাড়ি। ‘এই ঘর, ওই শান্ত উঠোন…/দেয়ালে লাল হলুদ রঙের কাড়াকাড়ি…/ ওই যে বাড়ি, ওই যে আমার বাড়ি।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *