US Israel Surveillance Row: আমেরিকা-ইজরায়েল মধুচন্দ্রিমা অতীত! ট্রাম্পের ফোনে আড়ি পাতছে মোসাদ? | In Depth: US Israel Rift Deepens? Reports of Israeli Surveillance on Trump Administration Spark Concern - 24 Ghanta Bangla News
Home

US Israel Surveillance Row: আমেরিকা-ইজরায়েল মধুচন্দ্রিমা অতীত! ট্রাম্পের ফোনে আড়ি পাতছে মোসাদ? | In Depth: US Israel Rift Deepens? Reports of Israeli Surveillance on Trump Administration Spark Concern

Spread the love

কী চলছে দুই ‘বন্ধু’ দেশের মধ্যে?Image Credit: TV9 Bangla

কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর ফের মরণপণ যুদ্ধ শুরু হয়েছে ইরান ও ইজরায়েলের। দুপক্ষই হার মানতে নারাজ। অনেকে মনে করেন, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উস্কানিতেই ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু যুদ্ধের ১০০ দিনের মাথায় ট্রাম্প কি আর নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করতে পারছেন না? শীর্ষ মার্কিন গণমাধ্যমের দাবি, পেন্টাগনের আধিকারিকদের ফোনে আড়ি পাতছে ইজরায়েল। মার্কিন গোয়েন্দা আধিকারিকরা টেলিফোনে কী কী কথা বলছেন, গোপনে সেই সব কথোপকথন শুনছে ও রেকর্ড করছে ইজরায়েল। ল্যাপটপে প্লান্ট করা হয়েছে ম্যালওয়ার। শুধু আশঙ্কা প্রকাশ নয়, পেন্টাগনের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা DIA এই বিষয়ে সতর্ক করল মার্কিন সেনা আধিকারিকদের। থ্রেট লেভেল এখন মিডিয়াম নয়, বরং ক্রিটিকাল।

ইজরায়েলে কর্মরত বা সফররত মার্কিন আধিকারিকদের কী কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?

  • কোনওভাবেই স্মার্টফোন ব্যবহার করা যাবে না
  • ব্যবহার করতে হবে বার্নার ফোন
  • সাময়িক ব্যবহারের পর নষ্ট করে দিতে হবে ফোন
  • মার্কিন ডেটাবেস-লিঙ্কড কোনও ল্যাপটপ ব্যবহার নয়
  • হোটেলের ঘরে কোনও কূটনৈতিক আলোচনা নয়
  • খুব জরুরি না হলে সিকিওর লাইন ছাড়া ফোনে কথা নয়

ট্রাম্পের আশঙ্কার আরও একটা কারণ ইজরায়েলি সংস্থা NSO গ্ৰুপের সবচেয়ে শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক পেগাসাস সফটওয়্যার। মিলিটারি গ্রেড প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা যে কোনও মোবাইল ফোনে একটিমাত্র টেক্স মেসেজ পাঠিয়ে হ্যাক করতে পারে।

কাদের উপর চলছে এই নজরদারি?

শীর্ষ মার্কিন গণমাধ্যমের দাবি, ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ স্টিভ উইটকফের ফোনে ও গতিবিধির উপর নজরদারি চালাচ্ছে ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা। উইটকফ-ই যুদ্ধ চলাকালীন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করছেন। এছাড়াও পেন্টাগনের শীর্ষ কর্তা এলব্রিজ কোলবি ও কোলবি-র ডেপুটি মাইকেল ডিমিনো-র ফোনেও নাকি আড়ি পাতছে ইজরায়েল। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আশঙ্কা কিন্তু একেবারে অমূলক নয়। আসলে ইরান বা লেবাননে সংঘর্ষবিরতিতে একেবারেই রাজি ছিলেন না ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি একটানা বোমাবর্ষণ চালিয়ে ইরানকে ধ্বংস করার পক্ষে। কিন্তু ট্রাম্প আবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দোহাই দিয়ে শান্তি চুক্তির জন্য ইরানকে সময় দিচ্ছেন। সেটাই নেতানিয়াহুর নাপসন্দ।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে দুজনেই একে ওপরের বিরুদ্ধে মৌখিক বোমাবর্ষণ চালায়। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপ ফাঁস হয় মিডিয়ায়। পরে ট্রাম্প নিজে একটি পডকাস্টে স্বীকার করে নেন, লেবাননে নেতানিয়াহুর আগ্রাসন দেখে তাঁকে পাগল, বিকারগ্রস্ত মনে হচ্ছিল। সেই থেকেই অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হতে শুরু করে। আর এখন তো প্রকাশ্যেই আমেরিকা ও ইজরায়েলের বনিবনা হচ্ছে না। ইরানে নতুন করে ইজরায়েলি বোমাবর্ষণে আমেরিকার সম্মতি নেই, এমনটাও খবর মার্কিন গণমাধ্যমে।

ইজরায়েল অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কিন্তু ট্রাম্পের আশংকার কারণ ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ইতিহাস। অতীতে মোসাদের বিরুদ্ধে চরবৃত্তির বহু অভিযোগ রয়েছে।

অপারেশন ফলআউট-

  • ১৯৮৫-তে ১৮ মাস ধরে মার্কিন নথি ইজরায়েলে পাচার
  • ১০ লক্ষ পাতার বেশি মার্কিন স্টেট্ সিক্রেট নথি পাচার
  • কিন্তু শেষরক্ষা হয় না, ধরা পড়ে যায় জোনাথন পোলার্ড
  • ৩০ বছর জেল খাটতে হয় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে

ইনস্ল সাইবার হামলা-

  • ১৯৮৬-তে US ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসে সাইবার হামলা
  • ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল ট্রোজান হর্স ইন্সটলের অভিযোগ
  • বিচারব্যবস্থা সংক্রান্ত নথি, সফটওয়্যার চুরির অভিযোগ

অপারেশন মেগা-

  • ১৯৯০-তে FBI-এর ঘরে আড়ি পাতার অভিযোগ
  • মার্কিন কূটনীতিবিদদের ফোন, চলাফেরায় নজরদারি
  • আড়ি পাতা হয় প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সিউকিওর লাইনেও

ক্লিনটন, ওবামা-র মতো মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপরে নজরদারি, আড়ি পেতে তাঁদের ফোনালাপ শোনার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে। এবারই প্রথম নয়, এর আগে ২০১৫-তেও ইরানের সঙ্গে আমেরিকার পারমাণবিক চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনায় ইজরায়েলি চরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবারই সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তেল অভিভ। কিন্তু এবার মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও সিক্রেট সার্ভিস ইজরায়েল-কে হালকাভাবে নিতে নারাজ। পেন্টাগনের কড়া নির্দেশ, তেহরান সংক্রান্ত কোনও আলোচনা প্রকাশ্যে যেন না করেন মার্কিন আধিকারিকরা। কথা বলার সময় যেন অতিরিক্ত সতর্কতা মেনে চলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *