‘একটাই অপরাধবোধ, দিদির খারাপ সময়ে তাঁর সঙ্গে নেই’, বললেন ‘বিদ্রোহী’ শতাব্দী
কিন্তু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে শতাব্দীর অনুযোগ (কিছু ক্ষেত্রে তা ক্ষোভ-অভিমানও বটে), তিনি একটা সময়ের পরে জনপ্রতিনিধিদের কথা শোনাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বিদ্রোহী সাংসদ বলেন, ‘দিদি অনেক দিন ধরেই কথা শোনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার সময়ে শেষ দিনেও দিদিকে হোয়াটসঅ্যাপ করেছিলাম। বীরভূমে কোথায় কী ভুল হচ্ছে প্রার্থীচয়নে, জানিয়েছিলাম। তখনও এক লাইনে উত্তর এসেছিল। কোনও এক ব্যক্তির নাম করে বলছেন, ওর বদমায়েশি। মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আমার নেই। কিন্তু একটা এলাকায় ১৭ বছর ধরে রয়েছি। এলাকার কোন লোকটা ভালো, কে খারাপ-দুর্নীতিবাজ, এটা বোঝার তো ক্ষমতা ছিল। কিন্তু উনি শোনেননি।’
এ প্রসঙ্গে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের প্রসঙ্গও টানেন শতাব্দী। তাঁর বক্তব্য, অভিষেক তাঁর কথা শুনেছেন। তাঁর থেকে নানা সময়ে মতামতও নিয়েছেন। শতাব্দীর কথায়, ‘অভিষেক কিন্তু শুনত। অন্যের কথা বলতে পারব না। আমার ক্ষেত্রে শুনেছে। অনেকেরই মতামত জানতে চাইত। এই গুণটা ছিল। স্টেপও নিয়েছে।’
সংসদে বিদ্রোহীরা মিলে যে নতুন ‘ব্লক’ তৈরি করেছেন, তা আদতে তাঁদের প্রতীকী প্রতিবাদ বলেই জানিয়েছেন শতাব্দী। তিনি বলেন, ‘আমরা এই দলের সঙ্গে থাকতে চাইছি না। যে ভাবে দলের অহঙ্কার-ঔদ্ধত্য বেড়ে গিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। যত দিন মুকুল রায় ছিলেন, তত দিন উনি শুনতেন। দলে বলার জায়গায় ছিল। সব সমাধান হতো না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উনি শুনতেন। উনি চলে যাওয়ার পর থেকে আর শোনার কেউ ছিলেন না। দলে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। অভিষেকপন্থী আর মমতাপন্থী। কর্মীর আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন।’ তবে শতাব্দীর বক্তব্য, তাঁদের এই মুহূর্তে বিজেপিতে যোগদানের কোনও পরিকল্পনা নেই। তাঁর কথায়, ‘আমরা আলাদা ব্লক। আলাদা বসব। আলাদা আলোচনা করব।’