Mango side effects: প্রতিদিন ক’টা আম খাওয়া উচিত? না জানলেই বিপদ! | Eating Too Many Mangoes? Know the Surprising Side Effects and Right Quantity
গরমকালে চড়া রোদ আর ঘামের অস্বস্তির মধ্যেও মানুষের মুখে চওড়া হাসি ফোটাতে পারে কেবল একটি জিনিস, তা হল রসালো পাকা আম (Mango)। সকালের দুধ-মুড়ি কিংবা রুটি হোক, কিংবা দুপুরের শেষ পাত, ফলের রাজার ছোঁয়া না থাকলে ঠিক জমে না। কিন্তু স্বাদের টানে দিনে তিনটে-চারটে আম সাবাড় করার অভ্যাস থাকলে এখনই সাবধান হওয়া প্রয়োজন। কারণ, জিভের আরাম দিতে গিয়ে শরীরের বড়সড় ক্ষতি ডেকে আনা কোনও বুদ্ধির কাজ নয়। জানেন বেশি আম খেলে শরীরে কী কী ঘটে?
পুষ্টিগুণের বিচারে আমের জুড়ি মেলা ভার। এতে থাকা ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে সাহায্য করে। ড্রাই আইজের সমস্যা কমাতেও এর ভূমিকা রয়েছে। ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রেখে হার্টের খেয়াল রাখে। এমনকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফল দারুণ কার্যকর। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন পরিমাণের ওপর কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। চিকিৎসকদের মতে, ভালো জিনিসও অতিরিক্ত খেলে তা কখনও কখনও শরীরের জন্য বিষ হয়ে উঠতে পারে।
কখন আম বিষাক্ত হয়ে ওঠে?
অতিরিক্ত আম খাওয়ার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা আসে রক্তের শর্করার মাত্রায়। পাকা আমে সুগারের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি থাকে। ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য অনিয়ন্ত্রিত আম খাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। রক্তে আচমকা শর্করার মাত্রা বেড়ে গিয়ে বড় বিপদ ঘটার আশঙ্কা থাকে। এখানেই শেষ নয়, বেশি আম খেলে হজমের গোলমাল দেখা যায়। অনেকে ভাবেন আমে প্রচুর ফাইবার আছে, কিন্তু সব জাতের আমে পর্যাপ্ত ফাইবার থাকে না। উল্টে অধিকাংশ ফাইবার আঁটি আর খোসার সঙ্গে বেরিয়ে যায়। ফলে পেটের গোলমাল ও আমাশার সমস্যা দেখা দেয়।
আমের মরসুমে ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে থাকেন অনেকেই। সেই ভয় কিন্তু অমূলক নয়। অতিরিক্ত শর্করা শরীরে গিয়ে হুহু করে ক্যালোরি বাড়ায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ওজনে। ডায়েট করার পরিকল্পনা থাকলে তাই আম খাওয়ার পরিমাপে রাশ টানতেই হবে। এর সঙ্গে গরমে অতিরিক্ত আম খেলে শরীরে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়, যার ফলে ত্বকে ব্রণ বা আলসারের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
আজকাল বাজারের বেশির ভাগ আম রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়। তাই আম কিনে এনেই সরাসরি খাওয়া চরম কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের রোগ ডেকে আনতে পারে। খাওয়ার অন্তত ঘণ্টা দুয়েক আগে আম জলে ভিজিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক। পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ থাকতে দিনে মাত্র দুই টুকরো আম খাওয়াই যথেষ্ট। আমের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থাকলেও শরীরের স্বার্থে এই নিয়ম মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।