Child Care Advice: গরমকালে ডিম খাওয়ালে কি বাচ্চার পেট গরম হয়? জানুন চিকিৎসকের পরামর্শ | Pediatrician Explains Why Kids Need One Egg Daily & Busts Summer Myths
ডিম (Egg) নিয়ে বাঙালির ঘরে ঘরে মিথের শেষ নেই। বিশেষ করে গরমকাল এলেই মা-বাবা বেশ চিন্তায় পড়েন। তীব্র গরমে খুদেকে রোজ ডিম খাওয়ালে পেট গরম হয়ে যাবে না তো? এই চিরন্তন সংশয় ও অন্ধবিশ্বাস এক ঝটকায় উড়িয়ে দিয়েছেন বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অর্পণ সাহা (Dr. Arpan Saha)। আধুনিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদিনের ডায়েটে একটা করে ডিম রাখলে বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ দারুণভাবে ত্বরান্বিত হয়। কত বছর বয়স থেকে ডিম দিতে পারবেন আপনার শিশুকে?
শিশুদের ঠিক কবে থেকে এবং কীভাবে ডিম দেওয়া উচিত, তা অত্যন্ত সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসক অর্পণ সাহা। তাঁর কথায় “ছ মাসের পর থেকেই বাচ্চাদেরকে গোটা ডিম দেওয়া যায়। ডিমের সাদা অংশ দেবেন, ডিমের হলুদ অংশও দেবেন।”
অনেকের ধারণা, শিশুদের কেবল ডিমের কুসুম দেওয়া নিরাপদ। তবে এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। ডিমের প্রতিটি অংশের আলাদা পুষ্টিগুণ রয়েছে। সাদা অংশে থাকে হাই কোয়ালিটি প্রোটিন। এটি বাচ্চার সামগ্রিক বৃদ্ধি এবং পেশি মজবুত করতে অত্যন্ত সাহায্য করে। ডিমের কুসুম বা হলুদ অংশের কার্যকারিতা নিয়ে চিকিৎসক অর্পণ সাহা আরও যোগ করেছেন: “হলুদ অংশে প্রোটিনের পাশাপাশি কোলিন আর হেলদি ফ্যাট থাকে, যেটা বাচ্চার ব্রেন ডেভেলপমেন্টে সাহায্য করে।”
শিশুর বুদ্ধির বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায় ডিম। চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, ডিমের মধ্যে থাকা ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি এবং আয়রন বাচ্চার ইমিউনিটি ও শরীরে রক্তের পরিমাণ-দুটোই বাড়িয়ে দেয়। তাই সারাদিনে একটা গোটা ডিম শিশুদের দেওয়া যেতেই পারে।
এবার আসা যাক সবচেয়ে বড় বিতর্কে, গরমকালে ডিম খেলে কি সত্যিই বাচ্চার পেট গরম হয়? এই বহুল প্রচলিত ধারণাকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন চিকিৎসক অর্পণ সাহা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ডিম খেলে কিন্তু পেট গরম হয় না। তাই অবশ্যই বাচ্চাদের গরমে ডিম দেবেন।” চিকিৎসকের এই আশ্বাস থেকে পরিষ্কার যে, তীব্র গ্রীষ্মেও শিশুদের প্রতিদিনের খাবার থেকে ডিম বাদ দেওয়ার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ডিম খাওয়ার সঙ্গে পেট গরম হওয়ার কোনও সম্পর্কই নেই। তবে ডিমটি যেন ভালোভাবে সেদ্ধ বা সঠিকভাবে রান্না করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। সঠিক নিয়মে ডিম খাওয়ালে গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা, সব ঋতুতেই আদরের সন্তান থাকবে একদম সুস্থ, সতেজ ও চনমনে।