অর্কেস্ট্রার আড়ালে যে ভাবে চলছে নারী নিগ্রহের ফাঁদ| Ei Samay
দিল্লির মিশন মুক্তি ফাউন্ডেশন নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে জানতে পেরেছিলাম, এমন অনেক নাবালিকাকে উদ্ধার করে হোমে পাঠানো হয়। কিন্তু তাদের মায়েদের জোর করা যায় না। কেউ কেউ অর্কেস্ট্রা গ্রুপেই থেকে যান। কারণ, সমাজ মেনে না নিলে কী করবেন তাঁরা। তাঁদের শিখিয়ে পড়িয়ে কাজ দেওয়ার কথা বললেও অনেকেই আসতে চান না। রেসকিউ অ্যান্ড রিলিফ ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি সিদ্ধান্ত ঘোষ জানান, প্রায়ই তাঁদের কাছে এমন খবর আসে। আর তাঁরা নাবালিকাদের উদ্ধারে পুলিশের সাহায্য নেন। মিশন মুক্তি ফাউন্ডেশন ও রেসকিউ অ্যান্ড রিলিফ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে প্রত্যেক বছর ৪০০ থেকে ৫০০ নাবালিকা উদ্ধার হয় শুধু অর্কেস্ট্রা গ্রুপ থেকেই। অর্কেস্ট্রা গ্রুপের আড়ালে চলে পাচারও। ২০২৫ থেকে ২০২৬-এর এ পর্যন্ত শুধু অর্কেস্ট্রা গ্রুপ থেকেই প্রায় ৪৫৬ জন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একবার নাবালিকার নাচের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল। সেই ভিডিয়ো এক যুবক পোস্ট করে বিহার পুলিশ ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রীকে ট্যাগ করেন। ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করার অনুরোধ জানান যুবক। এরপরেই খবর পৌঁছয় ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন চাইল্ডের কাছে। উদ্ধার করা হয় নাবালিকাকে। তার সঙ্গে উদ্ধার করা হয় আরও ১২ জন তরুণী ও কিশোরীকে। সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিল তিন জন। জানা গিয়েছে, মা নাচলে অর্কেস্ট্রা গ্রুপে পেতেন ১০০০ টাকা। আর মেয়ের নাচে মিলত ৫০০০ টাকা।
বেশি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আনা হয় তরুণী-কিশোরীদের। এরপরেই তাঁদের বাধ্য করা হয় অর্কেস্ট্রা গ্রুপে নাচতে। কেউ নাচতে না চাইলে কপালে জোটে বেধড়ক মার। সিগারেটের ছ্যাঁকা। এমনই উদ্ধার হওয়া এক তরুণী জানিয়েছিল, দিদিকে বিশ্বাস করে তিনি টাকা রোজগারের জন্য এসেছিলেন। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তাঁকে এ সব কাজ করতে হবে। দিদি ফিরতে না চাইলেও ওই তরুণী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে ফিরে আসেন। বিহারের শিবান, গোপালগঞ্জ এবং ছাপড়ায় এই ধরনের অর্কেস্ট্রা গ্রুপ বেশ সক্রিয়। এখানে নিয়ে আসার পরে তরুণীদের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। তাঁদের বাড়ির কারও সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয় না। জোরে কথা বললে, কাঁদলে, এমনকী কাশলেও চলে চাবুকের মার।