Domestic Violence Rule: বেকারত্বের দোহাই দিয়ে এড়ানো যাবে না দায়িত্ব, খোরপোষ মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিল্লি আদালতের! | Husband Cannot Cite Unemployment To Evade Family Duty, Rules Delhi Court In Maintenance Case
কী জানাল দিল্লী হাইকোর্ট?Image Credit: Getty Images
দিল্লি : কেবলমাত্র বেকার বা কর্মহীন হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে কোনও ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি আইনি বা সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারেন না। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে তাঁর নাবালক ছেলের ভরণপোষণের জন্য প্রতি মাসে ৬০০০ টাকা করে খোরপোষের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
অতিরিক্ত দায়রা বিচারক শীতল চৌধুরী প্রধান এক মহিলার দায়ের করা আপিল আবেদনের শুনানির সময় এই রায় দেন। এর আগে নিম্ন আদালত (ট্রায়াল কোর্ট) প্রটেকশন অফ উইমেন ফ্রম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্টের অধীনে ওই মহিলাকে আর্থিক সাহায্য দিতে অস্বীকার করেছিল। নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।
গত ২ জুনের মামলায় আদালত তাঁর নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়েছে,“নিজের খরচ কীভাবে সামলাবেন তা সম্পূর্ণভাবে স্বামীর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু শুধু তিনি বেকার বা তাঁর অন্য কোনও দায়িত্ব আছে – এই অজুহাত দেখিয়ে তিনি তাঁর আইনত স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি দায়িত্বহীন হয়ে মুক্তি পেতে পারেন না।” আদালত নিজে পর্যবেক্ষণ করেছে, ওই মহিলার স্বামী সম্পূর্ণ শারীরিকভাবে সক্ষম ও তাঁর খোরপোষ দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে। সেই কারণে নাবালক ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে সেই ছেলের জন্য ৬০০০ টাকা সাহায্য করবেন স্বামী, জানিয়েছে কোর্ট।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ওই দম্পতির বিয়ে হয়। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এমনকি গর্ভাবস্থায় তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সাল থেকে তিনি ও তাঁর ছেলে আলাদা বসবাস করছেন। মাঝে ২০১৫ সালে দম্পতি একসঙ্গে থাকলেও তাঁদের সেই মিলন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালে নিম্ন আদালত ওই মহিলার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, মহিলা তাঁর ওপর হওয়া গার্হস্থ্য হিংসার প্রমাণ দিতে পারেননি। তবে উচ্চ আদালতে শুনানি চলাকালীন স্বামী দাবি করেছিলেন, যেহেতু তাঁর স্ত্রী উচ্চশিক্ষিত, তাই স্বামী কোনও আর্থিক সহায়তা করবেন না। এই বিষয়ে আদালতের মন্তব্য ছিল,“উপার্জনের যোগ্যতা থাকা ও উপার্জন করা – দুই আলাদা।” এমনকি নিম্ন আদালতে বারবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও স্বামী তাঁর নিজের আয়ের হলফনামা দিতে পারেননি। তবে দিল্লি আদালতের এই নির্দেশ যে এককথায় দৃষ্টান্তমূলক, তা বলাই যায়।