শওকত-ঘনিষ্ঠরা পুলিশের নজরে, জারি নাকা চেকিং
এই সময়, ভাঙড়: বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা। যদিও তাঁর শাগরেদরা এখনও এলাকায় বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের কাছে মজুত করা বোমা, বন্দুক বাইরে কোথাও পাচার করে দেওয়া হতে পারে এমন আশঙ্কায় শনিবার রাতে ভাঙড়ের বিভিন্ন থানা এলাকায় নাকা তল্লাশি চালায় পোলেরহাট থানার পুলিশ। হাতিশালা, গাবতলায় রাতভর নাকা তল্লাশি চলে। আইএসএফের দাবি, শওকত ঘনিষ্ঠ ভগবানপুর, বামনঘাটা ও প্রাণগঞ্জের তিন তৃণমূল নেতা মজুত করা অস্ত্র, বোমা, বোমার মশলা অন্যত্র সরিয়ে দিতে পারেন। তাঁরা সেই আশঙ্কার কথা পুলিশকে জানালে তল্লাশি চলে। আগামী কয়েকদিন তল্লাশি চলবে বলে খবর পুলিশ সূত্রে।
ভগবানপুরের আইএসএফ নেতা মহম্মদ আব্বাসউদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘ভোটে অশান্তি করার জন্য প্রচুর বোমা, বন্দুক মজুত করেছিল তৃণমূল নেতা ও তাঁদের আশ্রিত দাগি দুষ্কৃতীরা। খবর পাচ্ছি, সেগুলো বাইরে পাচার করে দেওয়া হতে পারে কিংবা বস্তায় ভরে খালের জলে বা মাছের ভেড়িতে ফেলে দেওয়া হতে পারে। তাই পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে সে সব উদ্ধার করার জন্য।’
রবিবার সকালেই ভগবানপুর অঞ্চলের পাকাপোল বাজারে এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা শওকতের ঘনিষ্ঠ খইরুল ইসলামের নামে পোস্টার দেয় আইএসএফ। ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ খইরুলকে ‘মাটি মাফিয়া’, ‘তোলাবাজ’ বলে আক্রমণ করা হয়। নিউ টাউন লাগোয়া ভগবানপুরে মাটির ডাম্পার চালানো, রিয়েল এস্টেট কোম্পানি, সিমেন্ট মিক্সিং প্লান্ট থেকে খইরুল প্রতিমাসে কয়েক লক্ষ টাকা তোলাবাজি করেন বলে অভিযোগ আইএসএফ-এর।
আইএসএফ নেতা আবুল খয়ের মোল্লা বলেন, ‘শওকত মোল্লার ডানহাত খইরুল ইসলাম। আমরা চাই ওকে পুলিশ গ্রেপ্তার করুক।’ খইরুল বলেন, ‘সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। আরাবুল ইসলাম চক্রান্ত করে এ সব করাচ্ছে আমাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য। আমি মানহানির মামলা করব।’ পাল্টা আরাবুল বলেন, ‘খইরুল কী জিনিস সেটা ভাঙড়ের লোক জানে। শওকতের নির্দেশে ও এলাকা থেকে ব্যবসায়ীদের চমকে লক্ষ, লক্ষ টাকা তোলা তুলেছে, এলাকায় গুলি-বোমার রাজনীতি করেছে।’
অন্যদিকে, ১৪ দিনের এনআইএ হেফাজতে আছেন ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। নিউ টাউনে এনআইএ-র কলকাতা হেড কোয়ার্টারে রাখা হয়েছে তাঁকে। অ্যাকশন এরিয়া ৩-এর এনবিসিসি বিল্ডিংয়ের ১৬ তলায় দফায় দফায় শওকতকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এনআইএর আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, গ্রেপ্তারের পর ভেঙে পড়েছেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ শওকত। কার্যত অনিদ্রা, অনাহারে দিন কাটছে তাঁর। শনিবার রাতে একটা রুটি ও সামান্য সব্জি খেয়েছেন তিনি। শওকতের গ্রেপ্তারির পর ভেঙে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী সায়রাবানু, বড় মেয়ে শাবানা ও ছেলে ইমরান। শনিবার আদালতে বাড়ির লোকের সঙ্গে দেখা হয় শওকতের।