সন্তান সারা দিন মোবাইলে মুখ গুঁজে বসে থাকে? এতেই বাড়ছে টেক্সট নেক সিনড্রোম, বিষয়টা কী? - 24 Ghanta Bangla News
Home

সন্তান সারা দিন মোবাইলে মুখ গুঁজে বসে থাকে? এতেই বাড়ছে টেক্সট নেক সিনড্রোম, বিষয়টা কী?

Spread the love

গরমের ছুটি মানেই পড়াশোনার চাপ থেকে মুক্তি আর কিছুটা স্বস্তির সময়। তবে এই ছুটির দিনগুলিতেই শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্ক্রিনের সামনে কাটানোর সময় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়। মোবাইলে গেম খেলা, ওয়েব সিরিজ বা টিভি শো দেখা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কিংবা অনলাইন ক্লাস— সব মিলিয়ে দিনের অনেকটা সময় তারা ফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়েই কাটায়। দেখতে নিরীহ মনে হলেও এই অভ্যাসই কিন্তু শিশুদের মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বিকাশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কী ভাবে?

টেক্সট নেক সিনড্রোম কী?

অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে বর্তমানে যে সমস্যাটি দ্রুত বাড়ছে, পোশাকি ভাষায় তাকে বলে ‘টেক্সট নেক সিনড্রোম’। টেক্সট নেক বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায়, যখন কেউ দীর্ঘ সময় মাথা নীচু করে মোবাইল বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের দিকে তাকিয়ে থাকে। সাধারণ অবস্থায় মানুষের মাথার ওজন প্রায় ১০ থেকে ১২ পাউন্ড হলেও মাথা যত বেশি সামনের দিকে ঝুঁকে যায়, ঘাড়ের উপর চাপও তত বাড়তে থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, স্মার্টফোন দেখার জন্য মাথা নীচু করলে ঘাড়ের উপর প্রায় ৬০ পাউন্ড পর্যন্ত অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।

কী সমস্যা হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর-কিশোরীরা এই সমস্যার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে অনেক কম বয়সী ছেলে-মেয়ে ঘাড়ে ব্যথা, কাঁধ ঝুঁকে যাওয়া, ভুল ভঙ্গি এবং মেরুদণ্ডের প্রাথমিক পরিবর্তনের মতো সমস্যার কারণে চিকিৎসকের কাছে আসছে। যেহেতু তাদের শরীর এখনও বৃদ্ধি ও বিকাশের পর্যায়ে রয়েছে, তাই দীর্ঘ সময় কুঁজো হয়ে বসে স্ক্রিন ব্যবহার করলে পেশির ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে, ঘাড় ও পিঠে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং মেরুদণ্ডের গঠনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

ভুল ভঙ্গি শুধু মেরুদণ্ডকেই প্রভাবিত করে না, এটি শ্বাস-প্রশ্বাস, মনোযোগ, ঘুমের মান এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কী ভাবে প্রতিরোধ করবেন?

কিছু সহজ অভ্যাস এই সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। মোবাইল বা স্ক্রিন সবসময় চোখের সমতলে রাখার চেষ্টা করা উচিত। প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অন্তর উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং করাও জরুরি। পাশাপাশি সাঁতার, সাইকেল চালানো, হাঁটা বা আউটডোর খেলাধুলার মতো শারীরিক কার্যকলাপে অংশ নেওয়া পেশিকে শক্তিশালী করে এবং সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রাখতে সাহায্য করে। ঘাড়ে ব্যথা, কাঁধে শক্ত ভাব, মাথাব্যথা বা ভঙ্গির পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়াও প্রয়োজন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *