ম্যাচের উত্তেজনা কমাতে সেন্সরি রুমের ব্যসস্থা ফিফার
এই সময়: ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম টকিং পয়েন্ট হতে চলেছে সেন্সরি রুম। লক্ষ্য, খেলা দেখতে আসা দর্শকদের মানসিক উত্তেজনা দমন। অনেক সময়ে ফুটবল দেখতে দেখতে দর্শকেরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তা কখনও মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এমনকি উত্তেজিত দর্শকের হৃদরোগের সম্ভাবনাও থাকে। ২০২৪ সালে আফ্রিকা কাপ অফ নেশন্সে এক দর্শকের মৃত্যু হয়েছিল।
এই সব সমস্যা দূর করতেই বিশ্বকাপের প্রতি স্টেডিয়ামে ফিফা তৈরি রাখছে সেন্সরি রুম। বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতেই তৈরি হচ্ছে এই রুম। দেখা গিয়েছে, অনেক দর্শকের মধ্যেই উত্তেজনার ফলে অ্যাড্রিনালিন–স্পাইক হয়। উত্তেজক ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পছন্দের দল হেরে গেলে আবেগ সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে বইতে শুরু করে হঠাৎ করে। এই ঘটনাকে বলা হয় সেন্সরি ওভারলোড। যখন আমাদের ব্রেনে যত ইমোশনের আনাগোনা হয়, ততটা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা থাকে না।
এই সেন্সরি রুমে থাকবে এমন কিছু উপকরণ, যা উত্তেজনা প্রশমনে সাহায্য করবে। বলা হচ্ছে, চারপাশের শোরগোলের মধ্যে এই ঘর নিয়ে আসবে শান্তি। কী কী থাকবে এই ঘরে? আলো থাকবে কমানো, দর্শকদের চিৎকার ঢুকবে কম, সিট হবে আরামদায়ক, টিভিতে চলবে এমন কিছু যা মনকে শান্ত করে। এমনকি যে সব ফ্যানেদের দরকার, তাঁরা স্টেডিয়ামে ঢোকার সময়ে পেয়ে যাবেন সেন্সরি ব্যাগ। এই ব্যাগে থাকবে শব্দরোধী হেডফোন, ফিজেট টুলস, ভিজ়ুয়াল কিউ কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে কথা না বলেও সামনের লোকের কাছে নিজের ভাব প্রকাশ করা যাবে।
ম্যাচের উত্তেজনার মতো ফিফার মাথাব্যথার অন্যতম কারণ তাপমাত্রা। এই অবস্থাতেও জলের বোতল ব্যান করে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিল ফিফা। শনিবার ইউ টার্ন নিয়ে সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য হলো ফিফা। জানিয়ে দিল, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জলের বোতল নিয়ে ঢোকা যাবে। তবে সেই বোতল হতে হবে কোম্পানি থেকে সিল করা। বোতল হতে হবে ২০ আউন্সের বা ৫৯০ মিলিলিটারের। আর প্লাস্টিকটি হবে সফ্ট। বাচ্চারা যে রকম বোতল স্কুলে নিয়ে যায়, তা অবশ্য নিষিদ্ধই।
এ দিনই আবার বিভিন্ন আবহাওয়া দপ্তর থেকে নতুন করে হুঁশিয়ারি জারি হয়েছে বিশ্বকাপের সময়ে হিট ওয়েভের। নতুন সতর্কতায় বলা হয়েছে মেক্সিকোর মন্তেরে এবং টেক্সাসের হিউস্টন ও আর্লিংটনের তাপমাত্রা পৌঁছে যেতে পারে ৪৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে আর্লিংটন ও হিউস্টনের স্টেডিয়াম এয়ারকন্ডিশন্ড হওয়ায় দর্শক ও ফুটবলারদের উপরে তাপমাত্রার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। মন্তেরের স্টেডিয়াম খোলা। তাই সেখানে ফুটবলার ও দর্শকদের স্বাস্থ্য নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।