সুরুচি সঙ্ঘের ভিতরে বিলাসবহুল বেডরুম! বিক্ষোভ–ভাঙচুরও
এই সময়: রাজনৈতিক পালাবদলের পরে এ বার জনরোষের নিশানায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। এর আগে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ভিতরে গোপন বিলাসবহুল বেডরুমের হদিশ মিলেছিল, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। এবার সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল অরূপ-স্বরূপের খাসতালুক বলে পরিচিত সুরুচি সঙ্ঘে। বৃহস্পতিবার রাতে স্বরূপ গ্রেপ্তার হতেই শুক্রবার জনরোষ আছড়ে পড়ে নিউ আলিপুরের ওই ক্লাবে। যে ক্লাবের হোতা হিসেবে ধরা হয় বিশ্বাস ব্রাদার্সকে।
গত প্রায় দুই দশক ধরে সুরুচির পুজোকে কলকাতার অন্যতম সেরা হিসেবে ধরা হয়। শুক্রবার সকালে সেই ক্লাবে ভাঙচুর চালায় উন্মত্ত জনতা। তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই চোখ কপালে ওঠে সকলের। দেখা যায়, ক্লাবের উপরের তলায় রয়েছে আস্ত একটি কিং সাইজ বেড, বিলাসবহুল শৌচালয়, এসি ও দামি ফ্যান। এর পাশাপাশি, মজুত ছিল প্রচুর সরকারি ‘প্রাণধারা’ জলের বোতল ও ত্রাণের শাড়ি।
এ দিন দুপুরে স্বরূপের এক ঘনিষ্ঠকে ধাওয়া করে উন্মত্ত জনতা। ওই ব্যক্তি কোনও রকমে নিউ আলিপুর থানায় দৌড়ে নিজেকে রক্ষা করেন। তবে রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— স্বরূপের এই পতন ও জনরোষের আসল টার্গেট কি তাঁর দাদা, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস? দাদার মন্ত্রিত্বের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েই টলিউডে, এমনকী নিজের পাড়ায় স্বরূপ ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন বলে অভিযোগ। তাই স্বরূপের পর এ বার কি অরূপ বিশ্বাসেরও পর্দাফাঁস হতে চলেছে? সুরুচি সংঘের এই ঘটনা সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
যদিও এলাকার বিজেপি নেত্রী প্রিয়া সরকার বলেন, ‘সংসার করতে হলে যেমনটা হয়, ক্লাবের ভিতরে ঢুকে আমরা তা দেখতে পেয়েছি। প্রচুর জামা-কাপড়, শাড়ি, ওই এলাকার ভোটার তালিকা। বিভিন্ন নথিপত্র থেকে শুরু করে সিডি–ও পাওয়া গিয়েছে। তবে, এলাকার কেউ ক্লাব ভাঙচুর করেননি।’