ATM Service: মেশিনের সংখ্যা কমছে, পাওয়া যাচ্ছে না টাকা! বন্ধ হয়ে যাবে এটিএম পরিষেবা? | Why Are ATMs Running Out of Cash Despite India's Rising Currency Supply? The Growing ATM Crisis Explained - 24 Ghanta Bangla News
Home

ATM Service: মেশিনের সংখ্যা কমছে, পাওয়া যাচ্ছে না টাকা! বন্ধ হয়ে যাবে এটিএম পরিষেবা? | Why Are ATMs Running Out of Cash Despite India’s Rising Currency Supply? The Growing ATM Crisis Explained

Spread the love

নয়া দিল্লি: হাবড়ার বাসিন্দা অমল দে। বয়স ৬০-৬৫। ওষুধ কিনবেন। এদিকে, ক্যাশ টাকা হাতে নেই। অনলাইন পেমেন্টেও পারদর্শী নন। টাকা তুলতে অগত্যা এটিএম-ই ভরসা। কিন্তু, সেখানেও সমস্যা। এটিএম মেশিনে কার্ড ঢুকিয়ে মেসেজ পেলেন, টাকা নেই। আবার কিছুটা হেঁটে আরও একটা ব্যাঙ্কের এটিএম-এ (ATM) গেলেন। সেখানেও একই পরিস্থিতি। এরকম প্রায় চারটি এটিএম-এ (ATM Cash) গিয়ে তাঁকে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। কোথাও টাকা নেই, কোথাও মেশিন খারাপ, কোথাও আবার যে পরিমাণ টাকা তুলতে চাইছেন, সেই পরিমাণ টাকা নেই। এরকম আরও অমল দে রয়েছেন, যাঁদের প্রতিদিন এই সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এটিএম এমন একটি পরিষেবা (ATM Service) যেখানে ২৪ ঘণ্টা টাকা পাওয়া যায়। অথচ সেখানেই টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি, একটি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বছরের পর বছর ধরে এটিএম-এর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। এটিএম-এ টাকার ঘাটতি হচ্ছে। অথচ ভারতে নগদ অর্থের পরিমাণ বছরের পর বছর বাড়ছে? তাহলে এটিএমগুলোর এমন পরিস্থিতি কেন?

এটিএম-এ কেন টাকা পাওয়া যাচ্ছে না?

রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) তথ্য অনুযায়ী, এক দশকে নগদ টাকার পরিমাণ প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। ২০১৭-১৬ অর্থবর্ষে প্রায় ১৩ লক্ষ কোটি টাকা ছিল। যা এখন বেড়ে হয়েছে ৪১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। একই সময়ে, নোটের পরিমাণও ১০ হাজার কোটি থেকে বেড়ে ১৭ হাজার কোটিরও বেশি হয়েছে।

নগদ অর্থের বৃদ্ধি সত্ত্বেও ভারতের এটিএম নেটওয়ার্ক ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। ২০২৩ অর্থবর্ষে ২ লক্ষ ১৯ হাজারের বেশি এটিএম মেশিন ছিল। ২০২৬ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৯ হাজার।

এটিএম থেকে টাকা তোলার পরিমাণও কমেছে। ২০২৩ অর্থবর্ষে ৬৮৫ কোটির লেনদেন থেকে কমে ২০২৬ অর্থবর্ষে হয়েছে ৫৩৪ কোটি। রিপোর্ট অনুযায়ী, এটিএম থেকে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা তোলার পরিমাণ ৩২ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে ২৮ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ)-কে পাঠানো এক চিঠিতে নগদ সরবরাহে উল্লেখযোগ্য ঘাটতির কথা তুলে ধরেছে কনফেডারেশন অফ এটিএম ইন্ডাস্ট্রি। বলা হয়েছে, এটিএমগুলিতে প্রয়োজনীয় নগদের মাত্র ৫৫-৬৫ শতাংশ আসছে। এর ফলে ঘন ঘন নগদ ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এবং শহরতলিতে যেখানে এটিএমের উপর নির্ভরতা বেশি, সেখানে এই প্রবণতা বেশি।

সম্প্রতি এক ব্যাঙ্ক ম্যানেজার এর কারণ উল্লেখ করে বলেছেন, সর্বক্ষণ নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা ব্যয়বহুল এবং এ বিষয়ে কোনও সুস্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। আরবিআই-এর নির্দেশ মতো ই-সার্ভিল্যান্স সিস্টেম খরচ আরও বাড়িয়ে দেয়। এমনকি এটিএম রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আউটসোর্স করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি, একটি প্রধান পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার এটিএম-এর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।”

এটিএম পরিচালনার দিকটি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। ডিজিটাল পেমেন্টের কারণে নগদ অর্থের ব্যবহার কমে যাচ্ছে। বিভিন্ন খরচের কারণে ব্যাঙ্ক ও অপারেটরদের পক্ষে এটিএম নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাহলে কি এটিএম পরিষেবা এরপর বন্ধ হয়ে যাবে? প্রশ্ন উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *