পন্থ নন কেন রাহুল সহ-অধিনায়ক? অবশেষে কারণ জানালেন গম্ভীর - 24 Ghanta Bangla News
Home

পন্থ নন কেন রাহুল সহ-অধিনায়ক? অবশেষে কারণ জানালেন গম্ভীর

Spread the love

ঋষভ পন্থকে সরিয়ে লোকেশ রাহুলকে সহ-অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুললেন গৌতম গম্ভীর, সঙ্গে দিলেন সাই সুদর্শন ইঙ্গিতও।

স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: ভারতীয় টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক পদ থেকে ঋষভ পন্থকে (Rishabh Pant) সরিয়ে লোকেশ রাহুলকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটালেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্ট শুরুর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নেতৃত্বের পদ পাওয়া বা না পাওয়ার চেয়ে দেশের হয়ে ভালো পারফরম্যান্স করাই একজন ক্রিকেটারের প্রধান কর্তব্য। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে তিন নম্বর ব্যাটিং পজিশনের জন্য দলের আস্থা এখন অনেকটাই সাই সুদর্শনের উপর।

Read English:

আফগানিস্তান সিরিজের জন্য দল ঘোষণার পর দেখা যায়, অধিনায়ক শুভমন গিলের সহকারী হিসেবে আর রাখা হয়নি ঋষভ পন্থকে। তাঁর পরিবর্তে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ ব্যাটার লোকেশ রাহুলকে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর ক্রিকেটমহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনেকেই জানতে চান, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণেই কি পন্থকে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে?

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজে ভারতের হতাশাজনক ফলাফলের পর পন্থের ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। বিশেষ করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁর অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক মানসিকতা দলের ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে মত দিয়েছিলেন অনেক বিশেষজ্ঞ। সেই কারণেই সহ-অধিনায়কত্ব হারানোর ঘটনাকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল।

তবে গম্ভীর এই বিতর্ককে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, একজন ক্রিকেটারের পরিচয় গড়ে ওঠে তার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে, নেতৃত্বের পদ দিয়ে নয়। তিনি বলেন, দেশের হয়ে মাঠে নামাটাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। একজন খেলোয়াড়ের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত দলের জন্য অবদান রাখা এবং জয়ের পথে সাহায্য করা। কোচ, ক্রিকেটার কিংবা সাপোর্ট স্টাফ—সবার মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই হয়।

ঋষভ পন্থের প্রসঙ্গে গম্ভীর স্পষ্ট করে দেন যে দল তাঁর স্বাভাবিক খেলার ধরন পরিবর্তন করতে চায় না। বরং সেই আক্রমণাত্মক মানসিকতাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুধু আক্রমণাত্মক হওয়াই যথেষ্ট নয়। কখন ঝুঁকি নিতে হবে এবং কখন ধৈর্য ধরে খেলতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের পরিস্থিতি, দলের প্রয়োজন এবং প্রতিপক্ষের অবস্থান বুঝে খেলাই একজন সফল ক্রিকেটারের পরিচয়।
গম্ভীর আরও বলেন, খেলার ধরন যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য একটাই—রান করা এবং প্রতিপক্ষের উইকেট নেওয়া। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলাতে জানতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্যের জন্য এই বোধ অত্যন্ত জরুরি।

এদিকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচের আগে ভারতের ব্যাটিং ক্রম নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তিন নম্বর স্থানে কে ব্যাট করবেন, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। এই প্রসঙ্গে গম্ভীরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে সাই সুদর্শনকে আরও সুযোগ দেওয়ার পক্ষেই রয়েছে দল। তাঁর মতে, এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি এই তরুণ ব্যাটার।

গম্ভীর মনে করেন, মাত্র কয়েকটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে কোনও ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ বিচার করা উচিত নয়। সাম্প্রতিক মরশুমে ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সাই সুদর্শনের ধারাবাহিক সাফল্য নির্বাচকদের নজর কেড়েছে। তাই তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে সুযোগ দেওয়া হলে ভারতীয় ক্রিকেট লাভবান হতে পারে।
অন্যদিকে দেবদত্ত পাড়িক্কলও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান করে তিনি নিজের দাবি জোরালো করেছেন। তবু গম্ভীরের সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে যা বোঝা যাচ্ছে, তাতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টে তিন নম্বর ব্যাটিং স্থানের দৌড়ে সাই সুদর্শনই কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। ফলে ম্যাচের আগে ভারতের সম্ভাব্য প্রথম একাদশ নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়ে গিয়েছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *