PM Modi-Donald Trump: প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘ভালো বন্ধু’ বলে প্রশংসা ট্রাম্পের, ট্যারিফ কমিয়ে বাণিজ্য় চুক্তি করবেন? | US President Donald Trump Calls PM Modi a ‘Good Friend’, Will Tariffs Be Cut? Big Signal on India US Trade Pact
ওয়াশিংটন: বাণিজ্য চুক্তির পথে আরও এক ধাপ এগোল ভারত-আমেরিকা? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ফের একবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী(PM Narendra Modi)-কে ভালো বন্ধু বলেই সম্মোধন করলেন। আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেন বাণিজ্য চুক্তি (Trade Deal) নিয়ে। বললেন, তাঁর বিশ্বাস নয়া দিল্লি ও ওয়াশিংটন শীঘ্রই বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ একদিন আগেই তাঁর সরকার জানিয়েছে যে ভারত সহ ৫৪টি দেশ থেকে আনা পণ্যের উপরে অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর পরিকল্পনা করছে তারা। ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কাতার, রাশিয়াস ইজরায়েলের ৃমতো দেশগুলি জোর করে শ্রম (forced labour) করানো আটকাতে পারেনি, তাই শাস্তি হিসাবে এই অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্ল্যান।
গতকালই হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের মধ্যে (ভারত ও আমেরিকা) চুক্তি হবে কারণ আমি প্রধানমন্ত্রী (মোদী)-কে খুব পছন্দ করি। ওঁ আমার ভালো বন্ধু, আমাদের মধ্যে সদ্ভাব আছে।”
তবে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথা উঠতেই ফের ভারতকে আক্রমণ করেন ট্রাম্প। বলেন যে ভারত বহু বছর ধরে আমেরিকার নীতির সুবিধা নিয়েছে এবং মার্কিন পণ্যে বিপুল পরিমাণে শুল্ক নিয়েছে। উল্টে আমেরিকাকে কোনও শুল্কই দেয়নি। এখন ঠিক তার উল্টোটা হচ্ছে, ভারত থেকে বিপুল উপার্জন করছে আমেরিকা। এই প্রসঙ্গে হার্লে ডেভিডসন বাইকের কথাও উল্লেখ করেন। বলেন যে ভারত ২০০ শতাংশ শুল্ক নেওয়ায় তারা ভারতের বাজারে এই বাইক বিক্রি করতে পারত না। ভারতে গিয়ে কারখানা তৈরি করেছে এই বাইক সংস্থা, যা দুঃখজনক বলেই উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।
প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই মার্কিন প্রতিনিধিরা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির আলোচনার জন্য এসেছিলেন। বাণিজ্য মন্ত্রকও জানিয়েছে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষই যাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক চুক্তিতে উপকৃত হয়, তা নিয়ে কথা হয়েছে।
তার আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সময় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রাথমিক কাঠামো আলোচনা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, আমেরিকা ভারতের উপরে শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করবে। রাশিয়ার তেল কেনার জন্য যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বসাত, তাও তুলে নেওয়া হবে।
তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ২০ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফকে অনৈতিক বলে ঘোষণা করে। তারপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমস্ত দেশের উপরে ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেন ১৫০ দিনের জন্য।