সঞ্জয়ের অভিযোগে পাল্টা অভিষেক, ‘গঠনতন্ত্রই জানেন না CAB, কর্তারা’
সঞ্জয় দাসের অভিযোগের জবাবে সিএবির গঠনতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিষেক ডালমিয়া। কুলিং অফ বিতর্কে বাড়ছে প্রশাসনিক চাপানউতোর।
স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: সিএবি-র অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিতর্কে এবার সরাসরি মুখ খুললেন প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া। বৃহস্পতিবার সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস অভিযোগ করেছিলেন যে, ‘কুলিং অফ’ পর্ব শুরু হওয়ার পরেও অভিষেক প্রায় দশ-এগারো মাস সভাপতির পদে বহাল ছিলেন। সেই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া জবাব দিলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, সিএবি-র বর্তমান পদাধিকারীদের অনেকেই সংস্থার গঠনতন্ত্র সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখেন না, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
Read English:
অভিষেক ডালমিয়া জানান, তিনি যখন আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন, তখনই সিএবি সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। কারণ, সিএবি-র নিয়ম অনুযায়ী একই ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারেন না। তিনি বলেন, সেই সময় বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তৎকালীন সহ-সভাপতি নরেশ ওঝা। এমনকি সভা-পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকেও তিনি অংশ নেননি, কারণ তখন আর তিনি সভাপতি ছিলেন না। তাঁর কথায়, ওই দিন থেকে আজ পর্যন্ত সিএবি-র কোনও বিষয়েই তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি।
এই বিতর্কের সূত্রপাত মদন ঘোষকে ঘিরে। সত্তর বছর বয়স অতিক্রম করার পরেও তিনি যুগ্ম-সচিবের পদে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রসঙ্গে সঞ্জয় দাস যুক্তি দিতে গিয়ে অভিষেক ডালমিয়ার উদাহরণ টেনেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, অতীতেও কিছু পদাধিকারী নির্ধারিত সময়ের বেশি পদে ছিলেন এবং অভিষেকও সেই রকম পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে অভিষেক জোর করে পদ আঁকড়ে ছিলেন না।
তবে অভিষেকের মতে, তাঁর ঘটনা এবং মদন ঘোষের ঘটনা একেবারেই আলাদা। তিনি বলেন, লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ‘অযোগ্যতা’ বা ডিসকোয়ালিফিকেশনের বিভিন্ন ধারা রয়েছে। একটি ক্ষেত্রে বয়স বা নাগরিকত্বের মতো বিষয় প্রযোজ্য হয়, অন্য ক্ষেত্রে টানা নির্দিষ্ট মেয়াদ সম্পূর্ণ করার পর ‘কুলিং অফ’-এর নিয়ম কার্যকর হয়। তাঁর দাবি, তিনি কোনও নির্বাচনে অংশ নেননি এবং কুলিং অফ শুরু হওয়ার পর সিএবি-র কোনও কমিটিতেও ছিলেন না। ফলে নিয়মভঙ্গের প্রশ্নই ওঠে না।
অভিষেক আরও জানান, ২০২০ সালে বোর্ডের জন্য দেওয়া একটি আইনি মতামতেও এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে কোন পরিস্থিতিতে কুলিং অফ প্রযোজ্য হবে এবং কোন ক্ষেত্রে হবে না, তা বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি সেই নথি পড়েন, তাহলে বুঝতে পারবেন যে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।
সব মিলিয়ে সিএবি-র প্রশাসনিক অন্দরে নতুন করে শুরু হয়েছে নিয়ম, গঠনতন্ত্র এবং পদাধিকারীদের যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক। অভিষেক ডালমিয়ার বক্তব্যের পর এই ইস্যু আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহল।