প্রধানমন্ত্রীর বেফাঁস মন্তব্যে নেপালের নতুন সরকারও টলোমলো - 24 Ghanta Bangla News
Home

প্রধানমন্ত্রীর বেফাঁস মন্তব্যে নেপালের নতুন সরকারও টলোমলো

Spread the love

কাঠমান্ডু: নেপালের রাজনীতিতে ফের ঝড়। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ (Balen Shah)ওরফে বালেন শাহের একটি সংসদীয় মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, “শুধু ভারত নয়, নেপালও ভারতীয় …

কাঠমান্ডু: নেপালের রাজনীতিতে ফের ঝড়। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ (Balen Shah)ওরফে বালেন শাহের একটি সংসদীয় মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, “শুধু ভারত নয়, নেপালও ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেছে।” এই কথায় যুবসমাজ, বিরোধী দল এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

যারা একসময় তাঁর উত্থানে সবচেয়ে বেশি সমর্থন জুগিয়েছিল, সেই জেন-জি যুবকরাই এখন তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে।ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার সংসদে। লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি সীমান্ত বিতর্ক নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি জেনেছেন যে শুধু ভারত নেপালের জমিতে অনুপ্রবেশ করেনি, বরং নেপালও ভারতের অনেক জায়গায় অনুপ্রবেশ করেছে।

আরও দেখুনঃ ৭১৫০টি অ্যাপ্রেন্টিস পদের জন্য আবেদনের শেষ তারিখ বাড়াল এসবিআই

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের উচিত ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধান করা। এই মন্তব্যের পরই সংসদে হইচই শুরু হয়। বিরোধী সদস্যরা ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ করেন এবং তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন।বালেন শাহের এই বক্তব্য নেপালের জাতীয়তাবাদী মনোভাবে বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলি একে ‘অযৌক্তিক ও ক্ষতিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

তাঁরা অভিযোগ করছেন, এই মন্তব্য নেপালের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করেছে এবং ভারতকে কূটনৈতিক সুবিধা দিয়েছে। কাঠমান্ডুর মাইতিঘরসহ বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র-যুবকরা প্রতিবাদ মিছিল করছে। অনেকে ‘বালেন রাজিনামা দাও’ স্লোগান দিচ্ছেন। যে জেন-জি যুবসমাজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তাঁকে ক্ষমতায় এনেছিল, তারাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় সমালোচক হয়ে উঠেছে।নেপালের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বালেন শাহের মন্তব্য হয়তো আন্তরিক ছিল, কিন্তু সময় ও প্রেক্ষাপট ঠিক হয়নি।

তিনি যে ‘উত্তাপের মুহূর্তে’ কথাটি বলেছেন, তা এখন তাঁর জন্য বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। বিরোধী নেতারা বলছেন, এই ধরনের বক্তব্য নেপালের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে নড়িয়ে দিয়েছে। নেপাল সরকার পরে স্পষ্ট করে বলেছে যে প্রধানমন্ত্রীর কথা ‘নো-ম্যান্স ল্যান্ড’ অঞ্চলের ছোটখাটো বিষয় নিয়ে, কিন্তু তাতেও আগুন নেভেনি।ভারতের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সীমান্ত সমস্যায় কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই।

দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। এই অবস্থায় বালেন শাহের সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। তাঁর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির চেয়ারম্যান রবি লামিছানে ভারতে বিজেপি সদর দফতরে গিয়ে নিতিন গড়করির সঙ্গে দেখা করায়ও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।বালেন শাহ নেপালের সবচেয়ে তরুণ প্রধানমন্ত্রী।

র‍্যাপার থেকে কাঠমান্ডুর মেয়র হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ ছিল তাঁর অসাধারণ। দুর্নীতিমুক্ত শাসন ও যুবকেন্দ্রিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে এই সীমান্ত মন্তব্য তাঁর জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। স্থানীয় মিডিয়ায় এখন প্রশ্ন উঠছে তিনি কি নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন?

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *