টেলিগ্রামে বিক্রি চলছে রি–নিটের প্রশ্নও? পদক্ষেপের আশ্বাস এনটিএ–র
এই সময়: প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হয়েছে এ বছরের নিট–ইউজি। পুনরায় মেডিক্যাল প্রবেশিকার তারিখ ঘোষণা হয়েছে ২১ জুন। এর মধ্যেই ফের রি–টেস্টের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তুললেন এক সোশ্যাল মিডিয়া ইউজ়ার! টেলিগ্রাম পেজের বেশ কিছু ছবি শেয়ার করে তিনি দাবি করেন — মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ফের প্রশ্ন বিক্রির র্যাকেট চলছে। উত্তরে জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (এনটিএ) জানিয়েছে, ‘বিষয়টি যাচাই ও পদক্ষেপ করতে সাইবার ক্রাইম দপ্তরে জানানো হয়েছে।’ আমেদাবাদ সাইবারক্রাইম সেলে দায়ের হয়েছে অভিযোগ। এই ‘নিট–ইউজি’র প্রশ্নফাঁসের জেরে যে ভাবে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ছে এবং কয়েকজন পড়ুয়া হতাশায় আত্মহত্যা করেছেন— তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।
প্রিন্স শ্রীবাস্তব নামের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে বৃহস্পতিবার শেয়ার করা হয় সেই সব টেলিগ্রাম পেজের ছবি–স্ক্রিনশট। যেখানে বেশ কয়েকটি ছাপা প্রশ্নের ছবি দেখা যায়। সরাসরি এনটিএ এবং সাইবারদোস্ত–কে ট্যাগ করে প্রিন্স লেখেন— এমন কিছু টেলিগ্রাম পেজের খোঁজ পেয়েছি, যেখানে রি–নিট এগজ়ামের প্রশ্ন বিক্রি হচ্ছে। এগুলো মনে হচ্ছে একটি চক্র দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত।’ সেই সব টেলিগ্রাম পেজের লিঙ্ক শেয়ার করে এনটিএ এবং সাইবার সেলকে পদক্ষেপের আর্জি জানান তিনি। সূত্রের খবর, আমেদাবাদ সাইবার সেলে আবেদন জানানো হয়— ওই টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টগুলোতে ভাইরাল প্রশ্নপত্র আদৌ আসল কি না—সে ব্যপারে তদন্ত হোক।
অভিযোগ, ৬০ হাজার থেকে একলাখ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন বিক্রি চলছে। কোথাও ৭০০–র মধ্যে ৬২০ উপরে স্কোর নিশ্চিত করতে ২০ লাখ পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে! পেজগুলি প্রতিনিয়ত নাম বদলে ফেলছে। সূত্রের দাবি, এক রিপোর্টার অভিভাবক সেজে প্রশ্ন করলে টেলিগ্রাম চ্যানেল অপারেটর উত্তরে বলেন— ‘টোকেন মানি হিসেবে ৫০,০০০ টাকা জমা করে বেঙ্গালুরুতে আমাদের বসের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করে আসুন। এর পর পরীক্ষার দিন ব্ল্যাঙ্ক ওএমআর জমা করলেও চলবে। এজেন্সির সঙ্গে আমাদের সেটিং রয়েছে।’ এই সব অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছে সাইবার ক্রাইম দপ্তর।
এ দিকে, নিট বাতিলের হতাশায় একের পর আত্মহত্যার ঘটনা সামনে আসছে। ‘ফের পরীক্ষা দেওয়ার মতো সাহস নেই’ লিখে সম্প্রতি আত্মঘাতী হয়েছেন মধ্যপ্রদেশের পরীক্ষার্থী আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদী। গরিব চাষি পরিবারের মেয়ে সুইসাইড নোটে লিখেছিলেন, প্রথমবারের পরীক্ষা ভালো হয়েছিল, কিন্তু দ্বিতীয়বার প্রবেশিকা ভালো হবেই, এমন কনফিডেন্স তাঁর নেই! এই ঘটনার উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘গত ১২ বছর ধরে শিক্ষাব্যবস্থার ভাঙতে থাকা পরিকাঠামোর মাশুল গুনতে হচ্ছে যুবসমাজকে। ডাক্তার হয়ে দেশ–সমাজের সেবা করার স্বপ্ন দেখেছিলেন আকাঙ্ক্ষা। কৃষক বাবা মেয়ের লেখাপড়ার জন্য তিন লাখ টাকার লোন নিয়েছিলেন। একটা রাঁধুনির চাকরিও জুটিয়েছিলেন। আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু সুইসাইড নয়, এটা মোদীজির অধীনে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার পরিণতি।’ নরেন্দ্র মোদী সরকারকে বিঁধে আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালেরও বক্তব্য, ‘পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া কোনও সুবিচার নয়। যে সমস্ত এডুকেশন মাফিয়া সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে তুলছে, তাদেরকেই নির্মূল করতে হবে।’