অপেক্ষার অবসান, ভারতে ঢুকে পড়ল বর্ষা, বাংলায় পৌঁছবে কবে?
অবশেষে স্বস্তি। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ল বর্ষা। India Meteorological Department বা IMD (আইএমডি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার কেরালায় ঢুকে পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু।
সাধারণত প্রতি বছর ১ জুন মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে কেরালায়। তবে এ বছর আইএমডির তরফে জানানো হয়েছিল, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশে কিছুটা দেরিতে ঢুকবে। আবহাওয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত তিন দিন দেরিতে বর্ষার আগমন ঘটল কেরালায়।
কেরালায় আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, জানিয়েছে IMD। এরপরই এই মৌসুমি বায়ু কেরালা ছাড়িয়ে মাহে, লক্ষদ্বীপ ও কর্নাটক,তামিলনাড়ুর উপকূলীয় অঞ্চল অতিক্রম করে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়বে।
তবে এখনই উত্তর ভারতে প্রবেশ করছে না বর্ষা। IMD-র তরফে জানানো হয়েছে ২৭ জুনের আগে দিল্লিতে বর্ষা প্রবেশ করছে না। পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা সাধারণত জুনের শেষ বা জুলাইয়ের শুরুতে প্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর চলতি বছরের বর্ষা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাসও দিয়েছে। IMD সূত্রে খবর, দেশে এ বছর মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এ বছর লং পিরিয়ড অ্যাভারেজ (LPA) রেন বা বর্ষায় দীর্ঘ বৃষ্টিপাত গড়ে প্রায় ৯০ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যদি LPA ৯০ শতাংশের নীচে নেমে যায়, তা কম বৃষ্টিপাত বা Deficient Rainfall হিসেবেই ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে এল নিনিও (El Niño)-র প্রভাব। এল নিনিও সাধারণত ভারতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবকে কমিয়ে দেয়।আইএমডির ,সূত্রে খবর, বর্তমানে এল নিনিওর প্রভাব কম থাকায় জুনে বৃষ্টি হবে। তবে বর্ষার মরশুম যত এগোবে, বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের দিকে, এল নিনিও মাঝারি থেকে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। এর ফলে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, IMD-র রিপোর্ট অনুযায়ী, কেরালায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ করেছে, এই ঘোষণা করার জন্য তিনটি শর্ত একসঙ্গে পূরণ হওয়া আবশ্যক। ১০ মে-র পরে কেরালা ও লক্ষদ্বীপের নির্ধারিত কিছু অঞ্চলে অন্তত দুই দিন ধারাবাহিক ভাবে ২.৫ মিমি বা তার বেশি বৃষ্টি হতে হবে। Outgoing Longwave Radiation (OLR) মান ২০০ W/m²-এর নীচে থাকতে হবে। ঘন মেঘাচ্ছন্নতা আকাশ ও শক্তিশালী পশ্চিমা (westerly) বায়ুপ্রবাহ চলবে।