খোকনকে ঘিরে উঠল ‘খুনি’ স্লোগান, তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ়
এই সময়, বর্ধমান: বিপুল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বুধবার সকালে কাঞ্চননগর রথতলা এলাকায় তৃণমূল নেতা খোকন দাসের প্রাসাদোপম বাড়িতে তল্লাশি চালায় বর্ধমান থানার পুলিশ। নীল টিশার্ট ও কালো ট্রাউজ়ার পরা খোকনকে হাতকড়া পরা অবস্থায় তাঁর বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ আধিকারিকরা খোকনের অফিস ও বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তল্লাশি চালান। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফের তল্লাশি চালিয়ে বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী ও নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। তদন্তের স্বার্থে খোকনের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করেছে পুলিশ।
পুলিশ যখন খোকনকে নিয়ে বার হচ্ছিল, তখন এলাকার মানুষ গাড়ি আটকে ‘চোর খোকন’, ‘খুনি খোকন’ বলে তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন। তবে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের সরিয়ে দেয়। অভিযান চলাকালীন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন খোকনের স্ত্রী তথা বর্ধমান পুরসভার উপ পুরপ্রধান মৌসুমি দাস, তাঁদের ছেলে ও পুত্রবধূ।
সূত্রের খবর, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পরই খোকন দাস তাঁর অফিসে থাকা সরকারি ত্রাণের জিনিসপত্রের তালিকা দিয়ে বর্ধমান উত্তরের মহকুমাশাসককে ইমেল করেছিলেন। সেখানে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, এই ত্রাণের জিনিসপত্র ফেরত কী ভাবে দেওয়া হবে?’
এ দিন খোকনকে দেখে ‘খুনি’ স্লোগান দিয়ে এগিয়ে আসেন বিক্রম পোদ্দার নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘২০১২–য় আমার ভাই সিকেন্দারকুমার পোদ্দারকে এই খোকন দাস তার লোকেদের নিয়ে মদের বোতল ভেঙে তাই দিয়ে ভাইয়ের শরীরের মাংস খুবলে খুবলে মেরেছিল। আমার মায়ের সামনে ভাইয়ের বুকের উপরে বড় চাই পাথর ফেলে মেরেছিলো। আমরা পুলিশকে বলেছি ওকে ফাঁসিতে ঝোলানো হোক। ১৪ বছর ধরে আমি বর্ধমান কোর্ট, হাইকোর্ট, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— সবার কাছে গিয়েছি। টাকার জোরে খোকন সব জায়গা ম্যানেজ করে নিয়েছে। আজ আমার ভাইয়ের খুনের শাস্তি চাই।’
এ দিন তল্লাশির সময়ে স্ত্রী মৌসুমি শুধু জানতে চেয়েছিলেন, খোকনের শরীর কেমন আছে? উত্তরে খোকন বলেন, ‘আমি ঠিক আছি। তোমরা সাবধানে থেকো। বাড়ি থেকে কেউ বেরিও না।’ একইসঙ্গে নিজের পরিবারের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে পুলিশের কাছে খোকন অনুরোধ করে বলেন, ‘আমার বাড়ির উপরে যেন কেউ আক্রমণ না করে সেটা একটু দেখবেন।’