VLTD রিচার্জে ‘নৈরাজ্য’ ভেন্ডরদের, সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি
এই সময়: রাজ্যে বাস, মিনিবাস ও অ্যাপ ক্যাবগুলির সুরক্ষা যাত্রী নিরাপত্তায় বসানো ও ভেহিকেল ট্র্যাকিং ডিভাইস’ (ভিএলটিডি) ব্যবস্থার রিচার্জ নিয়ে চরম হেনস্থার মুখে পড়ছেন গাড়ি মালিকরা। সরকারি নিয়ম মেনে ট্র্যাকিং যন্ত্র বসালেও গত দু’বছর ধরে তা রিচার্জ করতে গিয়ে চরম প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতির জেরে থমকে যেতে পারে রাজ্যের সামগ্রিক গণ-পরিবহণ ব্যবস্থাও। এমনই আশঙ্কার কথা জানিয়ে রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরের প্রধান সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছে জয়েন্ট ফোরাম অফ ট্রান্সপোর্ট অপারেটর্স।
সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকার অনুমোদিত এবং তালিকাভুক্ত ভেন্ডর সংস্থাগুলির চরম গাফিলতি, প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও অসহযোগিতার কারণেই এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বহু গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং পারমিট রিনিউ আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্মারকলিপিতে বাস ও ক্যাব মালিকদের সংগঠনগুলি সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ডিভাইস সরবরাহকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে।
তাদের অভিযোগ, ডিভাইস বিক্রির পরে এই ভেন্ডর সংস্থাগুলি কোনও রকম ‘আফটার সেলস সাপোর্ট’ বা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে নিয়মের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত রিনিউ ফি দাবি করা হচ্ছে। টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পরেও বহু গাড়ির ট্র্যাকিং লিঙ্ক সচল করা হচ্ছে না এবং সংস্থার প্রতিনিধিরা ফোন ধরছেন না।
হয়েছে। এর ফলে বহু গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং পারমিট রিনিউ আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্মারকলিপিতে বাস ও ক্যাব মালিকদের সংগঠনগুলি সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ডিভাইস সরবরাহকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে। তাদের অভিযোগ, ডিভাইস বিক্রির পরে এই ভেন্ডর সংস্থাগুলি কোনও রকম ‘আফটার সেলস সাপোর্ট’ বা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে নিয়মের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত রিনিউ ফি দাবি করা হচ্ছে। টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পরেও বহু গাড়ির ট্র্যাকিং লিঙ্ক সচল করা হচ্ছে না এবং সংস্থার প্রতিনিধিরা ফোন ধরছেন না।
অল বেঙ্গল বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতি-র সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা সরকারি নিয়ম মেনে নিরাপত্তা বজায় রাখতে ১০০ শতাংশ রাজি। কিন্তু গত দু’বছর ধরে রিচার্জ প্রক্রিয়ায় যে প্রযুক্তিগত সমস্যা চলছে, তার দায় অপারেটররা কেন নেবেন? ভেন্ডরদের গাফিলতির জন্য আমাদের গাড়ি বন্ধ হওয়ার জোগাড়।’ একই সুর শোনা গিয়েছে ‘অনলাইন ক্যাব অপারেটর্স গিল্ড’-এর সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও। তিনি বলেন, ‘অ্যাপ ক্যাব চালক ও মালিকরা এমনিতেই নানা সমস্যায় জর্জরিত। তার উপরে ভেন্ডরদের এই চরম অব্যবস্থা ও খামখেয়ালি টাকা দাবি করার মানসিকতা আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। অবিলম্বে সরকারের হস্তক্ষেপ চাই।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জয়েন্ট ফোরামের পক্ষ থেকে পরিবহণ সচিবের কাছে মূলত তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, পরিবহণ দপ্তর নির্ধারিত ন্যায্য মূল্যে যাতে রিচার্জ করা যায়, তার জন্য ভেন্ডর সংস্থাগুলিকে অবিলম্বে কড়া নির্দেশ দিতে হবে। পরিবহণ দপ্তরকে দ্বিতীয়ত, কারিগরি সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অপারেটরদের উপরে জরিমানা চাপানো বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তৃতীয়ত, শুধুমাত্র ভিএলটিডি রিচার্জ স্টেটাসের কারণে কোনও গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট বা পারমিট রিনিউ আটকে রাখা যাবে না। পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে যা করণীয় তা দ্রুত করা হবে।’