গরিবের ত্রাণ চুরি করে ঘরে মজুত! বন্দুক-কার্তুজ সহ শ্রীঘরে কুলতির তৃণমূল নেতা
কুলতলি: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই জেলায় জেলায় দুর্নীতি ও বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে পুলিশি অভিযান। এবার গরিবের হক কেড়ে নিজেদের আখের গোছানো এবং বাড়িতে বেআইনি অস্ত্র মজুত …
কুলতলি: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই জেলায় জেলায় দুর্নীতি ও বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে পুলিশি অভিযান। এবার গরিবের হক কেড়ে নিজেদের আখের গোছানো এবং বাড়িতে বেআইনি অস্ত্র মজুত করার গুরুতর অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কুলতলির এক দাপুটে তৃণমূল নেতা। ধৃত নেতার নাম কার্তিক সর্দার।
কুলতলির জলাবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা কার্তিক সর্দারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ মজুত করা ত্রাণসামগ্রী। তবে শুধু সরকারি ত্রাণই নয়, ওই নেতার অন্দরমহল থেকে উদ্ধার হয়েছে সচল আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা কার্তুজ, সরকারি প্রকল্পের স্তূপীকৃত আবেদনপত্র এবং পুলিশের একটি ভুয়ো পোশাক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আয়লা বা আমফানের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি স্তরে যে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ পাঠানো হয়েছিল, তার সিংহভাগই সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছায়নি। গ্রামবাসীরা একাধিকবার গাড়িতে করে এলাকায় ত্রাণের জিনিসপত্র আসতে দেখলেও, সেগুলি সরাসরি চলে যেত নেতার ব্যক্তিগত গুদামে। সাধারণ মানুষ নিজেদের ভাঙা ঘরের জন্য ত্রিপল বা শুকনো খাবার চাইতে গেলে ‘মাল নেই’ বলে সাফ ফিরিয়ে দেওয়া হতো।
স্বজনপোষণ ও ক্ষমতার দাপট
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ঝড়ের দাপটে সাধারণ গরিব মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেলেও কার্তিক সর্দার শুধুমাত্র নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্ত এবং আত্মীয়-পরিজনদের মধ্যেই ত্রাণের ত্রিপল ও অন্যান্য সামগ্রী বণ্টন করতেন। ধৃত কার্তিক সর্দার আসলে কুলতলি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূপা সর্দারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে। এই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একচ্ছত্র দাপট চালাচ্ছিলেন।
তীব্র চাঞ্চল্য ও কড়া শাস্তির দাবি
প্রভাবশালী এই তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হতেই কুলতলির জটেশ্বরে খুশির হাওয়া, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাস্তায় নেমে সরব হয়েছেন এলাকার বঞ্চিত সাধারণ মানুষ। এই ঘটনায় ধৃতের কড়া শাস্তির দাবি তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেত্রী মাধবী হালদার। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র এবং পুলিশের জাল পোশাকের নেপথ্যে অন্য কোনো বড়সড় অপরাধমূলক চক্র জড়িয়ে রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃত কার্তিক সর্দারকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জোরকদমে জেরা ও তদন্ত শুরু করা হয়েছে।