কেশম দ্বীপের জবাব! কুয়েত-বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইরানি মিসাইল - 24 Ghanta Bangla News
Home

কেশম দ্বীপের জবাব! কুয়েত-বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইরানি মিসাইল

Spread the love

দুবাই: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার চরম আকার নিল। আমেরিকার ‘সেন্টকম’-এর অভিযানের পালটা হিসেবে কুয়েত এবং বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে বুধবার ভোররাতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও …

দুবাই: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার চরম আকার নিল। আমেরিকার ‘সেন্টকম’-এর অভিযানের পালটা হিসেবে কুয়েত এবং বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে বুধবার ভোররাতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাল ইরান। তেহরানের দাবি, পারস্য উপসাগরে তাদের তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্টেনার ওপর আমেরিকার হামলার জবাব দিতেই এই প্রত্যাঘাত করা হয়েছে।

বুধবার ভোরে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মোতায়েন থাকা আমেরিকার শক্তিশালী ‘ফিফথ ফ্লিট’ (Fifth Fleet) বা পঞ্চম নৌবহর লক্ষ্য করে একের পর এক মিসাইল ও ড্রোন আছড়ে পড়ে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) বাহরাইনের আকাশ চিরে ক্ষেপণাস্ত্র যাওয়ার একাধিক ফুটেজও প্রকাশ করেছে।

হামলার পরপরই কুয়েত জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা দেশ। কুয়েত সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফের তরফে জানানো হয়েছে, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী একাধিক শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনকে মাঝআকাশেই সক্রিয়ভাবে রুখে দিয়েছে দেশের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।

কুয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আব্দুলআজিজ আল-ওতাইবি একটি জরুরি বিবৃতিতে নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছেন, আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপজ্জনক ধ্বংসাবশেষ বা স্প্লিন্টার ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোনো অজ্ঞাত বস্তু বা ধ্বংসাবশেষে হাত না দিয়ে সরাসরি জরুরি নম্বর ১১২-এ কল করে প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

বাহরাইনে বাজল সাইরেন, বাঙ্কারে আশ্রয় বাসিন্দাদের

ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার আশঙ্কায় বুধবার ভোরে বাহরাইনের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে যুদ্ধকালীন সতর্কতার সাইরেন বাজানো হয়। আপৎকালীন নির্দেশিকায় দেশের নাগরিক ও বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার এবং দ্রুত নিকটবর্তী নিরাপদ স্থান বা বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই সংঘাত? নেপথ্যের কারণ

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এই হামলা আমেরিকার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি অবধারিত বদলা। এর আগে ২ জুন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ইরানের কেশম দ্বীপে (Qeshm Island) ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। আমেরিকার দাবি ছিল, ওই কেন্দ্র থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছিল।

ইরানের সামরিক কমান্ডের বক্তব্য, “আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে কোনো রকম উসকানির জবাব হবে অত্যন্ত মারাত্মক ও ভিন্ন ধরনের। আজ রাতে আমরা আমাদের কথা রাখলাম।”

তবে ইরানের এই মেগা দাবির পরপরই আসরে নেমেছে আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দ্রুত একটি ‘ফ্যাক্ট চেক’ বা তথ্য যাচাইয়ের বিবৃতি জারি করে ইরানের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। আমেরিকার দাবি, ওই অঞ্চলে তাদের কোনো ঘাঁটিতেই ইরান কোনো ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যে কোনো মুহূর্তে বড় মাপের যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *