হুগলি থেকে দু’জন মন্ত্রী, ব্রাত্য আরামবাগ মহকুমা
এই সময়, শ্রীরামপুর: হুগলি জেলা থেকে বিজেপির দুই বিধায়ক রাজ্য মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন। তাঁদের মধ্যে একজন শ্রীরামপুরের বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য এবং বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকার। সোমবার কলকাতার রাজভবনে দু’জনেই মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। হুগলি জেলা থেকে দু’জন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেও বিজেপির শক্তঘাঁটি হিসাবে পরিচিত আরামবাগ মহকুমার কোনও বিধায়ক মন্ত্রী না হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
এ বার শ্রীরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম বার বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন পেশায় আইনজীবী ভাস্কর ভট্টাচার্য। হুগলি জেলায় তিনি বিজেপির অত্যন্ত পুরোনো মুখ। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি করছেন। এক সময় তিনি বিজেপির হুগলি জেলা সভাপতি ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই হুগলি জেলায় সংগঠন বিস্তার করেছিল বিজেপি। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়লেও শেষ পর্যন্ত হেরে। তার পরেও জেলা ও রাজ্যের একাধিক সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। মনে করা হচ্ছে, একজন দক্ষ সংগঠক হিসাবেই তাঁকে পুরস্কৃত করল দল।
কংগ্রেস জমানায় শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে চিকিৎসক গোপালদাস নাগ শ্রমমন্ত্রী হয়েছিলেন। তারপর থেকে শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে কেউ কখনও মন্ত্রী হননি। সে দিক থেকে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে নজির গড়লেন ভাস্কর। এ দিন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে তিনি ‘এই সময়’–কে বলেন, ‘আমি মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ, যাঁরা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমি আমার দলের কাছে কৃতজ্ঞ, যাঁরা আমাকে কাজ করার যোগ্য বলে বিবেচনা করেছেন। বিধায়ক হয়ে আমি কেবল শ্রীরামপুর কেন্দ্র নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। মন্ত্রী হয়ে আমার কাজের ব্যাপ্তি আরও বাড়বে। মানুষের যাতে ভালো হয়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করব।’
সবাইকে চমকে দিয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন বলাগড়ের বিজেপি বিধায়ক সুমনা সরকার। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন সুমনার বাবা বীরেন সরকার। সুমনা এ দিন বলেন, ‘বাবার অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করাই লক্ষ্য। আজ বাবা এবং মা বেঁচে থাকলে খুশি হতেন। বলাগড়ের মানুষ দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন। আমি ভাবতে পারিনি, আমাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে।’ সুমনা সরকারের শাশুড়ি নিভা সরকার বলেন, ‘আমি কখনওই বউমাকে সংসারে আটকে রাখার চেষ্টা করিনি। সব সময় চেয়েছি, ও কিছু একটা হোক। আজ মন্ত্রী হওয়ায় আমরা খুশি।’
এ দিন রাজভবনে শপথ গ্রহণ করার পরে তিনি সোজা চলে আসেন ত্রিবেণীর শ্বশুর বাড়িতে। সেখানে ফুল, মিষ্টি দিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানান প্রতিবেশী এবং আত্মীয়স্বজনরা। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গানে এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্নাতক সুমনার বাড়ি সোমরা মধ্যপাড়ায়। সুমনার শ্বশুর বাড়ি শিবপুর হাজরা পাড়ায়। বর্তমানে সেখানে থাকেন শাশুড়ি নিভা সরকার, স্বামী বিদ্যুৎ সরকার, ছেলে শুভায়ু সরকার। স্বামী পেশায় ব্যবসায়ী এবং ছেলে ক্লাস নাইনে পড়ে। বাবাকে দেখেই রাজনীতিতে প্রবেশ সুমনার। এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেত্রী ছিলেন। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত হুগলি জেলা পরিষদের সদস্যা ছিলেন। পরে ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত হুগলি জেলা পরিষদের সহ–সভাধিপতি হন। ২০২১–এ মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন সুমনা।