সঙ্ঘের নেতা ও তরুণ তুর্কি, জোড়া মন্ত্রী উত্তর দিনাজপুরে
এই সময়, রায়গঞ্জ ও করণদিঘি: তৃণমূলের থেকে পিছিয়ে থেকেও জোড়া মন্ত্রী পেল উত্তর দিনাজপুর। বিধানসভা ভোটে ভোটে জেলার ন’টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসন পায় তৃণমূল। চারটি বিজেপি। কিন্তু একসঙ্গে দু’জন মন্ত্রী পাওয়ায় যেন নতুন করে বিজয়োৎসব শুরু হয়েছে জেলায়। রায়গঞ্জের কৌশিক চৌধুরী ও করণদিঘির বিরাজ বিশ্বাস শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন।
১৯৯১-এর পরে রায়গঞ্জ বিধানসভা থেকে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন কৌশিক। সোমবার প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন তিনি। রায়গঞ্জ শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা কৌশিক, কুন্তল নামেই পরিচিত। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীনই তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সদস্য হন। ২০১৮-তে আরএসএস-এর জেলা কার্যালয়ের অফিস সেক্রেটারি হন। ২০২৫-এ বিজেপির জেলা সম্পাদক, এ বার প্রথম বিধানসভা ভোটে জয়লাভ করে মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিলেন। সমাজকর্মী মৃদুভাষী শান্ত স্বভাবের কুন্তলের মুখে কোনওদিন কটূক্তি বা জোরে কথা শোনেননি রায়গঞ্জের মানুষ। কৌশিক বলেন, ‘দায়িত্ব অনেকটাই বেড়ে গেল।’ তাঁর বৃদ্ধ মা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা দীপ্তি চৌধুরী বলেন, ‘ও ছোট থেকেই মানুষের জন্য কাজ করতে ভালোবাসে। এ জন্য অনেক বকাও খেয়েছে। দায়িত্ব ঠিকমত পালন করতে পারলেই আমার শান্তি।’
কৌশিকের সঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন করণদিঘির বিধায়ক ৩২ বছরের বিরাজ বিশ্বাস। এখনও পর্যন্ত তিনিই কনিষ্ঠতম মন্ত্রী। ডালখোলা পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে হাইস্কুল পাড়ায় তাঁর বাড়ির সামনে উৎসবে মেতে উঠলেন স্থানীয়রা। আবেগে ভাসছেন পরিবারের সদস্যরা।
২০১২-তে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে যুক্ত হন বিরাজ। জলপাইগুড়ি ল কলেজে পড়াকালীন ২০১৪ থেকে ছাত্র সংগঠন এবিভিপির পতাকা হাতে তুলে নেন। ছাত্র থাকাকালীন তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাঁর আন্দোলন পরিচিতি এনে দেয়। ছেলের মন্ত্রী হওয়ার খবরে মা মিনা বিশ্বাস বলেন, ‘ভীষণ ভালো লাগছে। মা হয়ে আমি গর্বিত।’ বিরাজ বলেন, ‘সাধারণ মানুষের পাশে থাকার যে অঙ্গীকার নিয়েছি, পালন করতে আমি বদ্ধপরিকর।’