ATM Withdrawal After Death: মৃত ব্যক্তির ATM থেকে টাকা তুললে কী শাস্তি হতে পারে জানেন? | Can You Use a Dead Person’s ATM Card? Know the Legal Consequences
নয়া দিল্লি: এটিএম কার্ড কম-বেশি সকলেরই দরকার পড়ে। নগদ টাকা তুলতে এটিএমে (ATM) যান। তবে সবাই যে নিজের এটিএম থেকে টাকা তোলেন, তা নয়। সাধারণত বাবা-মা বা পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা তাঁদের সন্তানদের কাছে এটিএম কার্ড এবং পিন নম্বর দিয়ে দেন, যাতে তারা জরুরি অবস্থায় টাকা তুলতে পারে। যতদিন তাঁরা জীবিত থাকেন, এই প্রক্রিয়াটিই চলতে থাকে। কিন্তু পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যুর পর যদি একই কাজ চলতে থাকে, তবে তা তখন গুরুতর আইনি ঝুঁকি বা রিস্ক হয়ে যায়। এই সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর এটিএম কার্ড (ATM Card) ব্যবহার করা বা ইউপিআই(UPI)-এর মাধ্যমে তাঁর ফোন থেকে টাকা তোলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই কাজ করলে আপনার সরাসরি জেলও হতে পারে। আপনি যদি সেই অ্যাকাউন্টের নমিনি বা আইনসম্মত উত্তরাধিকারীও হন, তারপরও ব্যাঙ্ক-কে না জানিয়ে টাকা তোলা আইনত অপরাধ।
মৃত্যুর পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কী হয়?
ব্যাঙ্কিং নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আইনত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই ডেবিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং বা ইউপিআই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অধিকার সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যায়। সুতরাং সেই ব্যক্তির মৃত্যুর পর সেই অ্যাকাউন্ট থেকে করা যেকোনও ডিজিটাল লেনদেন অবৈধ হয়ে যায়।
নমিনিরও অধিকার থাকে না-
অনেকে এই ভুল ধারণায় থাকেন যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তাদের নাম নমিনি হিসেবে যেহেতু রেজিস্ট্রার্ড, তাই তারা সরাসরি এটিএম কার্ড থেকে টাকা তুলতে পারেন। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল। আপনি নমিনি হলেও, আপনাকে প্রথমে ব্যাঙ্কে ওই মৃত ব্যক্তির তথ্য এবং মৃত্যু প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। এই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে, সরাসরি এটিএম কার্ড থেকে টাকা তোলা প্রতারণা হিসেবে গণ্য করা হয়।
এত কঠোর নিয়ম কেন?
ব্যাঙ্কগুলি মৃত ব্যক্তির অর্থ সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে এই নিয়ম অনুসরণ করে। উদাহরণস্বরূপ, একজন মৃত ব্যক্তির একাধিক আইনসম্মত উত্তরাধিকারী থাকতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, যদি কোনও একজন ব্যক্তি ব্যাঙ্কের অজান্তে এটিএম-এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট থেকে সম্পূর্ণ অর্থ তুলে নেন, তবে তা অন্য উত্তরাধিকারীদের অধিকারের লঙ্ঘন হবে। এই কারণেই ব্যাঙ্ক সকল উত্তরাধিকারীর দাবি ও কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার পরেই মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে জমা টাকা উত্তরাধিকারীদের দেয়।
বিনা অনুমতিতে এটিএম ব্যবহার করলেই জেল-
যদি কোনও ব্যক্তি ব্যাঙ্কে আগে থেকে না জানিয়ে, কোনও মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে এটিএমের মাধ্যমে টাকা তুলে নেয় এবং এরপর পরিবারের অন্য কোনও সদস্য বা অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা এই বিষয়ে ব্যাঙ্ক বা থানায় অভিযোগ করেন, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতারণা ও চুরির অভিযোগে যে ব্যক্তি টাকা তুলেছেন, সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা যেতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং এমনকী কারাদণ্ডও হতে পারে।
পরিবারের সদস্যের মৃত্যুর পর কীভাবে টাকা ক্লেম করবেন?
আপনার পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে, প্রথমেই তার এটিএম কার্ড ব্যবহার না করে, এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
- প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে গিয়ে লিখিতভাবে জানান যে ব্যক্তিটি মারা গিয়েছেন।
- এরপর ব্যাঙ্ক থেকে একটি ক্লেম ফর্ম সংগ্রহ করুন।
- মৃত ব্যক্তির মৃত্যু প্রমাণপত্র, আপনার পরিচয়পত্র এবং মনোনীত ব্যক্তির প্রমাণপত্র ব্যাঙ্কে জমা দিন।
- এবার ব্যাঙ্কের কর্মকর্তারা আপনার সমস্ত নথি যাচাই করবেন। সবকিছু সঠিক থাকলে, কয়েক দিনের মধ্যেই মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীদের অ্যাকাউন্টে আইনসম্মতভাবে টাকা ট্রান্সফার করা হবে।