কান টানতেই মাথা! ‘ডন’-এর গ্রেপ্তারিতে কী ভাবে ফাঁস হলো দেশজুড়ে জঙ্গি হানার ছক? - 24 Ghanta Bangla News
Home

কান টানতেই মাথা! ‘ডন’-এর গ্রেপ্তারিতে কী ভাবে ফাঁস হলো দেশজুড়ে জঙ্গি হানার ছক?

Spread the love

দিল্লি, মুম্বই-সহ দেশের পাঁচ শহরে বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিল জঙ্গিরা। প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্রও এসে গিয়েছিল হাতে। ছক বাস্তবায়নের আগেই পুলিশের জালে আট সন্দেহভাজন জঙ্গি। কিন্তু কী ভাবে হলো এই প্ল্যানের পর্দাফাঁস?

জানা গিয়েছে, পুনেতে এক শার্পশুটারকে গ্রেপ্তার করার সূত্র ধরেই এই বড়সড় জঙ্গি চক্রান্ত ভেস্তে দেয় দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। তদন্তে উঠে এসেছে, পাকিস্তানের ISI এবং দাউদ ইব্রাহিম চক্রের মদতে তৈরি হওয়া একটি জঙ্গি মডিউল দিল্লি ও মুম্বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে নিশানা করার পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু শার্পশুটার বিজয় ‘ডন’ ধরা পড়তেই এই জঙ্গিদের হামলার ষড়যন্ত্র পুলিশের সামনে চলে আসে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৯ জন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর যোগাযোগ ছিল এবং তাদের নির্দেশে ভারতে নাশকতার পরিকল্পনা চলছিল। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের বক্তব্য, এই চক্রের সঙ্গে মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডেরও সরাসরি যোগ রয়েছে। বিশেষ করে দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ছোট শাকিলের শাগরেদ হিসেবে পরিচিত মুদাস্সর হুসেন সৈয়দ ওরফে ‘মুন্না ঝিংগাড়া’-র নাম তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে পুনে থেকে এক শার্পশুটারকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে মিলেছিল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও যোগাযোগের সূত্র। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই দিল্লি, মুম্বই এবং আরও কয়েকটি জায়গায় একযোগে অভিযান চালায় পুলিশ। শার্পশুটারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝাড়খণ্ডের সাহিবগঞ্জ থেকে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদেই গোটা মডিউলের সদস্যদের তথ্য সামনে চলে আসে। পুলিশ সূত্রে খবর, দিল্লির ছতরপুর এলাকায় পাকিস্তানের চার হ্যান্ডলার ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তাদেরও সন্ধান চালানো হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের লক্ষ্য ছিল রাজধানী দিল্লির ‘গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল’ জায়গায় হামলা চালানো। পাশাপাশি মুম্বইয়েও হামলার ছক কষা হচ্ছিল। যদিও কোন কোন এলাকাকে নিশানা করা হয়েছিল, তা এখনও প্রকাশ্যে আনেনি তদন্তকারী সংস্থা। নিরাপত্তার স্বার্থে সেই তথ্য গোপন রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন অপরাধ জগতের পুরোনো খেলোয়াড়। আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে অস্ত্র, টাকা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট জোগাড় করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এই কারণেই দাউদ ইব্রাহিম চক্র এবং জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে পুরোনো যোগসাজশের বিষয়টি ফের সামনে এসেছে।

স্পেশাল সেলের এক আধিকারিকের কথায়, ‘এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন জঙ্গি চক্র নয়, বরং সংগঠিত অপরাধচক্র, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের যৌথ অপারেশন।’ তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ভারতে আরও কোনও ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় রয়েছে কি না।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *