হোল্ডিং সেন্টারে ডিমভাতের ব্যবস্থা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য - 24 Ghanta Bangla News
Home

হোল্ডিং সেন্টারে ডিমভাতের ব্যবস্থা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য

Spread the love

আশিস নন্দী ও তপন মণ্ডল

পেট্রাপোল ও হাকিমপুর: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সীমান্তে ভিড় বেড়েছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের। তাঁদের রাখার জন্য বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টার খুলেছে বিজেপি সরকার। শনিবারই ধৃত ১৭ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে নিয়ে আসা হয় পেট্রাপোলের হোল্ডিং সেন্টারে। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত পেট্রাপোলে সরকারি একটি হোম তৈরি হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে। সেখানে এ দিন ১৭ জন অনুপ্রবেশকারীকে আনা হয়েছে। ধৃত অনুপ্রবেশকারীদের একজন গাইঘাটায় থাকতেন। আর বাকি ১৬ জন ব্যারাকপুরে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। দুপুরে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ডাল–ভাত, আলুভাজা ও ডিমের ঝোল ভাতের ব্যবস্থা করা হয়।

শুক্রবারই বিএসএফ হোল্ডিং সেন্টার থাকা ১০০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে। ১০০ জন বাংলাদেশি নাগরিকের তথ্য যাচাই করে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (‌বিজিবি)‌ জওয়ানদের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁদের। গত কয়েকদিন ধরেই সকাল থেকেই হাকিমপুর সীমান্তে বাংলাদেশিদের ভিড় জমছে। অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে পাঠানো জন্য স্বরূপনগরে তিন জায়গায় হোল্ডিং সেন্টার করা হয়েছে। চারঘাট, মেদিয়া ও তেঁতুলিয়া পথের সাথীতে ২৫০ জন বাংলাদেশিকে রাখা হয়েছে। তাঁরা সকলেই দালালের হাত ধরে অবৈধ ভাবে চোরাপথে এ দেশে প্রবেশ করে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বসবাস করছিল।তাদের অধিকাংশের কাছেই বৈধ কোনও ভারতীয় নাগরিকত্বের কাগজ নেই।

স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে জড়ো হওয়া বাংলাদেশিদের পুলিশ ও বিএসএফ–এর তরফে তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। যে বাংলাদেশিরা গত কয়েক বছর ধরে ভারতে এসে বসবাস করতে শুরু করেছেন, তাদের বেশিরভাগই নাম পরিবর্তন করেছেন। রাজনৈতিক নেতাদের বদান্যতায় অনেকেই ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ভোটাধিকারও প্রয়োগ করেছেন। সরকারি একাধিক প্রকল্পের সুবিধাও তারা নিচ্ছেন।

এখনও পর্যন্ত হোল্ডিং সেন্টারে যাদের রাখা হয়েছে, সেখানে স্বাস্থ্য, খাবার, নিরাপত্তার বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইন মেনেই করা হচ্ছে। স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে আসা বাংলাদেশি নাগরিক কাজল বিবি বলেন, ‘আমি অনেক ছোটবেলায় বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসেছি। দমদমে ভিক্ষা করে খেতাম। এখানে এসে বিয়ে হয় এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে। আমার একটি ছেলে আছে। সে এখানে কাজ করত। স্বামীর সঙ্গে কয়েক বছর আগে গন্ডগোল হওয়ার পর থেকে সে চলে যায়। এখন পুলিশ বলছে আমাদের আর থাকতে দেবে না। আমাদের কোনও কাগজপত্র নেই। তাই বাধ্য হয়ে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরছি।’

রাজ্য সরকারের নির্দেশিকার পরেই বনগাঁর পেট্রাপোলে জোরকদমে শুরু হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির প্রক্রিয়া। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য হোল্ডিং সেন্টারটি তৈরি হয়েছে বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্ত লাগোয়া এলাকায়। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা দফায় দফায় ওই হোল্ডিং সেন্টার পরিদর্শন করেছেন।

অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশিকা আগেই জারি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, পূর্বতন সরকার কেন্দ্রের সেই নির্দেশ পালন করেনি। তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে ওই সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা হয়েছে। শুভেন্দুর ঘোষণার পর রাজ্য সরকারের তরফেও নির্দেশিকা জারি করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি পেট্রাপোল সীমান্তে একটি সরকারি হোমকেই হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্যের খাদ্য ও সমবায় মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, ‘কোনও অনুপ্রবেশকারী পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না।অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। তার পর তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *