মমতার বৈঠকে বড় ধাক্কা! ৮০ বিধায়কের মধ্যে হাজির মাত্র ১৮ জন
সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই কালীঘাটে (Kalighat) তৃণমূল বিধায়ক দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়। রাজনৈতিক …
সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই কালীঘাটে (Kalighat) তৃণমূল বিধায়ক দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়। রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ডাকে বিপুল সংখ্যক বিধায়ক উপস্থিত থাকবেন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে একসুরে বার্তা দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি।
সূত্রের খবর, (Kalighat) তৃণমূলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে কালীঘাটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১৮ জন। অর্থাৎ ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। এই কম উপস্থিতি ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা। বিরোধীদের দাবি, এটি শাসকদলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। শনিবার সোনারপুরে একটি প্রকাশ্য কর্মসূচিতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হন (Kalighat) তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজনৈতিকভাবে ঘটনাটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দলের অন্যতম প্রধান মুখ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সংগঠনের মধ্যে ঐক্য ও শক্তি প্রদর্শনের প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এই প্রেক্ষাপটেই কালীঘাটের (Kalighat)বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থেকে বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে খবর ছিল। কিন্তু বৈঠকে উপস্থিতির হার প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনুপস্থিত বিধায়কদের বড় অংশ কেন বৈঠকে এলেন না, তা নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধায়কদের অনুপস্থিতি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক কারণেই হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এত কম উপস্থিতি যে স্বাভাবিক ঘটনা নয়, তা প্রায় সকলেই স্বীকার করছেন। অন্যদিকে দলীয় সূত্রের দাবি, অনেক বিধায়ক নিজ নিজ এলাকায় সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। ফলে এই উপস্থিতির সঙ্গে দলীয় বিভাজনের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই তাদের দাবি।
তবে জল্পনা থামছে না। বিশেষ করে আগামী ২ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য কর্মসূচি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের প্রশ্ন, যদি দলের বিধায়ক বৈঠকেই এত কম উপস্থিতি দেখা যায়, তাহলে আগামী দিনে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলন বা কর্মসূচিতে নেতৃত্ব কতটা সমর্থন পাবে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ। তাঁর ডাকে কর্মী-সমর্থকদের রাস্তায় নামার বহু নজির রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কতটা সুসংহত রয়েছে, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার পর দলের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শনের যে সুযোগ ছিল, সেখানে বিধায়ক বৈঠকের উপস্থিতি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।