নিরাপত্তার ‘ফস্কা গেরো’, অনলাইন মার্কিং পোর্টালের ‘ত্রুটি’ মানল CBSE
CBSE-র নতুন অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক আরও তুঙ্গে উঠল। অবশেষে মার্কিং পোর্টালের নিরাপত্তায় ফাঁক থাকার কথা মেনে নিল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (Central Board of Secondary Education)। এতদিন পর্যন্ত পড়ুয়া ও অভিভাবকদের অভিযোগ লাগাতার অস্বীকার করলেও, রবিবার বোর্ড জানিয়েছে যে, তাদের OSM পোর্টালে ‘ভালনারেবিলিটি’ বা নিরাপত্তায় বড়সড় ফাঁক ধরা পড়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বোর্ড।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, CBSE এক্স হ্যান্ডলে বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT)-র সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি দল গত কয়েকদিন ধরে সিস্টেমের নিরাপত্তা পরিকাঠামো খুঁটিয়ে দেখছেন। বোর্ডের দাবি, সাইবার বিশেষজ্ঞদের এই টিম গত কয়েক দিন ধরে পোর্টালের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে কাজ করছে।
CBSE-র কথা অনুযায়ী, পোর্টালের দুর্বলতা ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে এবং সেই ফাঁকগুলি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে অন্য কোনও ত্রুটি যাতে নতুন করে ধরা না পড়ে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরো পোর্টালটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।
এ দিন বোর্ড সেই সব এথিক্যাল হ্যাকারদের ধন্যবাদ জানিয়েছে, যাঁরা পোর্টালের সম্ভাব্য নিরাপত্তার সমস্যা ও ফাঁকগুলো তাদের সামনে আনেন। সিস্টেমের নিরাপত্তা উন্নত করতে সাহায্য করার জন্য তাঁদের ভূমিকার প্রশংসাও করেন।
উল্লেখ্য, ১৯ বছরের সাইবার গবেষক নিসর্গ অধিকারী গত ফেব্রুয়ারিতেই CBSE-র OSM পোর্টালে একাধিক গুরুতর নিরাপত্তা ফাঁক খুঁজে বার করেছিলেন এবং বিষয়টি CERT-In-কে জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, এতদিনেও বেশিরভাগ ত্রুটি সংশোধন করা হয়নি।
নিসর্গের দাবি ছিল, ওই ত্রুটির কারণে সহজেই পরীক্ষকদের অ্যাকাউন্টে সহজে ঢোকা যাবে, পাসওয়ার্ড রিসেট এবং এমনকী নম্বর পরিবর্তনের মতো কাজও করা সম্ভব। এ ছাড়া তিনি এও উল্লেখ করেন, উত্তরপত্র ও প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত তথ্য একটি AWS স্টোরেজে এমনভাবে রাখা ছিল, যা সহজেই খোলা যাচ্ছিল।
তবে প্রথমদিকে CBSE এই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করেছিল। বোর্ডের বক্তব্য ছিল, যেই পোর্টাল ‘হ্যাক’ হওয়ার দাবি করা হয়েছে, সেটি আসল মূল্যায়ন পোর্টাল নয়, বরং একটি টেস্টিং সাইট যেখানে শুধু ডামি ডেটা ছিল। তারা দাবি করেছিল, প্রকৃত মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিরাপদ এবং কোনও ছাত্রের আসল তথ্য ফাঁস হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।
একের পর এক প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ সামনে আসে। বহু ছাত্র অভিযোগ করেন, তারা ফটোকপির জন্য আবেদন করার পরে অন্যের উত্তরপত্র পেয়েছেন, কোথাও স্ক্যান করা কপি ঝাপসা ছিল, আবার কোথাও উত্তরপত্র অসম্পূর্ণ দেখা যাচ্ছিল।
বিশেষ করে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র বেদান্ত শ্রীবাস্তবের (Vedant Shrivastava) অভিযোগ ব্যাপক আলোড়ন ফেলে। সে দাবি করে, তাঁর রোল নম্বরের সঙ্গে যে পদার্থবিদ্যার উত্তরপত্র আপলোড করা হয়েছিল, সেটি তার নয়। পরে CBSE স্বীকার করে যে, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ভুল উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছিল এবং সংশোধিত কপি পরে পড়ুয়াদের পাঠানো হয়েছে।
এই পুরো ঘটনার মধ্যে আরও একটি বিতর্ক সামনে আসে। ১৭ বছরের ছাত্র সার্থক সিদ্ধান্ত অভিযোগ করে, OSM প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতার শর্ত শিথিল করা হয়েছিল, যার ফলে হায়দরাবাদের Coempt Eduteck সংস্থা চুক্তি পায়। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে CBSE আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন। তিনি স্বীকার করেন যে OSM ব্যবস্থায় ‘কিছু অসঙ্গতি’ রয়েছে এবং ছাত্রদের অভিযোগ দ্রুত মেটানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পেমেন্ট গেটওয়ে ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গেও আলোচনা করা হয়।