জমি দখল করে ওয়াকফ সম্পত্তি! যোগিরাজ্যে ভাঙা পড়বে জামা মসজিদ
সাম্ভাল: উত্তরপ্রদেশের সাম্ভালে একটি বিতর্কিত জমি দখলের ঘটনা আবার নতুন করে আলোড়ন তুলেছে (Waqf Land)। শাহী জামা মসজিদের ইমাম মৌলানা আফতাব হুসেইন ওয়ারিস এবং তাঁর ভাই মেহতাব হুসেইনের …
সাম্ভাল: উত্তরপ্রদেশের সাম্ভালে একটি বিতর্কিত জমি দখলের ঘটনা আবার নতুন করে আলোড়ন তুলেছে (Waqf Land)। শাহী জামা মসজিদের ইমাম মৌলানা আফতাব হুসেইন ওয়ারিস এবং তাঁর ভাই মেহতাব হুসেইনের বিরুদ্ধে জাল দলিলের মাধ্যমে গ্রাম সভার জমি দখল করে ওয়াকফ সম্পত্তি বানানোর অভিযোগ উঠেছে।
সাম্ভাল সদর কোতোয়ালি থানায় সম্প্রতি এফআইআর দায়ের হয়েছে, যেখানে তাঁদের নামে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে।ঘটনাটি সাইফ খান সরাই গ্রামের গাতা নম্বর ৪৫২-এর জমি নিয়ে। রাজস্ব রেকর্ড অনুসারে এই জমি গ্রাম সভার সম্পত্তি এবং বৃক্ষরোপণের জন্য নির্ধারিত ছিল। অভিযোগ অনুসারে, প্রায় ২০ বছর আগে আফতাব হুসেইন ও তাঁর পরিবার এই জমিতে অবৈধভাবে স্থায়ী নির্মাণ করে ফেলেন।
আরও দেখুনঃ অভিষেক হামলার প্রতিবাদ! চুচুড়ায় গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার
তাঁরা একটি মসজিদ, দরগাহ এবং আবাসিক বাড়ি নির্মাণ করেন। পরবর্তীকালে জাল দলিল তৈরি করে এই সম্পত্তিকে উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে নথিভুক্ত করিয়ে নেন বলে অভিযোগ। এতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে জমে ছিল।চলতি বছরের মার্চ মাসে সাম্ভালের তহসিলদার আদালত (তহসিলদার ধীরেন্দ্র কুমার সিং) এই মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। আদালত ওয়াকফ দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে আফতাব হুসেইন ও তাঁর ভাইকে ৬.৯৪ কোটি টাকা জরিমানা করেন।
একইসঙ্গে জমি থেকে উচ্ছেদের নির্দেশও দেওয়া হয়। আদালত পরিষ্কারভাবে বলেছে, সরকারি বা গ্রাম সভার জমিতে কোনো ধর্মীয় স্থাপনা তৈরি করে সেটাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি বলা যায় না। রেকর্ড অনুসারে জমিটি ১৯৭২ সাল থেকেই গ্রাম সভার নামে ছিল এবং বৃক্ষরোপণের উদ্দেশ্যে চিহ্নিত ছিল।লেখপালের একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই মামলা এগিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জমিটিতে অবৈধ দখলদারি দীর্ঘদিনের। আদালতে আফতাব হুসেইন পক্ষ দাবি করেছিলেন যে মসজিদ ও দরগাহ ওয়াকফ বোর্ডের নথিভুক্ত এবং তাঁরা মুতাওয়াল্লি হিসেবে দেখাশোনা করেন। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি এবং বলেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি জমিকে ব্যক্তিগত বা ওয়াকফে রূপান্তরিত করা আইনবিরুদ্ধ।
এই ঘটনা সাম্ভালসহ পুরো উত্তরপ্রদেশে ওয়াকফ সম্পত্তির অবৈধ দখল নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। অনেকে বলছেন, এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং সাধারণ মানুষের জমি, বিশেষ করে গ্রাম সভার জমি শিকার হয়েছে। উচ্ছেদ ও জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।