'সিনেমা-সঙ্গীত পরকীয়া, আমার প্রেম তো...', সৃজিতের নতুন অধ্যায় শুরু | Srijit Mukherji made his debut as a music director - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘সিনেমা-সঙ্গীত পরকীয়া, আমার প্রেম তো…’, সৃজিতের নতুন অধ্যায় শুরু | Srijit Mukherji made his debut as a music director

Spread the love

‘অভিমান’ ছবির জন্য একটি গান তৈরি করলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। পরিচালক হিসাবে সৃজিত যেসব ছবি তৈরি করেছেন, তার গান বা গীতিকার হিসাবে যেসব গান করেছেন, সেরকম অনেক গানই বাঙালির বিভিন্ন আবেগের সঙ্গী, জীবনযাপনের সঙ্গী। তবে এবার পরিধি বাড়ালেন সৃজিত। শুধু গান লেখার কলমে শান না দিয়ে এবার পুরোদস্তুর সঙ্গীত পরিচালক তিনি। লক্ষণীয় পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর ছবির জন্যই গান তৈরি করেছেন সৃজিত। ইন্দ্রদীপ নামী সঙ্গীত পরিচালক। পরবর্তীকালে ছবি পরিচালনায় এসে নজর কেড়ে নিয়েছেন। ‘গৃহপ্রবেশ’-এর পর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ‍্যায়, যিশু সেনগুপ্ত এবং শুভশ্রী গঙ্গোপাধ‍্যায় অভিনীত নতুন ছবি ‘অভিমান’ নিয়ে আসছেন সৃজিত। প্রথমবার একসঙ্গে বাংলা ছবি প্রযোজনা করলেন যিশু সেনগুপ্ত এবং সৌরভ দাস। সেই ছবিতে সৃজিতের তৈরি করা গানের নাম ‘আদর’। সৃজিতের গানের হেঁশেলে ঢুকে পড়ল TV9 বাংলা…

সঙ্গীত আর সিনেমা, কোনটা আপনার জীবনের প্রেম, আর কোনটা পরকীয়া?

সৃজিত: দু’ টোই পরকীয়া, আমার প্রেম তো ক্রিকেট।

সঙ্গীত পরিচালক হতে গেলে কি প্রথাগত শিক্ষার প্রয়োজন?

এটা কঠিন প্রশ্ন। আমি যেরকম প্রথাগতভাবে ছবি তৈরি করা শিখিনি। ফিল্ম স্কুলে যাইনি। তবে অপর্ণা সেন এবং অঞ্জন দত্তর সহযোগী পরিচালক হিসাবে কাজ করেছি। প্রচুর ছবি দেখেছি, প্রচুর পড়াশোনা করেছি ছবি নিয়ে। তাতে যতটা পেরেছি, জ্ঞান আহরণ করার পর নিজের গল্প বলা শুরু করেছি। একইভাবে সঙ্গীতিক পরিবেশ ছোটবেলা থেকেই আমাদের বাড়িতে ছিল। পিসি আরতি মুখোপাধ্যায় প্রায়শই আমাদের বাড়িতে আসতেন। বাবা সুধীন দাশগুপ্তর ছাত্র ছিলেন। মা কল্যাণী রায়ের কাছে সেতার শিখতেন। সঙ্গীতের পরিবেশ ছোট থেকেই আমাদের বাড়িতে ছিল। আমি নিজে ছোটবেলায় গান শিখেছি, হারমোনিয়াম শিখেছি, তবলা শিখেছি, হাওয়াইয়ান গিটার বাজানো শিখেছি। নিয়মিত হারমোনিকা বাজাই। তারপর পরিচালক হিসাবে সঙ্গীত পরিচালকদের সঙ্গে যেমন আমার ছবির বিভিন্ন গান নিয়ে আলোচনা করেছি, গান বেছে নিয়েছি, কিছু গানে সুর বা কথার ক্ষেত্রে কনট্রিবিউট করেছি, একই সঙ্গে আমি তাঁদের সহযোগী হিসাবে কাজ করেছি। সঙ্গীতায়োজন নিয়ে শিক্ষালাভ করেছি তাঁদের থেকে। এটা কে কি প্রথাগত শিক্ষা বলা চলে? জানি না। তবে এই যাপন ছিল। কবীর সুমনের কথায়, বরাবরই নড়ছে চড়ছে মাথার মধ্যে কিছু সুর, সেটারই এখন বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।

গান লেখার সময়ে কীভাবে নিজের প্রেম বা ব্রেকআপের কথা মাথার মধ্যে আসে?

সৃজিত: গান লেখা, গানের কথা লেখা, সিনেমা লেখা বা চিত্রনাট্য় লেখা শুধু নয়, যে কোনও সৃষ্টিশীল কাজের ক্ষেত্রেই নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার একটা সিংহভাগ তো চলে আসেই। সেটা অস্বীকার করা যায় না। সেই রসদ জীবনই জোগায়। সেই রসদ থেকেই সব কিছু হয়। কিছুটা কল্পনা, বাকিটা ঘটে যাওয়া বাস্তব।

প্রেম, বিরহ নাকি বিপ্লবের গান, কোনটা আপনি বেশি ভালো তৈরি করতে পারবেন বলে মনে হয়?

সৃজিত: দার্শনিক স্তরে আমার মনে হয় না, প্রেম আর বিপ্লবের গানের মধ্যে কোনও ফারাক আছে। তবে যদি সংকীর্ণভাবে দেখি, দু’টো আলাদা ধারার গান। আমি দু’ টো ধারাতেই স্বচ্ছন্দ বলে মনে হয়।

কোন-কোন ছবিতে আপনার তৈরি করা গান থাকছে?

‘অভিমান’-এর পর আমার নিজের ছবি ‘এম্পারার ভার্সেস শরত্‍চন্দ্র’-তে দু’ টি গান আছে। পরিচালক সুমন ঘোষের নতুন একটা ছবি ‘শ্রীরামপুর ডায়েরিজ’-এর জন্য তিনটে গান তৈরি করার কথা রয়েছে।

আপনার ছবিতে প্রসেনজিত্‍ চট্টোপাধ্যায়ের উপর সেরা গান কোনটা? যিশু সেনগুপ্তর উপর সেরা গান কোনটা?

সৃজিত: মনে হয় আমার ছবিতে বুম্বাদার উপর সেরা গান ‘গভীরে যাও’। আর যীশুর উপর সেরা গান ‘এ তুমি কেমন তুমি’।

ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর সেরা গান কোনটা বলে মনে হয়?

সৃজিত: ‘তোমাকে ছুঁয়ে গেলাম’ আর ‘জানি দেখা হবে’।

আপনার সঙ্গীত-যাপন কেমন? নতুন প্রজন্মকে নিয়ে সঙ্গীত চর্চার রাস্তায় আগামী দিনে কীভাবে হাঁটতে চান?

সৃজিত: সপ্তাহে দু’ তিনদিন জ্যামিং করছি। নানা ধারার গান শোনা, নানা দেশের গান শোনা, মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন অক্ষুণ্ণ রাখা আর লং প্লেয়িং রেকর্ডের কালেকশন তৈরি করাই আমার এই মুহূর্তের সঙ্গীত-যাপন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *