যত্রতত্র গাড়ি রাখার সমস্যা মিটবে কবে? যানজটে জেরবার শিলিগুড়ি - 24 Ghanta Bangla News
Home

যত্রতত্র গাড়ি রাখার সমস্যা মিটবে কবে? যানজটে জেরবার শিলিগুড়ি

Spread the love

মিঠুন ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি

শিলিগুড়ির সফদার হাসমি চকের (ভেনাস মোড়) দিক থেকে একটি গাড়ি এসে দাঁড়াল বিধান মার্কেটে ঢোকার মুখে। বিধান রোডের উপরে গাড়িটি আধঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখে আনাজ কিনলেন চালক। পথচলতি মানুষের অসুবিধা হলেও ওই অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কাউকে কোনও পদক্ষেপ করতে দেখা গেল না।

এমন দৃশ্য শিলিগুড়িতে নতুন নয়। শিলিগুড়ি জংশনে গেলেই দেখা যাবে সকাল-সন্ধে একটি পেট্রোল পাম্পের আশপাশে হিলকার্ট রোডের উপরে দূরপাল্লার বাস দাঁড়িয়ে থাকে। যাত্রী থেকে পণ্য, রাস্তা আটকেই চলে ওঠানামা। হিলকার্ট রোড, সেবক রোড, বিধান রোড তো বটেই, ক্ষুদিরামপল্লি, নিবেদিতা মার্কেট, বিধান মার্কেট, মহাবীরস্থান, টিকিয়াপাড়া বাজার, তিনবাত্তি বাজারেও অবৈধ পার্কিংয়ের ছবি নিত্যদিনের বিষয়। অভিযোগ, মূলত ব্যবসায়ীরাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিজেদের দোকানের সামনে দু’চাকা, চার চাকার যান দাঁড় করিয়ে রাখেন। এসবের কারণে যানজটের সৃষ্টি হলেও কারও কোনও হেলদোল নেই।

শুধু তাই নয়, পানিট্যাঙ্কি মোড় সংলগ্ন নীলনলিনী বিদ্যাপীঠের উল্টোদিকের রাস্তা, থানা মোড় থেকে গেট বাজার পর্যন্ত শ্রীমা সরণি, প্রধাননগরের নিবেদিতা রোড, শক্তিগড়, বাঘাযতীন, কলোনি, ডাবগ্রাম, চম্পাসারি, কলেজপাড়া-সহ প্রায় গোটা শহরেই অবৈধ ভাবে রাস্তার উপরে যানবাহন রেখে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে শহরবাসীর একাংশের। তবে শহরে সুষ্ঠু পার্কিং ব্যবস্থা না-থাকায় বাধ্য হয়েই রাস্তার উপরে গাড়ি রাখতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। শহরের বাসিন্দা সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে কেনাকাটা করতে হলে রাস্তায় বাহন রাখতেই হয়। যে হেতু শহরে পার্কিংয়ের সে রকম কোনও ব্যবস্থা নেই, তাই আমরা নিরূপায়। তবে অনেকে রাস্তা আটকে বা প্রায় মাঝরাস্তায় যানবাহন রেখে দেন। এটা একেবারেই উচিত নয়।’ শিক্ষিকা প্রতিমা মিত্র মনে করেন, ‘কেউ এ ভাবে যানবাহন রাখলে সঙ্গে সঙ্গে জরিমানা করা উচিত।’

সঙ্গে সঙ্গে জরিমানা করতে গেলে প্রশাসনের লাগাতার নজরদারি প্রয়োজন। সেই ধরনের নজরদারি নেই বলেই বাহন চালকরা অনায়াসে অবৈধ ভাবে পার্কিং করে চলেছেন বলে অভিযোগ শহরবাসীর একাংশের। পুরসভার তরফে একাধিকবার ‘ঢাকঢোল পিটিয়ে’ পদক্ষেপের কথা বলা হলেও আদতে পার্কিং-সমস্যা সমাধানে কোনও কাজই হয়নি বলে অভিযোগ। এ নিয়ে পূর্বতন সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা এসব নিয়ে একেবারেই ভাবেননি।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমার সঙ্গে পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের কথা হয়েছে। বেআইনি পার্কিং ব্যবস্থা বন্ধ করতে যা যা করার প্রশাসন সেটাই করবে।’

শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (ট্র্যাফিক) কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জংশনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলিকে আমরা তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাসের ভিতর থেকে চালাতে চাইছি। এ ছাড়া যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানো দেখলেই সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *