বেডরুমে সঙ্গী মোবাইল! শেষ হয়ে যাচ্ছে না তো সেক্স লাইফ?
সম্পর্কে ভিলেন এখন স্মার্টফোন। দিনশেষে ক্লান্তি কাটাতে দু’জন মানুষ একই বিছানায় শুয়ে আছেন। মুখে হয়তো ‘ভালোবাসি’ বলছেনও। কিন্তু হাত ব্যস্ত স্ক্রোল করতে। বেডরুমে এই অতিরিক্ত মোবাইলের ব্যবহার নষ্ট করছে যৌন জীবন। সম্পর্কে মানসিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে শুধু স্ক্রোলিংয়ের জেরে।
উপস্থিত থেকেও আপনি অনুপস্থিত
মোবাইল শোওয়া ঘরে পুরো বাইরের দুনিয়াটাকে টেনে আনে। অফিসের মেল, বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাট কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন— ভার্চুয়াল দুনিয়াতে ব্যস্ত প্রত্যেকে। ফলে একই বিছানায় পাশাপাশি শুয়েও দম্পতিরা কেউ কারও সঙ্গে থাকেন না। একে অন্যের উপস্থিতিটাই আর টের পান না। সারাক্ষণ মাথায় ঘোরে— ‘কে মেসেজ করল?’ বা ‘আজকের ব্রেকিং নিউজ় কী?’
হারিয়ে যাচ্ছে সম্পর্কের ‘খালি সময়’

সম্পর্কের জন্য কিছু ‘খালি সময়’ বা নিভৃত মুহূর্তের খুব প্রয়োজন। যেখানে কোনও কথা হবে না, শুধু থাকবে নীরবতা, কল্পনা আর একে অন্যকে অনুভব করা। মোবাইল এখন সেই ফাঁকা সময়টুকুকেও গিলে খাচ্ছে। যখন প্রতিটা মুহূর্ত স্ক্রিন দিয়ে ভরাট হয়ে যায়, তখন সম্পর্কের মানসিক ও যৌন ইচ্ছাগুলোর বিকাশ হওয়ার আর কোনও জায়গাই থাকে না।
চ্যাটবটের আরাম, সম্পর্কের দূরত্ব

আজকের দিনে এআই (AI) বা চ্যাটবটও সম্পর্কের ক্ষতি করছে। অফিসে বসের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে? আপনি চ্যাটবটকে বললেন। সে সঙ্গে সঙ্গে লিখল, ‘ওহ! আপনার জন্য খুব খারাপ লাগছে।’ বিশেষজ্ঞের মতে, এই সস্তা সহানুভূতি আমাদের বাস্তবের মুখোমুখি হতে দেয় না। সঙ্গীর সঙ্গে কঠিন বা অপ্রিয় কথা বলার সাহসটাই আমরা হারিয়ে ফেলছি।
স্মার্টফোন দেয় ইনস্ট্যান্ট খুশি, যৌনতা চায় ধৈর্য

মোবাইল আমাদের এক অদ্ভুত নেশা ধরায়। একটা লাইক বা একটা মেসেজ আমাদের মূহূর্তের মধ্যে আনন্দ দেয়। একে বলে ‘ইনস্ট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশন’। কিন্তু ভালো যৌন জীবন বা সুস্থ সম্পর্কের সমীকরণটা একদম উল্টো। এর জন্য প্রয়োজন গভীর মনোযোগ, ধৈর্য, কল্পনা এবং একে অন্যকে সময় দেওয়া। যৌন ইচ্ছা এক সেকেন্ডে তৈরি হয় না। এটি তৈরি হয় চোখের চাহনি আর অপেক্ষার ম্যাজিকে। স্ক্রিনের চক্করে সেই ম্যাজিকটাই উধাও হয়ে যাচ্ছে।
থেরাপিস্টের চেম্বারের বাস্তব ছবি

সেক্স থেরাপিস্টরা জানাচ্ছেন, অনেক দম্পতি তাঁদের কাছে আসেন শুধু এই অভিযোগ নিয়ে যে, তাঁদের সম্পর্কে আর কোনও স্পার্ক নেই। অথচ তাঁরা একে অন্যকে ভালোবাসেন। টানও আছে। নেই যৌন মিলনের ইচ্ছে। থেরাপির সময় তাঁদের যখন স্রেফ ১০ মিনিট একে অন্যকে স্পর্শ করে অনুভব করতে বলা হয়, সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্মার্টফোন। মোবাইল সাইলেন্ট থাকলেও মন পড়ে থাকে নোটিফিকেশনে।
তা হলে উপায় কী?

ডিজিটাল দুনিয়া থেকে একেবারে সন্ন্যাস নেওয়ার দরকার নেই। তবে কিছু নিয়ম তো বানাতেই হবে।
-
নো-ফোন জ়োন: বেডরুমে বা বিছানায় মোবাইল থাকবে না। স্মার্টফোন থাকবে বিছানা থেকে দূরে, সাইলেন্ট মোডে। এ ছাড়া ডিজিটাল ডিটক্স বরাবরই সম্পর্ককে উন্নত করতে সাহায্য করে।
-
এক রাতের পরীক্ষা: যদি এক পার্টনার বদল চান আর অন্যজন মোবাইল ছাড়তে না চান, তবে টেকনিক্যাল নিয়ম খাটিয়ে লাভ নেই। দু’জনে কথা বলুন। সপ্তাহে অন্তত একটা রাত ‘নো-ফোন নাইট’ হিসেবে কাটিয়ে দেখুন। তফাতটা নিজেই বুঝতে পারবেন।