প্রতি ম্যাচে ২০০-র বেশি রান, ফাইনালের আগে বড় মন্তব্য IPL কর্তার
আইপিএলে ২০০ রানের স্কোর না হওয়াটা এখন বিস্ময়ের বিষয়। কোনও দল ২০০-এর গন্ডি ছুঁতে না পারলে সেই ইনিংসকেই লো স্কোরিং বলা হচ্ছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের এই আমূল পরিবর্তনের সাক্ষী হচ্ছে আইপিএল। তবে ব্যাটিংয়ে রান আসার সঙ্গে বোলারদের উপর চাপ বাড়ছে। যত বেশি রান করবেন ব্যাটাররা বোলারদের উপর চাপটা বেশি বাড়বে। সেটাই বললেন IPL-এর চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল। তিনি জানালেন, ব্যাটিংয়ে যেই দ্রুত বিবর্তন ঘটেছে, বোলিংয়ে সেই পরিবর্তন এখনও দেখা যায়নি।
চলতি মরশুমে ব্যাটারদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। মাত্র ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী ইতিমধ্যেই আইপিএল ২০২৬-এর সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান করেছে সে, গড় ৪৮.৫০। একটি শতরান ও পাঁচটি অর্ধশতরানের পাশাপাশি তার স্ট্রাইক রেট ২৩৭। আরও বিস্ময়কর বিষয়, এই মরশুমে সে ৭২টি ছক্কা মেরেছে, যা আইপিএলের এক মরশুমে সর্বাধিক। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ক্রিস গেইলের দখলে, যিনি এক মরশুমে ৬০টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন।
শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই নয়, দলগত ক্ষেত্রেও ব্যাটারদের আধিপত্য স্পষ্ট। চলতি মরশুমে ২০০-র বেশি রানের লক্ষ্য ১৭ বার সফলভাবে তাড়া করা হয়েছে। ফলে এখন কোনও স্কোরই নিরাপদ বলে মনে করা যাচ্ছে না। শুক্রবারের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেই তার প্রমাণ মিলেছে, যখন গুজরাট টাইটান্স অনায়াসে ২১৫ রান তাড়া করে আইপিএল প্লে-অফ ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়ার নজির গড়ে।
প্রশ্ন উঠছে, এই ক্রমবর্ধমান রানের বন্যা রুখতে কি ব্যাটারদের উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ আনা প্রয়োজন? তবে সেটির সঙ্গে একমত নন অরুণ সিং ধুমাল। তাঁর মতে, ব্যাটিং যেমন বদলেছে, তেমনই সময়ের সঙ্গে বোলারদেরও নিজেদের খেলার ধরন পরিবর্তন করতে হবে।
রেভস্পোর্টজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধুমাল বলেন, ‘ব্যাটারদের মতো বোলিংয়েও নতুন ধরনের বিবর্তন প্রয়োজন। যারা ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনা মেনে ইয়র্কার, বাউন্সার ও বিভিন্ন ভ্যারিয়েশন প্রয়োগ করতে পারবেন, তাঁরা এখন ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারবেন।’
উঠতি পেসার প্রিন্স যাদব ও সাকিব হুসেনের উদাহরণ টেনে ধুমাল জানান, এই দুই বোলার প্রমাণ করেছেন যে সঠিক পরিকল্পনা থাকলে রান আটকানো এখনও সম্ভব। তাঁর কথায়, ‘ভবিষ্যতে বোলারদের আরও সচেতনভাবে ব্যাটারভেদে লাইন ও লেংথ নির্ধারণ করতে হবে।’
ধুমালের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, আইপিএলের উইকেট ভবিষ্যতেও ব্যাটারদের সহায়ক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে তিনি মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তি বোলারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
আইপিএল চেয়ারম্যানের মতে, ‘বর্তমানে প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করা আগের চেয়ে অনেক সহজ। প্রয়োজন শুধু সময়, সঠিক বোঝাপড়া এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনার বাস্তব প্রয়োগ।’
ব্যাট ও বলের এই লড়াইয়ে আপাতত ব্যাটাররাই এগিয়ে থাকলেও, ধুমালের বিশ্বাস প্রযুক্তি ও কৌশলের সঠিক ব্যবহার করলে বোলাররাও শিগগিরই নিজেদের হারানো জমি ফিরে পেতে পারবেন।