তোলাবাজি, মারধরের অভিযোগ, কাঠগড়ায় একঝাঁক তৃণমূল নেতা
এই সময়, দুর্গাপুর: গত ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতেই দুর্গাপুরের একাধিক তাবড় তৃণমূল নেতা ও নেত্রী গা–ঢাকা দিয়েছিলেন। যাঁরা এলাকায় ফিরে এসেছেন, তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যেই পুলিশের খাঁচায়। ধৃতদের কেউ রয়েছেন পুলিশ হেফাজতে, কেউ আবার শ্রীঘরে। এই পরিস্থিতির মাঝেই এ বার নতুন করে আরও কয়েকজন তৃণমূল নেতা–নেত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা–কর্মী তথা স্থানীয় আক্রান্তরা।
দুর্গাপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজু পাসোয়ান, নাদিম হাশমি ওরফে পিরু, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শেখর ডোম–সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বুধবার রাতে দুর্গাপুর থানার অধীন বি-জ়োন ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগেই কাউন্সিলার ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বামী সৌগতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতি, সৌগত, শেখর ও পিরু— এদের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মী–সহ এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের মারধর এবং তোলাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এমনকী সরকারি আবাসন জোরপূর্বক দখল করে বহিরাগতদের ভাড়া দিয়ে মোটা টাকা আদায় করারও অভিযোগ উঠেছে এদের বিরুদ্ধে।
এরই পাশাপাশি, ২০২১ সালে রাজ্যে শাসকদল ক্ষমতায় আসার পরে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুতপা গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রচণ্ড মারধর করেছিল তৃণমূল কর্মীরা। গুরুতর জখম হয়ে বেশ কয়েকদিন হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন তিনি। বুধবার রাতে ধৃতি ও পিরু–সহ একাধিক তৃণমূল নেতা–নেত্রীর বিরুদ্ধে থানায় নতুন করে মামলা রুজু করেন সেই আক্রান্ত সুতপা। এ ছাড়াও তৃণমূল নেতা রমাপ্রসাদ হালদার, রিন্টু পাঁজা–সহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশি তৎপরতা বাড়তেই অভিযুক্ত প্রত্যেকেই বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।