Iran-US Deal: ইরান-আমেরিকার চুক্তি চূড়ান্ত! তারপরেও অনুমোদন দিচ্ছেন না ট্রাম্প! | Iran US Conflict: What Is Inside The Proposed Peace Deal And 60 Day Ceasefire
ওয়াশিংটন: ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ (Iran-America Conflict) কি থামবে? লাখ টাকার প্রশ্ন বটে। দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি (Iran-America Peace Deal) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা চলছে। তার উপর চুক্তি নিয়ে আলোচনার মাঝেই দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে শান্তি চুক্তি আদৌ কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মহলের কূটনীতিকরা। তবে, এখনও পর্যন্ত যা শোনা যাচ্ছে দুই দেশ নাকি একটা সমঝোতায় পৌঁছেছে। যদিও এখন ট্রাম্পের অনুমোদন মেলেনি বলে খবর।
ইরান-আমেরিকার সমঝোতা
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে ভেঙে যাওয়া যুদ্ধবিরতি আরও বাড়ানো হবে। ৬০ দিন অর্থাৎ দুই মাসের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে আমেরিকা ও ইরান। দুই দেশের মধ্যে একটি মউ সাক্ষর হবে। একইসঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে। তবে এই সমঝোতায় এখনও ট্রাম্পের সিলমোহর পড়েনি। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর চুক্তিতে এখনও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন মেলেনি। প্রেসিডেন্ট কবে বা আদৌ এই MoU-তে সই করবেন কি না,এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। ভাষা নিয়ে এখনও কিছু বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।”
অন্যদিকে, ইরানের এক সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, এখনও চুক্তি পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। তবে, তাঁরা এই চুক্তিতে রাজি। সূত্রের খবর, চুক্তি হলে পাকিস্তানকেও তা জানানো হবে। তবে, ইরানের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে তেহরানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া কোনও চুক্তিকেই চূড়ান্ত বলে ধরা হবে না।
আমেরিকা-ইরানের চুক্তিতে কী কী রয়েছে?
হরমুজ প্রণালী নিয়ে সিদ্ধান্ত
Axios-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনও বাধা, টোল থাকবে না। কোনওরকম হয়রানি করা হবে না। ইরান ৩০ দিনের মধ্যে সমুদ্রের সমস্ত মাইন সরিয়ে ফেলবে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে আমেরিকাও তাঁদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি
চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে,ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই দেশ আলোচনায় বসবে। পাশাপাশি, পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটা যাবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিতে হবে ইরানকে। Axios ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬০ দিনের সময়কালে প্রথমেই ইরানের প্রায় ৯৭০ পাউন্ড ইউরেনিয়াম মজুত কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের নিয়ম কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা
আমেরিকা ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। যদিও নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, লিখিত খসড়া ও মৌখিক সমঝোতার মধ্যে ফারাক থাকতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশি ব্যাঙ্কে ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার আটকে রয়েছে। তেহরান সেই অর্থের মধ্যে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যবহারের অনুমতি চাইছে।
লেবাননের যুদ্ধ
চুক্তিতে ইজ়রায়েল ও লেবাননে হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়েও আলোচনা হবে। এই ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে অন্তত একবার উত্তপ্ত বাক্য-বিনিময় হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সম্প্রতি, হিজবুল্লার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে ইজ়রায়েল।
ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল ইরানের জন্য একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের প্রস্তাব। নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তি হলে আমেরিকা ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল তৈরিতে সম্মত হতে পারে। মার্কিন কূটনীতিকদের দাবি, এটি একটি আন্তর্জাতিক “ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড” হিসেবে কাজ করবে, যা চূড়ান্ত চুক্তির পরে কার্যকর হতে পারে। এই ফান্ড নিয়ে আরও বিশদে আলোচনা হবে।