শতরান হাতছাড়া, তবু আইপিএলে দ্রুততম ১০০০ রানের রেকর্ড বৈভবের
গুজরাতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ইনিংস খেলেও শতরান পেলেন না বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi)। তবে মাত্র ৪৪০ বলে আইপিএলে দ্রুততম ১০০০ রান করে গড়লেন ইতিহাস।
মুল্লানপুরে রানবন্যার ম্যাচের পরের দিন শেষ পর্যন্ত গুজরাত টাইটান্সের চাপে ভেঙে পড়ল রাজস্থান রয়্যালস। শুরুটা দারুণ হলেও মাঝের ওভারগুলিতে নিয়মিত উইকেট হারিয়ে মনে হচ্ছিল বড় স্কোর গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করল তারা। তবে সব আলো কেড়ে নিলেন বৈভব সূর্যবংশী। তরুণ ওপেনারের বিস্ফোরক ইনিংসেই আইপিএলে নতুন ইতিহাস তৈরি হল। রাজস্থানের ইনিংসের শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক মেজাজ।
কিন্তু বড় ধাক্কা আসে যশস্বী জয়সওয়ালের উইকেটে। শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে টাইমিং ঠিক করতে পারেননি তিনি। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগ থেকে দৌড়ে এসে সহজ ক্যাচ নেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরে গুজরাত।এরপর আরও চাপে পড়ে রাজস্থান। কাগিসো রাবাডার গতির সামনে টিকতে পারলেন না ধ্রুব জুরেল। শট খেলতে গিয়ে ব্যাট হাত থেকে ছিটকে যায়, বল উঠে যায় মিড-অফে দাঁড়িয়ে থাকা শুভমন গিলের হাতে। কয়েক ওভারের মধ্যেই দুই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় রয়্যালস।
এদিকে দুরন্ত বোলিং করতে গিয়ে ডান কাঁধে চোট পান মহম্মদ সিরাজ। ফিজিয়ো মাঠে এসে চিকিৎসা করার পর কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। তবে গুজরাত শিবিরের স্বস্তি, পরে আবার বল হাতে ফিরে আসেন সিরাজ। একদিকে উইকেট পড়লেও অন্যদিকে পাল্টা লড়াই চালিয়ে যান রবীন্দ্র জাডেজা। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর এক ওভারে শর্ট বলের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে একটি ছক্কা ও দুইটি চার হাঁকান তিনি। সেই ওভার থেকে ওঠে ১৬ রান। পরে অবসরপ্রাপ্ত আহত হিসেবে মাঠ ছাড়েন জাডেজা। তার জায়গায় নেমে রিয়ান পরাগ শুরু থেকেই ঝড় তোলেন। রশিদ খানের বিরুদ্ধে একটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি। একই ওভারে বড় শট মারেন বৈভব সূর্যবংশীও। রশিদের জন্য ওভারটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।
বৈভব অবশ্য একবার বড় জীবনদানও পান। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর বলে ডিপ স্কোয়ার লেগ থেকে দৌড়ে এসে সহজ ক্যাচ ফেলেন সাই সুদর্শন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন বৈভব। অতিরিক্ত কভারের উপর দিয়ে চার মেরে আইপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম এক হাজার রান পূর্ণ করেন তিনি। মাত্র ৪৪০ বলে এই নজির গড়ে ভেঙে দেন আন্দ্রে রাসেলের ৫৪৫ বলের পুরনো রেকর্ড। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে শতরান আবারও হাতছাড়া হয় বৈভবের। কাগিসো রাবাডার বলে থার্ড ম্যান অঞ্চলে ক্যাচ তুলে ফেরেন তিনি। শতরান থেকে অল্প দূরে থামলেও তার বিধ্বংসী ইনিংস রাজস্থানকে লড়াইয়ের জায়গায় পৌঁছে দেয়।
শেষদিকে জেসন হোল্ডারও গুরুত্বপূর্ণ আঘাত দেন। বাড়তি বাউন্সে দাসুন শানাকার ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। শেষ ওভারে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ১১ রান দিলেও রাজস্থান প্রত্যাশিত বিশাল স্কোরে পৌঁছতে পারেনি। তবু বৈভব সূর্যবংশীর ঝোড়ো ইনিংস দীর্ঘদিন মনে রাখবে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে শেষ ওভারে রাশিদের বলে ২৭ রান নিয়ে সাউথ আফ্রিকান ব্যাটার ডোনাভান ফেরেরা সূর্যবংশীর অভাব পড়তে দিলো না রাজস্থানের ইনিংসে। কুড়ি ওভারে তারা তুলল ২১৪ রান এখন দেখার গুজরাট নিজের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রান চেজ সফলতার সঙ্গে করতে পারবে কি না ?