টানা ব্যর্থতার পর অধিনায়কত্ব ছাড়লেন ঋষভ, নতুন নেতা খুঁজছে লখনউ
দুই মরশুমের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর লখনউ সুপার জায়ান্টসের নেতৃত্ব ছাড়লেন Rishabh Pant। এবার নতুন অধিনায়ক বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি ফ্র্যাঞ্চাইজির।
আরও একবার হতাশার মরশুম কাটাল লখনউ সুপার জায়ান্টস। আইপিএলের এবারের আসরে শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল দলটি। ব্যাটিং-বোলিং কোনও বিভাগেই ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। তার উপর অধিনায়ক ঋষভ পন্থের (Rishabh Pant) অফ-ফর্ম এবং একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত দলকে আরও চাপে ফেলে। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকার একেবারে নীচের দিকে থেকেই মরশুম শেষ করতে হয়েছে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। এই ব্যর্থতার আবহেই অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ঋষভ পন্থ।
শুক্রবার এক সরকারি বিবৃতিতে লখনউ সুপার জায়ান্টস জানায়, পন্থ নিজেই নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজিও তাঁর সেই অনুরোধ গ্রহণ করেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পন্থের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েই তাঁকে অধিনায়কত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের মেগা নিলামে ২৭ কোটি টাকায় পন্থকে দলে নিয়েছিল লখনউ। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হিসেবে তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশাও ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু সেই প্রত্যাশার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেননি ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার। টানা দুই মরশুমে তাঁর নেতৃত্বে প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে দল। পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই বছরে ২৮টি ম্যাচে অধিনায়ক হিসেবে মাত্র ১০টিতে জয় এসেছে পন্থের নেতৃত্বে।
এবারের মরশুমে লখনউয়ের পারফরম্যান্স ছিল আরও হতাশাজনক। ১৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র চারটিতে জয় পেয়েছে দল। ব্যাট হাতে পন্থও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। এবারের আসরে তাঁর সংগ্রহ ৩১২ রান। আগের মরশুমে করেছিলেন ২৬৯ রান। অথচ দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ২০২৪ সালে দুরন্ত ছন্দে ছিলেন তিনি। সেই বছর ১৩ ম্যাচে ৪৪৬ রান করে নজর কেড়েছিলেন। কিন্তু লখনউয়ের জার্সিতে সেই ধার আর দেখা যায়নি।
দুই মরশুম মিলিয়ে এলএসজির হয়ে পন্থের মোট রান ৫৮১। গড় মাত্র ২৬-এর কিছু বেশি। স্ট্রাইক রেটও প্রত্যাশামতো নয়। একটি শতরান এবং মাত্র দু’টি অর্ধশতরানই তাঁর সাফল্যের ঝুলিতে রয়েছে। ফলে দলের ব্যর্থতার পাশাপাশি নিজের ফর্ম নিয়েও যে তিনি মানসিকভাবে চাপে ছিলেন, তা স্পষ্ট।
দলের কোচ টম মুডি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। তবে পন্থ নিজে থেকেই নেতৃত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন। ড্রেসিংরুমে তাঁর অবদানকে সম্মান জানিয়েই সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আগামী মরশুমের আগে দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলাই এখন ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান লক্ষ্য।
এখন প্রশ্ন, লখনউয়ের পরবর্তী অধিনায়ক কে হবেন? সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন মিচেল মার্শ, এডেন মার্করাম এবং নিকোলাস পুরান। তিনজনেরই আন্তর্জাতিক স্তরে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে তাঁদের মধ্য থেকেই কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন অধিনায়কের হাত ধরে আগামী মরশুমে লখনউ ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।