জ্বালানি সঙ্কটে বড় ধাক্কা, জুন থেকে প্রতিদিন ২৫০ ফ্লাইট বাতিল - 24 Ghanta Bangla News
Home

জ্বালানি সঙ্কটে বড় ধাক্কা, জুন থেকে প্রতিদিন ২৫০ ফ্লাইট বাতিল

Spread the love

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান (Air india) অস্থিরতার প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতের বিমান পরিষেবায়। জ্বালানি সংকট এবং বিমান জ্বালানির (ATF) মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের দুই বৃহৎ বিমান সংস্থা …

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান (Air india) অস্থিরতার প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতের বিমান পরিষেবায়। জ্বালানি সংকট এবং বিমান জ্বালানির (ATF) মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের দুই বৃহৎ বিমান সংস্থা ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া আগামী জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ উড়ানের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন অন্তত ২৫০টি ঘরোয়া ফ্লাইট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশের বিমান যাত্রীদের জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগ ডেকে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিমান সংস্থাগুলির(Air india) সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিমান জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারতে বিমান জ্বালানির অন্যতম প্রধান উপাদান অটোমেটিক ট্রান্সমিশন ফ্লুইড (ATF)-এর দাম অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকাতায় বর্তমানে প্রতি কিলোলিটার ATF-এর দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,০৯,৪৫০ টাকা, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। আগে এই দাম ছিল প্রায় ৭৫,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকার মধ্যে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভ্যাট এবং অন্যান্য কর, যার ফলে সামগ্রিক খরচ আরও বেড়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাগুলির (Air india) পক্ষে আগের মতো সব রুটে একই সংখ্যক ফ্লাইট চালানো আর অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক থাকছে না। ফলে ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া উভয়ই উড়ানের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তারা তাদের অভ্যন্তরীণ উড়ান পরিষেবা প্রায় ২০ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমাবে। বর্তমানে সংস্থাটি দিনে প্রায় ৫০০টি উড়ান পরিচালনা করে। সেই হিসেবে প্রায় ১০০ থেকে ১১০টি ফ্লাইট কম চালানো হতে পারে।

অন্যদিকে, ইন্ডিগো, যা দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিমান সংস্থা হিসেবে পরিচিত এবং প্রতিদিন প্রায় ২২০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে, তারাও ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত উড়ান কমানোর পরিকল্পনা করছে। এর ফলে আরও প্রায় ১১০টির মতো ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে দুই সংস্থার সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০টি ঘরোয়া ফ্লাইট কমে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে দেশের বড় শহরগুলির যাত্রীদের উপর, বিশেষ করে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের মতো ব্যস্ত রুটগুলিতে। নিয়মিত যাত্রীরা আগাম টিকিট বুক করলেও শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তনের সমস্যার মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিমান ভাড়াও কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ ফ্লাইট কমে গেলে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যে চাপ পড়বে।

বিমান সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরোপুরি কোনও রুট বন্ধ করা হচ্ছে না। বরং কম লাভজনক বা কম যাত্রীযুক্ত রুটে ফ্লাইট সংখ্যা সাময়িকভাবে কমানো হবে। চাহিদা এবং জ্বালানির বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার পরিষেবা আগের মতো বাড়ানো হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

পর্যটন ও ব্যবসায়িক খাতেও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মরশুমে ফ্লাইট কমে গেলে টিকিটের দাম বৃদ্ধি এবং বুকিং সমস্যার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে। ট্রাভেল এজেন্সিগুলির মতে, শেষ মুহূর্তে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

 

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *