ট্যাংরার তৃণমূল পার্টি অফিসে উদ্ধার আধার ও ভোটার কার্ডের স্তূপ
কলকাতার ট্যাংরা (Tangra office) এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং রেশন কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। (Tangra office) অভিযোগ …
কলকাতার ট্যাংরা (Tangra office) এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং রেশন কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। (Tangra office) অভিযোগ উঠেছে, কলকাতা পুরসভার ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি দলীয় কার্যালয়ের আলমারির ভিতরে এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র মজুত করে রাখা হয়েছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক ও চাপানউতোর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই পার্টি অফিসের একটি বন্ধ আলমারি (Tangra office) খুলতেই বেরিয়ে আসে প্রায় ৩০০টি বিভিন্ন ধরনের পরিচয়পত্র। উদ্ধার হওয়া নথিগুলির মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং রেশন কার্ড। এত বিপুল সংখ্যক সরকারি পরিচয়পত্র একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে কীভাবে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় মানুষজন। অভিযোগ উঠেছে, ভোটারদের ভোটদান থেকে বঞ্চিত করতেই এই কার্ডগুলি আটকে রাখা হয়েছিল।
ঘটনার পর (Tangra office) থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল, আর এবার সেই অভিযোগেরই প্রমাণ সামনে এসেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ নথি একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে মজুত থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই ওই তৃণমূল কার্যালয়ে আর কোনও দলীয় কর্মী বা নেতাকে দেখা যায়নি। এরপর ধীরে ধীরে কার্যালয়টি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। সেই সুযোগেই এলাকার কিছু বাসিন্দা এবং বিজেপি কর্মীরা দলীয় অফিসে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। পরে ঘরের রং পরিবর্তন করে গেরুয়া রং করা হয় বলেও স্থানীয়দের দাবি।
এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, ঘরের ভিতরে থাকা একটি আলমারি খোলার পরই সামনে আসে রাশি রাশি পরিচয়পত্র। এত সংখ্যক আধার ও ভোটার কার্ড দেখে অনেকেই হতবাক হয়ে যান। কেউ কেউ দাবি করেন, তাঁদের নিজের বা পরিবারের সদস্যদের কার্ডও সেই স্তূপের মধ্যে পাওয়া গিয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে এই ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ঘটনাটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কীভাবে সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি একটি দলীয় কার্যালয়ে এল, কারা সেগুলি সেখানে রেখে গিয়েছিল এবং এর পিছনে কোনও সংগঠিত উদ্দেশ্য ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। অন্যদিকে বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে। বিজেপির অভিযোগ, ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতেই সাধারণ মানুষের পরিচয়পত্র নিজেদের দখলে রেখেছিল শাসকদল। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রশাসনিকভাবে যাচাই হয়নি।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন কারণে ভোটারদের পরিচয়পত্র দলীয় কর্মীদের কাছে জমা রাখা হয় বলে মাঝে মধ্যেই অভিযোগ ওঠে। তবে এত বিপুল সংখ্যক কার্ড একটি পার্টি অফিস থেকে উদ্ধারের ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন কৌতূহলী মানুষজন। অনেকেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের পরিচয়পত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। এই ঘটনায় যদি কোনও অনিয়ম বা বেআইনি কার্যকলাপ প্রমাণিত হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মত প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।