তিন লাখি মিয়াজাকি আম ফলিয়ে চুরির আতঙ্কে ওড়িশার কৃষক - 24 Ghanta Bangla News
Home

তিন লাখি মিয়াজাকি আম ফলিয়ে চুরির আতঙ্কে ওড়িশার কৃষক

Spread the love

জাপানের বিরল মিয়াজাকি আম ফলিয়ে বিপাকে পড়েছেন ওড়িশার কৃষক। বিক্রি অনিশ্চিত, চুরির ভয়ে গাছের পাশেই কাটছে রাত।

সংবাদদাতা, কটক: বাংলার প্রতিবেশি ওড়িশা রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামের এক কৃষকের বাগানে মিলল বিশ্বের অন্যতম দামী আম৷ কিন্তু বিক্রির পথই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা কৃষকের৷

ওড়িশার মালকানগিরি জেলার তামাসা গ্রামের কৃষক দেবা পাধিয়ামি আচমকা আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। কারণ, তিনি সফলভাবে চাষ করেছেন জাপানের বিখ্যাত ‘মিয়াজাকি’ আম। আন্তর্জাতিক বাজারে এই বিরল আমের দাম প্রতি কেজি প্রায় ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা যায়।

তবে, এত দামী ফল ফলিয়েও একটুকুও স্বস্তিতে নেই ওই কৃষক। বরং নতুন এক সমস্যায় পড়েছেন তিনি। কীভাবে এই আম বিক্রি করবেন, সেটাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। পাশাপাশি চুরির ভয়ও তাড়া করছে তাঁকে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, তিনি এখন গাছের পাশেই রাত কাটাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: PM Kisan ই-কেওয়াইসি না করলে বন্ধ হতে পারে কিস্তি, সম্পূর্ণ করুন অনলাইন প্রক্রিয়া

চার বছর আগের একটি চারাই বদলে দিল ভাগ্য

পিটিআই (PTI)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে এক সমাজকর্মীর কাছ থেকে মিয়াজাকি আমের চারাটি পেয়েছিলেন দেবা। তারপর দীর্ঘদিন ধরে যত্ন নিয়ে গাছটি বড় করেন৷
প্রতিকূল আবহাওয়া এবং চাষাবাদের নানা সমস্যার মধ্যেও গাছটিকে বাঁচিয়ে রাখেন এই কৃষক। অবশেষে তাঁর ধৈর্যের ফল মিলেছে। গাছে ধরেছে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান আম।

চুরির ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে কৃষকের

দুষ্প্রাপ্য এই আমকে ঘিরে এখন বাড়ছে উদ্বেগও। দেবা জানিয়েছেন, কেউ যাতে আম চুরি করতে না পারে, সেই কারণে তিনি দিন-রাত বাগানে নজর রাখছেন। পিটিআই-কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, এখন প্রায় প্রতিদিনই গাছের কাছেই ঘুমাচ্ছেন তিনি। কারণ, এত দামী ফলের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।

বিক্রি নিয়েও বড় অনিশ্চয়তা

মিয়াজাকি আম ফলালেও এই ফলের বাজার সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট ধারণা নেই দেবার। তিনি জানেন না, ঠিক কত দাম চাওয়া উচিত কিংবা কোথায় এই আম বিক্রি করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়াজাকি আম অত্যন্ত নাজুক প্রকৃতির। তাই এই ফল সংরক্ষণ, মোড়কীকরণ এবং পরিবহনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়। সাধারণত বিলাসবহুল ফলের দোকান, সংগ্রাহক, রপ্তানিকারক কিংবা অভিজাত হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোই এই আমের মূল ক্রেতা। এই পরিস্থিতিতে দেবা এখন সরকার এবং কৃষি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য ও পরামর্শ চাইছেন।

কেন এত বিশেষ ‘মিয়াজাকি’ আম?

ভারতের অধিকাংশ আম তাদের মিষ্টি স্বাদ এবং রসালো গুণের জন্য জনপ্রিয়। কিন্তু মিয়াজাকি আমের পরিচিতি একেবারেই আলাদা। এই আমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর গাঢ় লাল রঙ। পেকে গেলে আমগুলোকে প্রায় জ্বলন্ত লাল দেখায়। উজ্জ্বল রঙ এবং আকৃতির কারণে অনেকে এই আমকে ‘ডাইনোসরের ডিম’-এর সঙ্গেও তুলনা করেন।
জাপানে এই আমকে অত্যন্ত অভিজাত ফল হিসেবে ধরা হয়। বিলাসবহুল ফলের বাজার এবং নিলামে প্রায়ই দেখা যায় মিয়াজাকি আম।

ওজন ৩৫০ গ্রামের বেশি, চিনির পরিমাণ অন্তত ১৫ শতাংশ

মিয়াজাকি আম শুধু দামের কারণেই নয়, গুণগত মানের কারণেও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। প্রতিটি আমের ওজন সাধারণত ৩৫০ গ্রামেরও বেশি হয়। এছাড়া এতে চিনির পরিমাণ অন্তত ১৫ শতাংশ থাকে, যা এই আমকে অত্যন্ত মিষ্টি করে তোলে।

জাপানে বাজারে বিক্রির আগে এই আম কঠোর মান যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়। শুধুমাত্র রঙ, মিষ্টতা এবং বাহ্যিক গুণে নিখুঁত ফলগুলোকেই বিশেষভাবে “সূর্যের ডিম” বা “Eggs of the Sun” উপাধি দেওয়া হয়।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *